অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের ক্ষেত্রে নমনীয়তা আসছে বৃটেনে

অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের ক্ষেত্রে নমনীয়তা আসছে বৃটেনে

ফন্ট সাইজ:

বৃটেনে একের পর এক অভিবাসন নীতির প্রবর্তন। বিষয়টি নিয়ে স্থিতিশীলতা আসছেই না। বিশেষ করে শাবানা মাহমুদ লেবার সরকারের স্বরাষ্ট্র সচিব হওয়ার পর থেকে অভিবাসন নীতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই। শাবানা মাহমুদের কঠোর ইমিগ্রেশন নীতি নিয়ে খোদ সরকারের মধ্যেই দুই ভাগ। ফ্যামিলি ও ওয়ার্ক ভিসা নিয়ে গত কয়েক বছরে বৃটেনে আসা হাজার হাজার অভিবাসীর স্থায়ী বসবাসের (আইএলআর) ভাগ্য নিয়ে এখন ওয়েস্টমিনস্টারের অন্দরমহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সমালোচনার মধ্যে পদত্যাগ করার চিন্তাও করেছেন হোম সেক্রেটারি।

তাঁর অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে কিছুটা নমনীয়তার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

হোম অফিস জনসমক্ষে আইএলআর-এর সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার পরিকল্পনা বজায় রাখলেও সরকারের ভেতর থেকেই একটি ‘মধ্যপন্থা’ অবলম্বনের চাপ বাড়ছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যারা ইতোমধ্যে বৃটেনে এসে অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন, তাদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার কিছুটা পিছু হটতে পারে। সরকারের এই সম্ভাব্য পিছু হটার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছেন লেবার পার্টির ব্যাকবেঞ্চ এমপি এবং মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্য।

প্রাথমিক পরিকল্পনায় বলা হয়েছিল যে, যারা বর্তমানে ৫ বছরের রুটে স্থায়ী হওয়ার অপেক্ষায় আছেন, তাদের ক্ষেত্রেও ১০ বছরের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। তবে সরকারের বর্তমান অভ্যন্তরীণ আলোচনা অনুযায়ী একটি ‘গ্র্যান্ডফাদার ক্লজ’ বা বিশেষ ছাড় যুক্ত করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মানে হতে পারে, ২০২৬ সালের আগে যারা স্কিলড ওয়ার্কার বা হেলথ অ্যান্ড কেয়ার ভিসা নিয়ে ব্রিটেনে এসেছেন, তাদের জন্য আগের ৫ বছরের নিয়মই বহাল থাকবে। শুধু ২০২৬ সালের পরের নতুন আবেদনকারীদের জন্য ১০ বছরের শর্ত প্রযোজ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তাদের মতে, মাঝপথে নিয়ম পরিবর্তন করা অত্যন্ত অন্যায্য। একজন এমপি বলেন, যারা ইতোমধ্যে জীবন গুছিয়ে নিয়েছেন এবং এনএইচএস-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সেবা দিচ্ছেন, তাদের জন্য মাঝপথে গোলপোস্ট পরিবর্তন করা যায় না।

বর্তমান ওয়ার্ক ভিসাধারীদের জন্য আরও একটি ভরসার খবর হলো , সরকার গ্রিন এনার্জি বা স্পেশালিস্ট হেলথকেয়ারের মতো উচ্চ মূল্যের খাতগুলোর জন্য বিশেষ ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ ব্যবস্থা রাখার কথা ভাবছে। এতে দক্ষ কর্মীরা ১০ বছরের সাধারণ নিয়মের তোয়াক্কা না করেই দ্রুত স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পেতে পারেন।
তবে এই পুরো বিষয়টি এখনও বেশ সংবেদনশীল। কয়েকজন সংসদ সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে সংসদীয় ভোট ছাড়া এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি অবজ্ঞা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন