ফাহিমা ধর্ষণ ও হত্যা

সিলেটে চার্জশিটে জাকির ও তার দুই ভাই অভিযুক্ত

ফন্ট সাইজ:

চার বছরের শিশু ফাহিমা। খেলছিল পাশের বাড়ির উঠোনে। চাচা সম্পর্কে জাকিরের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে তার ওপর। সিগারেটের জন্য পাঠায় দোকানে। ফিরে আসার পর ঘরের ভেতরে নিয়ে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে শিশু ফাহিমাকে। দু’দিন লাশ গুমের পর গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে অর্ধগলিত লাশ ফেলে দেয় পুকুর পাড়ে। এমন ঘটনা গত ৮ই মে ঘটেছিল নগরের সোনাতলায়। ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকার মানুষ। কয়েক দফা ভাঙচুর করা হয় ঘাতক জাকিরের বাড়িঘর। জাকির গ্রেপ্তার হয়। ঘটনা স্বীকার করেছে পুলিশের কাছে, আদালতেও।

আলোচিত এ ঘটনার চার্জশিট এক সপ্তাহের মধ্যে দিতে চেয়েছিল পুলিশ। তবে ফরেনসিক রিপোর্ট আসে দেরিতে। এ কারণে ঘটনার ৩৩ দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার বিকালে সিলেটের আদালতে আলোচিত এ ঘটনার চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত নিহত ফাহিমার প্রতিবেশী সম্পর্কে চাচা জাকির হোসেন। তার স্বীকারোক্তিও আছে। তবে লাশ গুমের চেষ্টার ঘটনায় পুলিশ ঘাতক জাকিরের দুই ভাই জয়নাল আবেদীন ও আবুল কালামকে অভিযুক্ত করেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন- চার বছরের শিশু ফাহিমা বেগম নিখোঁজ হয় গত ৬ই মে দিনের বেলায়। এরপর থেকে তাকে খোঁজা হচ্ছিলো। ৮ই মে পাশের বাড়ির পুকুর পাড়ে ফাহিমার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ফাহিমাকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে বলে প্রথম থেকেই অভিযোগ করেন এলাকার মানুষ। আন্দোলন দানা বাঁধে এলাকায়।

পরদিন ৯ই মে এলাকার লোকজন সভা করে ফাহিমার খুনিকে গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে; ফাহিমা নিখোঁজের পর তার সন্ধান যখন করা হচ্ছিল তাতে অংশ নিয়েছিল ঘাতক জাকির ও তার ভাইরা। এমনকি তারা সমাবেশেও উপস্থিত ছিল। এদিকে এলাকায় যখন আন্দোলন দানা বাঁধে তখন ভাইরা জাকিরকে জালালাবাদ থানা পুলিশের কাছে ১০ই মে হস্তান্তর করে। জাকির গ্রেপ্তারের খবরে এলাকার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। থানায় অবস্থানের পর জাকিরের বাড়িঘরও ভাঙচুর করেন। অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গ্রেপ্তারের পর প্রথমে পুলিশের কাছে ও পরে আদালতের কাছে ফাহিমাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা স্বীকার করে জাকির। এদিকে- ঘটনার পর ফাহিমার পিতা রইসুল হক জালালাবাদ থানায় মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তবে মেডিকেল রিপোর্ট আসতে দেরি হওয়ায় ৩৩ দিন পর আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়েছে।

আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন জালালাবাদ থানার এসআই নুর উদ্দিন। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান- পুলিশ চেয়েছিল আলোচিত এ হত্যার ঘটনার চার্জশিট এক সপ্তাহের মধ্যে আদালতে দিতে। কিন্তু মেডিকেল রিপোর্ট আসতে ২৬ দিন লেগেছে। মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুতই আদালতে চার্জশিট দিয়েছে। তিনি বলেন- ঘটনার পেছনে মাদক জড়িত। ফলে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। পুলিশ জানায়, ৬ই মে দিনের বেলা জাকিরের বাড়ির উঠোনে খেলতে আসে চার বছরের শিশু ফাহিমা। ঘাতক জাকির প্রথমে তাকে সিগারেট আনতে দোকানে পাঠায়। আর দোকান থেকে ফেরার পর তাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে।

এ সময় ফাহিমা অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। ফাহিমাকে হত্যার পর প্রথমে লাশ জাকির তার শয়ন কক্ষের খাটের নিচে রাখে। ধীরে ধীরে দুর্গন্ধ ছড়ালে লাশ বাড়ির জঙ্গলে রাখে। পরের দিন সে লাশ পাশের বাড়ির পুকুর পাড়ে রেখে আসে। গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জাকিরকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। সেখান থেকে ওড়না, রক্তমাখা মাটি সহ খুনের সব আলামত নিয়ে আসে।

এগুলো পরীক্ষার জন্য ঢাকায় সিআইডি ল্যাবে পাঠানো হয়। জালালাবাদ থানার ওসি শামসুল হাবিব মানবজমিনকে জানিয়েছেন- রক্ত মিশ্রিত বালু পরীক্ষার মাধ্যমে ধর্ষণের আলামত মিলেছে। আর স্বীকারোক্তি আছে। ফলে জাকিরকে প্রধান অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা, লাশ গুম ও আলামত নষ্টের চেষ্টার ঘটনায় জাকিরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে লাশ গুমের ঘটনায় জাকিরের দুই ভাই জয়নাল আবেদীন ও আবুল কালামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন- তিন আসামির মধ্যে জাকির গ্রেপ্তার হয়েছে। জয়নাল ও কালাম ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন