আবু সাঈদ হত্যা: সাবেক দুই পুলিশের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন

আবু সাঈদ হত্যা: সাবেক দুই পুলিশের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন

ফন্ট সাইজ:

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক দুই পুলিশকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের তিন কর্মকর্তাকে দেয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করেন। এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন-বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা দুজনেই গ্রেপ্তার আছেন।

আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া তিনজন হলেন—তখনকার সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালী জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন ও এসআই বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।

এছাড়া বেরোবির তৎকালীন ভিসি হাসিবুর রশীদ ও রংপুরের সাবেক পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামানসহ ৫ জনকে ১০ বছরসহ ৩০ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-২।

মামলায় বেরোবির তৎকালীন ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে গত ৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। বিচারিক কার্যক্রমে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

মামলার ৩০ জন আসামির মধ্যে ছয়জন বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন। তাদের আজ আদালতে আনা হয়।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ।

সেদিন দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদকে পুলিশের গুলি করার ভিডিও সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হলে ছাত্র-জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। পরদিন থেকে সারা দেশে ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করা হয়।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন