মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের হুঁশিয়ারি বার্তাকে কোনোভাবেই পাত্তা দিচ্ছে না ইসরাইল। দেশটি নতুন করে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ফের হামলা চালিয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) বিবিসির অনলাইন প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, বুধবার ইসরাইলি যুদ্ধবিমান নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী কাফার তেবনিতের উপকণ্ঠে হামলা চালিয়েছে।
তবে লেবাননে সর্বশেষ এই হামলা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরাইল। দেশটির বাহিনীর পক্ষ থেকে এর আগে বলা হয়, তারা ইরান সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অবসানে ইতিমধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে পৌঁছেছে। যদিও চুক্তির বিষয়বস্তু পুরোপুরি এখনো প্রকাশ করা হয়নি তবে প্রধান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, এই চুক্তির মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ ছাড়া মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, লেবাননের বিষয়ে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। ফ্রান্সে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইল হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এতে বহু লোক নিহত হয়েছে।
গত রোববার রাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি চুক্তির ঘোষণা দেয়া হয়। তবে এরপরেও হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলি বাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে।
জি-৭ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে তবে লেবাননে চালানো সাম্প্রতিক হামলা তিনি পছন্দ করেননি।
ট্রাম্প এদিন দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইসরাইলের অস্তিত্ব থাকবে না। আমি ছাড়া কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টই ইসরাইলের জন্য এতকিছু করবে না।
অন্যদিকে সোমবার নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেন, যতদিন প্রয়োজন ততদিন লেবাননে ইসরাইলি সেনা থাকবে। তবে নতুন চুক্তি অনুযায়ী লেবাননে কোনো ইসরাইলি সেনা অবস্থান করতে পারবে না।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননে যেকোনো ধরনের হামলা বা দেশটির ভূখণ্ডে ইসরাইলি সেনার অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
