মানিকগঞ্জে রিতার ক্যারিশমায় ভোটের রেকর্ড

মানিকগঞ্জ ৩

মানিকগঞ্জে রিতার ক্যারিশমায় ভোটের রেকর্ড

ফন্ট সাইজ:

শুধু জয় নয়, ভোটের রেকর্ড সৃষ্টি করে বিজয়ী হয়েছেন মানিকগঞ্জ-৩ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের জননন্দিত প্রার্থী আফরোজা খান রিতা। এক লাখেরও বেশি ব্যবধানে ভোটের রাজনীতিতে এই প্রথমবারের মতো মানিকগঞ্জে ইতিহাস গড়েছেন তিনি। দীর্ঘ দেড় যুগ পর পিতা সাবেক মন্ত্রী মরহুম হারুণার রশিদ খান মুন্নুর আসনটি বীরের বেশেই উদ্ধার করে বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উপহার দিলেন। এই আসনের ১৫১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৪৮টি কেন্দ্রেই রিতার কারিশমায় বিধ্বস্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ৮ প্রার্থী। তার এই অবিস্মরণীয় বিজয়ে নির্বাচনী এলাকার মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও উৎসবের আমেজ। রিতাও ভোটারদের কাছে ঋণী হয়ে গেলেন। দেখা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই একের পর এক ভোটকেন্দ্রের জয়ের খবর পেয়ে শুভেচ্ছা জানাতে গিলন্ড এলাকায় আফরোজা খান রিতার বাসায় হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। এ সময় ফুল পাপড়িতে ভরে যায়। বিজয়ের উল্লাসে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে মুন্নু সিটি। এদিকে আফরোজা খান রিতা শুক্রবার সকালে মুন্নু সিটিতে সমাহিত তার পিতা সাবেক মন্ত্রী মরহুম হারুণার রশিদ খান মুন্নুর কবর জিয়ারত করেন। এ সময় বাবার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আফরোজা খান রিতা অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন বাবার কবরের পাশে। এর আগে রাতে তার বিজয়ের খবর পৌঁছে দিতে রিতা ছুটে যান শয্যাশায়ী ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের কাছে। সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মাকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রিতা। মেয়ের সফলতায় মা তার আদরের তনয়কে বুকে জড়িয়ে কেঁদেছেন এবং কপালে চুমু ও মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করেছেন। এ ছাড়া ভোটারদের ভালোবাসায় আবেগ আপ্লুত হয়ে আফরোজা খান রিতা বলেন, প্রায় দীর্ঘ দেড় যুগ পর একটা স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে আমার দল নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছে। আমার নির্বাচনী এলাকার ভোটাররা আমাকে ধানের শীষে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে বাবার আসনটি ফিরিয়ে এনেছেন। এজন্য নির্বাচনী এলাকার প্রত্যেক ভোটারের কাছে আমি ঋণী। এ ঋণ আমি কখনোই শোধ করতে পারবো না। ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে মানিকগঞ্জের প্রত্যেকটা মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সুন্দর একটি জেলা গঠনে আমি কাজ করে যাবো। এদিকে মানিকগঞ্জ-৩ আসনে ভোটের হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এখানে মোট ১৫১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৪৮টি ভোটকেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আফরোজা খান রিতা বড় অঙ্কের ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। ধানের শীষ পেয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৬টি ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের সাইদ নুর পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২৪২ ভোট। এখানে বিএনপি’র বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী আতাউর রহমান আতা পেয়েছেন ২০ হাজার ৫৯১ ভোট। প্রাপ্ত ভোটের ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আফরোজা খান রিতা ১ লাখ ৩ হাজার ১০৪ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হন। স্বাধীনতা পরবর্তী এই প্রথম ভোটের রেকর্ড গড়েছেন তিনি। ভোটের রেকর্ড সৃষ্টি করে বিজয়ী হওয়ায় আফরোজা খান রিতা তার নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এদিকে মানিকগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এস এ জিন্নাহ কবীর এবং মানিকগঞ্জ-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মইনুল ইসলাম খান শান্তও বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের এই জয়ের পৃথক দুইটি আসনের দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষজনের মধ্যেও বিজয়ের আনন্দ বইছে। মানিকগঞ্জ-১ আসনের বিএনপি’র বিজয়ী প্রার্থী এস এ জিন্নাহ কবিরের জেলা শহরের বাসায় সকাল থেকেই তার নির্বাচনী এলাকার মানুষজন অভিনন্দন জানাতে ছুটে আসেন। ওই অবস্থা মানিকগঞ্জ-২ আসনের ধানের শীষের বিজয়ী প্রার্থী মইনুল ইসলাম খান শান্তর সিংগাইর উপজেলার চারিগ্রামের বাসায়। হাজারো নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী অভিনন্দন জানাতে তার বাড়িতে ছুটে যান।