সংসদের সাউন্ড সিস্টেম কেনায় অনিয়ম অনুসন্ধানে দুদক

ফন্ট সাইজ:

জাতীয় সংসদ ভবনের শব্দযন্ত্র ও এসআইএস সিস্টেমের পরিচালনা, মেরামত ও সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ১৩ই জানুয়ারি এ অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করা হয়। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। গতকাল দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
দুদক জানায়, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর জাতীয় সংসদ ভবনের প্লেনারি হলে স্থাপিত এসআইএস সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সিস্টেমটি পুনরায় চালু করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে গণপূর্ত অধিদপ্তর এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়। এ প্রেক্ষিতে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের ভায়রা কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেডের সিইও জাহিদুর রহিম জোয়ারদার সংশ্লিষ্ট সিস্টেম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তা মেরামতের মাধ্যমে পুনরায় চালু করা সম্ভব বলে মতামত দেন এবং একটি প্রাক্কলন দাখিল করেন।

পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি প্রকৌশলীদের আসা-যাওয়া, থাকা-খাওয়া ও সম্মানী ভাতা বাবদ ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা চেয়ে গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করে। দুদকের অভিযোগে বলা হয়, জাতীয় সংসদের প্লেনারি হলে স্থাপিত ‘শিওর’ ব্র্যান্ডের এসআইএস সিস্টেমের সমমানের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যের পণ্য বর্তমানে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান তৈরি না করলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি মেরামতের নামে অর্থ আত্মসাতের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ ছাড়া, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের আগে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কিছু প্রকৌশলী ও কর্মকর্তা এ অনিয়মে জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাদের যোগসাজশে পুরনো সিস্টেম মেরামতের নামে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে বলে দুদক উল্লেখ করেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, এসআইএস সিস্টেমের মেরামত, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রায় ৯ কোটি ৪ লাখ টাকার প্রাক্কলন প্রস্তুত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য দুদক চলতি বছরের ১৬ ও ২৪শে ফেব্রুয়ারি গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম সার্কেল-৩ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহের অনুরোধ জানিয়ে তাগিদপত্র পাঠায়। তবে কোনো সাড়া না পাওয়ায় গত ৭ই এপ্রিল প্রধান প্রকৌশলীর কাছে ‘বিষয়টি অতীব জরুরি’ উল্লেখ করে পৃথক তাগিদপত্র দেয়া হয়।
দুদকের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, আমরা আশা করছি গণপূর্ত অধিদপ্তর দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করবে, যাতে অনুসন্ধান কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন