যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল যুদ্ধবিরতির ৩টি শর্ত লঙ্ঘন করছে: ইরান

চুক্তি ভেঙে পড়ার মুখে

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল যুদ্ধবিরতির ৩টি শর্ত লঙ্ঘন করছে: ইরান

ফন্ট সাইজ:

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়ার মুখে। কারণ, লেবাননে ইসরাইলের ব্যাপক বোমাবর্ষণের প্রতিবাদে তেহরান আবারও গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছে, যাতে শান্তি আলোচনা চালু রাখা যায়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের বিজয় হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে বাস্তবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরান এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন ইসরাইল লেবাননে হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর ওপর হামলা জোরদার করে এবং দেশজুড়ে বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে।

বুধবার বিকেলে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে কমপক্ষে পাঁচটি ধারাবাহিক হামলা আবাসিক এলাকাগুলো কাঁপিয়ে দেয়। ইসরাইলের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় সমন্বিত হামলা চালিয়েছে। মাত্র দশ মিনিটের মধ্যে বৈরুত, বেকা উপত্যকা এবং দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ১০০টির বেশি কমান্ড সেন্টার ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। লেবাননের সিভিল ডিফেন্স সার্ভিস জানায়, সারা দেশে মোট ২৫৪ জন নিহত এবং ১,১০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এর মধ্যে বৈরুতেই নিহত হয়েছেন ৯১ জন। জেরুজালেম দাবি করেছে, হিজবুল্লাহ বেসামরিক এলাকাকে ব্যবহার করছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মকর্তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, বিশেষ করে যেসব আবাসিক ভবনে কোনো সতর্কতা ছাড়াই হামলা হয়েছে।

বুধবার ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত করা শেষ সেতুটিও ধ্বংস করে। লিতানি নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটি ইসরাইল সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তরে। ইসরাইলি সামরিক মুখপাত্র বলেছে, লিতানি নদীর দক্ষিণের এলাকা ‘লেবানন থেকে বিচ্ছিন্ন’ হয়ে গেছে। ইসরাইল জানিয়েছে, তারা এই অঞ্চলকে একটি বাফার জোন হিসেবে দখল করতে চায়। সেখানে হাসপাতাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে। হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ খাদ্য ও ওষুধের সংকটে ভুগছে। ইসরাইল লেবাননের প্রায় ১৫ শতাংশ এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে ১২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। অনেকেই আশা করেছিলেন যুদ্ধবিরতি হলে তারা বাড়ি ফিরতে পারবেন। বুধবারের হামলার আগেই লেবাননে ইসরাইলের স্থল ও আকাশ অভিযানে ১৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন, যার মধ্যে ১৩০টির বেশি শিশু।

এই নতুন সহিংসতা যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এটিকে ‘ভঙ্গুর’ চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, লেবাননের যুদ্ধ বন্ধ করাও এই চুক্তির অংশ ছিল। তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। চুক্তি ঘোষণার সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন- এটি ‘লেবাননসহ সর্বত্র প্রযোজ্য।’

আরাঘচি এক্সে লিখেছেন, লেবাননে গণহত্যা বিশ্ব দেখছে। এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে। বিশ্ব দেখছে তারা তাদের প্রতিশ্রুতি রাখে কি না। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তিনটি শর্ত ভঙ্গ করায় তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসা অযৌক্তিক। এই তিনটি বিষয় হলো- হিজবুল্লাহর ওপর ইসরাইলি হামলা, যুদ্ধবিরতির পর ইরানের আকাশসীমায় ড্রোন অনুপ্রবেশ এবং চূড়ান্ত চুক্তিতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ মেনে না নেয়া।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধ করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তিনি ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এটি পুনরায় খোলার দাবি ও প্রত্যাশা পুনর্ব্যক্ত করেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়, সে বিষয়ে ইসরাইলকে খুব দেরিতে জানানো হয়েছিল। মধ্যস্থতাকারী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, ইসরাইলের আপত্তি ছিল পর্যাপ্ত পরামর্শের অভাব এবং চুক্তির কিছু নির্দিষ্ট শর্ত নিয়ে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার খুব অল্প সময় আগে ইসরাইলকে জানানো হয়। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দেয়ার আগে নেতানিয়াহুকে ফোন করেন। এরপর নেতানিয়াহু এতে অংশ নিতে সম্মত হন। নেতানিয়াহুর দপ্তর এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি। তবে এক ইসরাইলি কর্মকর্তা বলেছে, অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগেই সমন্বয় করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, আমেরিকা ও ইসরাইল একটি বড় ধরনের সামরিক বিজয় অর্জন করেছে এবং ইরানের সামরিক বাহিনী আর বড় কোনো হুমকি নয়। অন্যদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে নিজেদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করেছে। চুক্তির অনেক বিষয় এখনো অস্পষ্ট, কারণ দুই পক্ষই ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছে। ইরান বলছে, এই চুক্তির মাধ্যমে তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজ থেকে টোল নেয়ার নতুন নিয়ম চালু করতে পারবে। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প এ ধরনের টোলের বিরোধী। মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স প্রতিষ্ঠান উইন্ডওয়ার্ড জানায়, বুধবার মাত্র ১১টি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে, যা আগের দিনের মতোই। তারা বলেছে, ইরান প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য সর্বোচ্চ ১ ডলার পর্যন্ত টোল নিচ্ছে। বড় সুপারট্যাঙ্কারগুলো প্রায় ৩০ লাখ ব্যারেল তেল বহন করতে পারে।

Anwarul Azam

২ মাস আগে

হায়্ররে যুদ্ধ বিরতি। চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কি'বা করার আছে।

লিমা

২ মাস আগে

যুদ্ধ বিরতি আসলে প্রতারণা। তাই বিরতিতে ও ইসরায়েল হামলা করে ২৫৪ জনকে হত্যা করল।প্রশ্ন জাগে মধ্যস্ততাকারী দেশ কি ঘুশ খেয়েছে? ইরান সতর্ক থাকুন এরা প্রতারণা করবে।

মন্তব্য করুন