চ্যাম্পিয়নস লীগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে গত মৌসুমের পুনরাবৃত্তিই ঘটলো। ঘরের মাঠ পার্ক দে প্রিন্সেসে লিভারপুলকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের পথে এক পা দিয়ে রাখলো প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের একচেটিয়া আধিপত্যের রাতে জাদুকরি এক গোল করে স্পটলাইট কেড়ে নিয়েছেন খিচা কাভারাস্কেইয়া।
ম্যাচজুড়েই লিভারপুলকে চাপে রাখে পিএসজি। ৭৪ শতাংশ বল নিজেদের পায়ে রাখা স্বাগতিকরা ১৭টির মধ্যে ৭টি শট লক্ষ্যে রাখে। অন্যদিকে ৩টি শট নিয়েও সবগুলোই লক্ষ্যভ্রষ্ট অলরেডদের। ম্যাচের একাদশ মিনিটে লিড নেয় পিএসজি। উসমানে দেম্বেলের সহায়তায় তরুণ তারকা দিজিরে দুয়ের নেয়া শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে জড়ায়। ব্যালন ডি’অরজয়ী দেম্বেলে অন্তত তিনটি সহজ সুযোগ নষ্ট না করলে পিএসজির স্কোরলাইন আরও বড় হতে পারতো। কখনও তিনি গোলকিপারলে একা পেয়েও বল উড়িয়ে মেরেছেন, আবার কখনও তার শট ফিরে এসেছে গোলপোস্টে লেগে। বিরতির আগমুহূর্তে দুয়ের আরেকটি জোরালো শট দারুণভাবে রুখে দেন লিভারপুল গোলকিপার জর্জি মামারদাশভিলি।
দ্বিতীয়ার্ধের ৬৫তম মিনিটে সেই চোখ ধাঁধানো গোলটি করেন কাভারাস্কেইয়া। মাঠের বাঁ প্রান্ত থেকে একক নৈপুণ্যে বল নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে যান এ জর্জিয়ান উইঙ্গার। পায়ের জাদুকরী কারিকুরিতে ডিফেন্ডার ও গোলকিপারকে কাটিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। চলতি আসরে এটি কাভারাস্কেইয়ার অষ্টম গোল। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘২-০ ব্যবধান মন্দ নয়, তবে আমাদের আরও গোল করার সুযোগ ছিল।’
লিভারপুলের রক্ষণে অধিনায়ক ভার্জিল ভ্যান ডাইক চেষ্টা করলেও আক্রমণভাগ ছিল দিশেহারা। কোচ আর্নে স্লট পুরো ম্যাচে মোহাম্মদ সালাহকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। রেকর্ড ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডের স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার ইসাক বদলি হিসেবে নামলেও ভাগ্য ফেরাতে পারেননি।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা তিন ম্যাচে হারের তেতো স্বাদ পাওয়া লিভারপুল এখন ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে। আশা জাগানিয়া তথ্য হলো, ২০১৯-এ বার্সেলোনার বিপক্ষে ৩-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ফিরতি লেগে ৪-০ গোলে জিতে জাদুকরি প্রত্যাবর্তন ঘটায় অলরেডরা। সেমির টিকিট পেতে হলে আগামী মঙ্গলবার ঘরের মাঠে দ্বিতীয় লেগে তেমন কোনো অতিপ্রাকৃত গল্পেরই পুনরাবৃত্তি করতে হবে তাদের।
