পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আলী হোসেন (৩৮) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলী হোসেন পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি পানিয়ারটারী এলাকার বাসিন্দা। তিনি আব্দুল গফুরের ছেলে। তার পরিবারে স্ত্রী, এক মেয়ে ও দুই ছেলে সন্তান রয়েছে।
জানা যায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা থানার সাতগ্রাম সীমান্ত এলাকা। অপরদিকে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুঁড়ি গ্রামের পানিয়ারটারী সীমান্ত এলাকা। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৭৪-এর ৫ নম্বর উপ-পিলার সংলগ্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতের গরু পারাপারকারীদের সহায়তায় বাংলাদেশি ৭ থেকে ৮ জনের গরু পারাপারকারীরা ভারতের প্রায় দুইশ’ গজ ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় ভারতীয় ফালাকাটা বিএসএফ সেক্টরের ১৫৬ ব্যাটালিয়নের সাতমাথা ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় উভয় দেশের চোরাকারবারিরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থলে আলী হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। নিহতের লাশ বিএসএফ ভারতে নিয়ে যায়।
পরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৬১ ব্যাটালিয়ন (তিস্তা-২)- এর ধবলগুঁড়ি ক্যাম্পের টহল দল সীমান্তে যায় ও পতাকা বৈঠকের জন্য বিএসএফকে আহ্বান জানায়। বুধবার সকাল ১১টায় ওই সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৭৫-এর ১ নম্বর উপ-পিলারের নিকট ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক পর্যায়ে ২০ মিনিট স্থায়ী পতাকা বৈঠক হয়। এতে ভারতের পক্ষে ২০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ফালাকাটা বিএসএফ সেক্টরের ১৫৬ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট সৌরভ। বাংলাদেশের পক্ষে ১০ সদস্য নিয়ে অংশ নেন ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক সৈয়দ ফজলে মুনীম।
বিজিবি জানায়, বৈঠকে বিএসএফকে সীমান্তে গুলি করে এ হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। বিএসএফ জানায়, চোরাচালানীর সঙ্গে জড়িতরা ভারতের ভেতরে ঢুকে বিএসএফকে আঘাত করে। বিএসএফ আত্মরক্ষার্থে গুলি করে। এতে এ অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করেন বিএসএফ কমান্ড্যান্ট। নিহতের লাশ মাথাভাঙা থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে গেছে।
নিহতের বড় ভাই আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমার ভাই বিএসএফের গুলিতে মারা গেছে। রাতে সীমান্তে গিয়েছিল এটা মানুষের কাছে শুনেছি। সেখানে ঠিক কী হয়েছে, জানি না।’
এ বিষয়ে জোংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, ‘রাতে সীমান্তে গুলির ঘটনা ঘটে। শুনেছি আলী হোসেন নামে আমার ইউনিয়নের এক ব্যক্তি গুলিতে মারা গেছেন।’
৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক সৈয়দ ফজলে মুনীম বলেন, বিএসএফের গুলিতে নিহতের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি। তারা (বিএসএফ) দুঃখ প্রকাশ করেছে। সেক্টর ও রিজিয়ন সদর দপ্তর পক্ষ থেকেও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ ফেরত আনার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
