৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে উদ্ভূত অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে বাড়তি জ্বালানি চাহিদা পূরণে এ উদ্যোগ নেয়া হয়। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদনের তথ্য সাংবাদিকদের জানায়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব ছিল ১ লাখ টন করে তিন কোম্পানি থেকে মোট ৩ লাখ টন ডিজেল কেনা হবে।
ডিজেল কেনার তিন প্রস্তাবই নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে। ইয়ার এনার্জি এজি, কে অ্যান্ড আর ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং কোম্পানি এবং সিকদার ইন্টারন্যাশনাল ডিজেল সরবরাহ করবে বলে জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে এ ডিজেল কেনা হবে তার কোনো উন্মুক্ত কোনো দরপত্র ডাকা হবে না। সাধারণত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে নীতিগত অনুমোদনের পর একইদিন সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। কিন্তু বুধবার ক্রয় কমিটির কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি।
অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ৪ঠা এপ্রিল সর্বশেষ সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এটিসহ যুদ্ধের পর মোট ৯ লাখ ৮৫ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির জন্য ৯ প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৯টি প্রস্তাব ক্রয় কমিটিতে অনুমোদিত হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এ অ্যান্ড এ এনার্জি ও এঙনমবিল, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন, হংকংভিত্তিক সুপারস্টার গ্রুপ, ওমানভিত্তিক ম্যাঙওয়েল, এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, সিঙ্গাপুরভিত্তিক ডিবিএস, বিএসপি এবং মালয়েশিয়াভিত্তিক আবির ট্রেডিং অ্যান্ড গ্লোবাল। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, সংকটকালে সব সময়ই নতুন নতুন সরবরাহকারী তেল বেচতে আগ্রহী হয়। এবারো সেটাই ঘটেছে। এখন পর্যন্ত তেল আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলেনি কোনো প্রতিষ্ঠান। এলসি খোলার ন্যূনতম শর্ত হচ্ছে জামানত, যা পারফরম্যান্স গ্যারান্টি (পিজি) নামে পরিচিত। আটটি কোম্পানি পিজি জমা দেয়নি। তবে একটি প্রতিষ্ঠান অসম্পূর্ণ পিজি জমা দিয়েছে।
