২০২৪-এ চোখের জলে জাতীয় দলকে বিদায় জানান লুইস সুয়ারেজ। ভাবা হচ্ছিলো, উরুগুয়ের চিরচেনা সেই আকাশী-নীল জার্সিতে ‘এল পিস্তোলেরো ’কে হয়তো আর কখনও দেখা যাবে না। তবে দরজায় যখন ২০২৬ বিশ্বকাপ কড়া নাড়ছে, তখন আবারও জেগে উঠেছেন উরুগুয়ের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৩৯ বছর বয়সে এসে সুয়ারেজ ঘোষণা দিলেন, দেশের প্রয়োজনে ফের জাতীয় দলে ফিরতে প্রস্তুত তিনি।
সম্প্রতি স্বদেশী প্রকাশনা ‘দিয়ারিও ওভাসিওন’-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মনের সুপ্ত ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেন সুয়ারেজ। অবসরের সিদ্ধান্ত নেয়াটা যে কঠিন ছিল, তা স্বীকার করে ইন্টার মায়ামি ফরোয়ার্ড বলেন, ‘জাতীয় দল সবসময়ই প্রাণের স্পন্দন। বিশ্বকাপ সামনে রেখে যদি তারা আমাকে প্রয়োজন মনে করে, আমি কখনওই আমার দেশকে না বলতে পারব না। সক্রিয় ফুটবলার হিসেবে যতদিন মাঠে আছি, দেশের ডাক উপেক্ষা করা আমার জন্য অসম্ভব।’
হাঁটুর চোটের কারণে ২০২৩-এ আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের গুঞ্জন উঠলেও, সুয়ারেজ বিদায় জানান তার পরের বছর। তখন ফুটবলের প্রতি প্যাশন কিছুটা কমে যায় বলে জানান বার্সেলোনার এ সাবেক তারকা। তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্তটি আমি নানা দিক বিবেচনা করেই নিই। তবে জাতীয় দল থেকে দূরে সরে যাওয়ার পর ফুটবলের প্রতি সেই চিরাচরিত আবেগ কিছুটা হলেও ফিকে হয়ে গেছে।’
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লীগ সকারের (এমএলএস) ইন্টার মায়ামির হয়ে ছন্দে রয়েছেন সুয়ারেজ। গত শনিবার অস্টিন এফসির বিপক্ষে গোল করে এমএলএসের নতুন মৌসুমে নিজের গোলের খাতাও খুলেছেন তিনি। ৩৯ বছর বয়সেও উরুগুইয়ান স্ট্রাইকারের পারফর্মেন্সে মুগ্ধ মায়ামি কোচ হাভিয়ের মাসচেরানোও।
উরুগুয়ের জার্সিতে ১৪৩ ম্যাচে ৬৯ গোল করে দেশের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা গোলদাতা সুয়ারেজই। ৫৮ গোল করে দুইয়ে থাকা এডিনসন কাভানি ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন ২০২২-এই। অভিজ্ঞ মার্সেলো বিয়েলসার স্কোয়াডে ফেদেরিকো ভালভার্দে, দারউইন নুনিয়েজের সঙ্গে সুয়ারেজের অভিজ্ঞতার ছোঁয়া লাগলে তা উরুগুয়ে ভক্তদের জন্য আনন্দের সংবাদই হবে।
