ইংলিশ চ্যানেলে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে স্টারমারকে উপহাস পুতিনের

ইংলিশ চ্যানেলে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে স্টারমারকে উপহাস পুতিনের

ফন্ট সাইজ:

বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমারকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা রুশ জাহাজগুলোকে ইংলিশ চ্যানেল পার করাতে একটি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছেন তিনি। ব্ল্যাক সি ফ্লিটের ফ্রিগেট অ্যাডমিরাল গ্রিগোরোভিচ বুধবার দুটি ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ট্যাঙ্কারকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যায়। তার পেছনে একটি বৃটিশ নৌযান অনুসরণ করছিল। ডোভারের প্রায় ১০ মাইল দূরে রয়্যাল শার্লট নামের একটি নৌযানে অবস্থান করে দ্য টেলিগ্রাফের ডিফেন্স এডিটর টম কটারিল এ দৃশ্য দেখেছেন। তিনি দেখেছেন, পুতিনের ওই নৌবহর দক্ষিণ উপকূল ঘেঁষে এগিয়ে যাচ্ছে। আর রয়্যাল ফ্লিট অক্সিলিয়ারির ট্যাঙ্কার আরএফএ টাইডফোর্স তাদের পিছু নিয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টেলিগ্রাফ।

গত মাসে স্যার কিয়ের স্টারমার বিশেষ বাহিনীকে অনুমতি দেন রাশিয়ার যুদ্ধের অর্থ জোগাতে অবৈধভাবে তেল বহনকারী পুরনো জাহাজগুলো আটক করার জন্য। তিনি বলেন, এই ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বৃটিশ জলসীমায় এলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এ পর্যন্ত বৃটেন একটি রুশ জাহাজও আটক করতে পারেনি। বৃটিশ রয়্যাল নেভি ও সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে স্টারমার বারবার সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ইরান নির্মিত একটি ড্রোন আরএএফ আক্রোতিরি ঘাঁটিতে আঘাত হানার পর বৃটেনের একমাত্র কার্যকর ডেস্ট্রয়ার এইচএমএস ড্রাগন মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছাতে তিন সপ্তাহ লেগে যায়। পরে পানি সরবরাহ সমস্যার কারণে আবার বন্দরে ফিরে আসতে হয়। শনিবার কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক এই ইস্যুতে আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রকাশের দাবি জানাবেন এবং বলবেন- বৃটেনকে পুনরায় সশস্ত্র করার কোনো পরিকল্পনাই নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আগেই বৃটেনের দুটি বিমানবাহী রণতরীকে ‘খেলনা’ বলে মন্তব্য করেন। তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও বৃটেনের ‘বড়, ভয়ংকর রয়্যাল নেভি’ নিয়ে ব্যঙ্গ করেন। এ বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম একটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত রুশ তেলবাহী জাহাজ আটক করে। এরপর পশ্চিমা দেশগুলো আরও জাহাজ আটক করার প্রতিশ্রুতি দেয়। ফ্রান্স ভূমধ্যসাগরে কিছু ট্যাঙ্কার আটকালেও, স্টারমারের হুমকির পর থেকে ডজনখানেক রুশ জাহাজ ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে পার হয়েছে। ৩,৬২০ টন ওজনের ফ্রিগেট অ্যাডমিরাল গ্রিগোরোভিচে অ্যান্টি-শিপ, ক্রুজ এবং সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। সেটি বুধবার সকাল ৯টার কিছু পরে ৬০০ ফুট দীর্ঘ দুটি ট্যাঙ্কার ইউনিভার্সাল এবং এনিগমা-এর মাঝ দিয়ে প্লাইমাউথের দিকে এগিয়ে যায়। ইউনিভার্সাল রাশিয়ার ভিসোৎস্ক বন্দর থেকে ১৮ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করেছিল বলে জানা গেছে। এটি রাশিয়ার যুদ্ধ চালানোর জন্য অর্থ জোগাতে তেল পরিবহনের মিশনে রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে এই জাহাজটিকে বৃটিশ জলসীমায় নিষিদ্ধ করা হয়। কারণ এটি ইউক্রেনকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে তেল রপ্তানি করছিল। অন্যদিকে, ক্যামেরুনের পতাকাবাহী এনিগমা সেন্ট পিটার্সবার্গের উত্তরে প্রিমোরস্ক বন্দর থেকে ২৯ মার্চ যাত্রা করে তুরস্কের দিকে যাচ্ছিল। গত বছর মে মাসে বৃটেন এটিকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। বুধবার আরও দুটি নিষিদ্ধ ট্যাঙ্কার গাম্বিয়ার পতাকাবাহী ডেজার্ট কাইট এবং সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী কৌসাইকে চ্যানেলের বিপরীত দিকে চলতে দেখা যায়।

প্যারাশুট রেজিমেন্টের অবসরপ্রাপ্ত মেজর অ্যান্ড্রু ফক্স বলেন, রাশিয়া বৃটেনকে অপমান করতে চাইছে। তিনি বলেন, রাশিয়া মরিয়া হয়ে তেল সরবরাহ চালু রাখতে এবং ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়। তারা এখন স্টারমারকে নিয়ে খেলছে। আমরা যদি সত্যিই ইউক্রেনকে সাহায্য করতে চাই, তাহলে এই শ্যাডো ফ্লিটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

বৃটেনের প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা এখনো প্রকাশিত হয়নি, যদিও এটি গত শরতেই প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল। এর ফলে প্রতিরক্ষা শিল্পে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। কারণ কোম্পানিগুলো জানে না তারা কোনো প্রকল্পে অর্থ পাবে কি না। কেমি ব্যাডেনক এই বিলম্বকে জাতীয় কেলেঙ্কারি বলে অভিহিত করেছেন। লেবার পার্টিকে অভিযুক্ত করেছেন যে তাদের কোনো পরিকল্পনা নেই।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন