আপিল খারিজের পর অবনমনের শঙ্কায় হামজার লেস্টার

আপিল খারিজের পর অবনমনের শঙ্কায় হামজার লেস্টার

ফন্ট সাইজ:

মাঠের পারফরমেন্সে এমনিতেই কোণঠাসা লেস্টার সিটি। এর ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এল আদালতের রায়। আর্থিক নীতি ভঙ্গের দায়ে ছয় পয়েন্ট কাটার বিরুদ্ধে হামজা চৌধুরীর ক্লাবের করা আপিল খারিজ করে দিয়েছে ইংলিশ ফুটবল লীগ (ইএফএল) কর্তৃপক্ষ। ফলে পয়েন্ট টেবিলে কোনো পরিবর্তন তো আসছে না-ই, বরং প্রিমিয়ার লীগ থেকে অবনমিত হওয়া লেস্টার এখন চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে তৃতীয় স্তরে অবনমনের দ্বারপ্রান্তে!
২০২৩-২৪ মৌসুমে প্রফিট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি রুলস (পিএসআর) লঙ্ঘনের দায়ে গত ফেব্রুয়ারিতে লেস্টারকে এই শাস্তি দেয় একটি স্বাধীন কমিশন। প্রিমিয়ার লীগের নিয়মানুযায়ী, তিন বছরে ১০৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি লোকসান করা নিষিদ্ধ। তবে নিচের লীগগুলোতে খেললে এই সীমা অনেকটাই কমে আসে। ইএফএল-এর নিয়ম অনুযায়ী, লেস্টার নির্ধারিত সীমার চেয়ে ২০.৮ মিলিয়ন পাউন্ড বেশি লোকসান করে ফেলে। ক্লাবটি ৩৬ মাসের পরিবর্তে ৩৭ মাসের হিসাব বিবেচনার দাবি তুলে আপিল করলেও কমিশন তা নাকচ করে দেয়। ফেব্রুয়ারিতে যখন ৬ পয়েন্ট কাটা হয়, তখন চ্যাম্পিয়নশিপ টেবিলের ১৭ নম্বরে ছিল লেস্টার। শাস্তির ধাক্কায় তখন তারা ২০ নম্বরে নেমে যায়। এরপর গত দুই মাসে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। শেষ ১২ ম্যাচের স্রেফ একটিতে জয় পাওয়ায় বর্তমানে তারা টেবিলের ২২ নম্বরে অবস্থান করছে। এটি চ্যাম্পিয়নশিপের রেলিগেশন বা অবনমন জোন। হাতে আছে কেবল ৫টি ম্যাচ। নিরাপদ অবস্থানে যাওয়ার জন্য অন্তত এক পয়েন্টের ব্যবধান ঘোচাতে হবে লেস্টারকে।
আপিল হারের পর এখন সব মনোযোগ মাঠেই দিচ্ছে লেস্টার। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হামজার ক্লাব বলে, ‘এই অনিশ্চয়তার অধ্যায় শেষ হয়েছে। এখন আমাদের সব মনোযোগ মাঠের লড়াইয়ে। কঠিন এই সময়ে সমর্থকদের পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ। এখন আমাদের একমাত্র লক্ষ্য বাকি ৫ ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দিয়ে লীগে টিকে থাকা।’
অন্তর্বর্তীকালীন কোচ গ্যারি রোয়েটের অধীনে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে লেস্টারকে। রূপকথার প্রিমিয়ার লীগ জয়ীরা কীভাবে তৃতীয় স্তরে নেমে যাওয়া থেকে নিজেদের রক্ষা করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন