আলোচনায় ছিলেন আরও দু’জন। নাসিম হোসাইন ও আব্দুল কাইয়ূম জালালী পংকি। দু’জনই সিনিয়র বিএনপি নেতা। একজন বর্তমান সভাপতি, অন্যজন সাবেক আহ্বায়ক। তবে শেষ হাসি হাসলেন বঞ্চিত থাকা নগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। সবাইকে টপকে তিনি হয়ে গেলেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ- সিউকের চেয়ারম্যান। এটি সিলেটের জন্য কাক্সিক্ষত একটি পদ। এর আগে এই পদে ছিলেন কয়েস লোদী এলাকা হাউজিং এস্টেটের বাসিন্দা ডা. হাফিজ। আওয়ামী লীগের নিয়োগে তিনি চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। অসুস্থতার কারণে কোনো কার্যক্রমই চালাতে পারেননি। এমনকি তার পক্ষে দপ্তরও চালু করা সম্ভব হয়নি। নামেই ছিল সিউক। সিলেট এখন মেগা সিটি। পরিধি অনেক বড়। ৪২টি ওয়ার্ড। দুই সংসদীয় আসনের এলাকা রয়েছে সিটিতে। সর্বশেষ ২০২৩ সালে বর্তমান মন্ত্রী ও সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট সিটি করপোরেশনের সঙ্গে ১৫টি ওয়ার্ড সংযুক্ত করেন। এর প্রেক্ষিতে গঠন করা হয়েছিল সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।
আওয়ামী লীগ আমলে সেটি গঠন করা হলেও কোনো কার্যক্রমই চালানো হয়নি। দপ্তরও নেই সিলেটে। ফলে পদটি বলতে গেলে একেবারে নতুন। রেজাউল হাসান কয়েস লোদী সিলেট সিটি করপোরেশনের একাধিকবারের সাবেক প্যানেল মেয়র। আরিফের জমানার সিনিয়র কাউন্সিলর। একাধিকবার পাস করেন। নগর সম্পর্কে তিনি ওয়াকিবহাল। কোথায় কী করতে হবে তার জানা। সুযোগ আসেনি। এবার নগর মসনদে চোখ ছিল। প্রশাসক হওয়ার দৌড়েও ছিলেন। কিন্তু জায়গা হয়নি। জেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী এ পদে নিয়োগ পান। জেলা পরিষদের প্রশাসক হন দলের সিনিয়র নেতা বঞ্চিত থাকা আবুল কাহের চৌধুরী শামীম। সামনে সিটি নির্বাচন। সেখানে কয়েস লোদীকে নিয়ে জল্পনা ছিল। এরইমধ্যে নগর মসনদ ছাড়াও সিলেট উন্নয়নের দায়িত্ব পেলেন তিনি। সিউকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে সরকারের গ্রেড-২ পদমর্যাদায় তাকে এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রেসিডেন্টের আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন-২০২৩’ এর ধারা ৮(১) অনুযায়ী রেজাউল হাসান লোদীকে এই পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তিনি এই দায়িত্ব পাবেন। যোগদানের তারিখ থেকে আগামী এক বছর মেয়াদে তিনি সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই নিয়োগের অন্যান্য শর্তাবলী চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কয়েস লোদী এ পদে যোগ দিতে যাচ্ছেন। তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। সিলেটের পরিকল্পিত উন্নয়ন করার দায়িত্ব পাচ্ছেন তিনি। এজন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। সিউকের একজন কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারীও নেই। ফলে তাকে কাজ শুরু করতে হবে শূন্য থেকে। সাজাতে হবে অফিস। এরপর নিতে হবে কর্মপরিকল্পনা। কাজটি বেশ কঠিন। তবে রেজাউল হাসান কয়েক লোদী জানিয়েছেন, কাজ কঠিন হলেও তার জন্য সহজ। কারণ তিনি একাধিকবারের প্যানেল মেয়র। সিলেটের উন্নয়ন সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত। কোথায় কোথায় ঘাটতি আছে তাও জানেন। সবাইকে নিয়ে টিমওয়ার্ক করতে পারলে এই অসম্ভবকে সম্ভব করা যাবে। তিনি বলেন, তাকে যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সেটি হচ্ছেÑ সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জিম্মাদারি। তিনি এই জিম্মাদারি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে চান। এজন্য তিনি সিলেটের জনপ্রতিনিধিসহ মানুষের সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছেন।
