‘তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আমাদের ম্যান্ডেট’

‘তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আমাদের ম্যান্ডেট’

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন হিসাবনিকাশ। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) কর্তৃক পূর্বের কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর গঠিত অ্যাডহক কমিটির প্রধান লক্ষ্য হলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা। ঘরোয়া ক্রিকেটের অচলাবস্থা দূর করতে গতকাল বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সংস্থাটি। তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত এগারো সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটিকে আগামী তিন মাসের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে বড় কোনো কাঠামোগত পরিবর্তনের পথে হাঁটবে না নয়া কমিটি। তারা শুধুমাত্র নির্বাচনী রূপরেখা প্রণয়নেই মনোযোগ দিচ্ছে।

দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নির্বাচন এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন নতুন কমিটির অন্যতম সদস্য ও মুখপাত্র তানজিল চৌধুরী। প্রথমে তিনি নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। ভবিষ্যতের পরিকল্পনা জানাতে গিয়ে তানজিল বলেন, ‘এই তিন মাসে আমাদের নিজেদের কোনো ব্যক্তিগত লক্ষ্য নেই। তিন মাসে হয়তো আমরা কয়েকটি জিনিসের রূপরেখা তৈরি করতে পারবো। একটি নির্বাচিত বোর্ড এলে সেটি বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা তো এখানে বড় কোনো পরিবর্তন করতে পারব না। নির্বাচন আমাদের ম্যান্ডেট। তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে, সেটাই আমাদের একদম মূল ফোকাস।’ নির্বাচনের পাশাপাশি মাঠের খেলা পুনরায় চালু করা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। স্থবির ক্রিকেট অঙ্গনে প্রাণ ফেরাতে ঘরোয়া আসরগুলো দ্রুত মাঠে গড়ানোর বিকল্প নেই। ঢাকা প্রিমিয়ার লীগসহ অন্যান্য প্রতিযোগিতাগুলো আটকে থাকায় ক্রিকেটারদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা কাজ করছে। এনএসসি নির্দেশিত কাঠামোর ভেতর থেকেই এই সংকট কাটানোর উপায় খুঁজছে অ্যাডহক কমিটি। তানজিল এই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘অবশ্যই আপনাদের লীগগুলোকে আবার চালু করা, কীভাবে করা যায়, এটি তো ইমিডিয়েট ইস্যু। কারণ এটি ক্রিকেটে প্রভাব ফেলে।’ ঘরোয়া আসরগুলো চালু করে ক্রিকেটারদের মাঠে ফেরানোই তাদের অন্যতম প্রধান কাজ বলে তিনি জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচিও বর্তমান কমিটির অগ্রাধিকারের শীর্ষে রয়েছে। সামনেই বাংলাদেশ জাতীয় দলের নিউজিল্যান্ড সফর নির্ধারিত রয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের আগে দলে স্থিতিশীলতা আনা এবং আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করার তাগিদ রয়েছে। অ্যাডহক কমিটি দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নিতে না পারলেও ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের পথরেখা মসৃণ করতে চায়।

এই প্রেক্ষাপটে নীতিনির্ধারণী বিষয়গুলো নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তানজিল। পরবর্তী বোর্ডের কাজের সুবিধার্থে তারা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গুছিয়ে রাখতে বদ্ধপরিকর। তানজিল স্পষ্টভাবে জানান, ‘সামনে আমাদের নিউজিল্যান্ড ট্যুর আছে। আর পলিসিগত জিনিসগুলোতে আমরা শুধু সুপারিশ করতে পারি, হোমওয়ার্ক করে রাখতে পারি। পরে নির্বাচিত বোর্ড এসে দেখবে কীভাবে কী করা যায়।’ অর্থাৎ, তারা একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে বিদায় নিতে চান। বিসিবির নিয়মিত কার্যক্রম সচল রাখতে এগারো সদস্যের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন একটি জরুরি বিষয়। এনএসসি নির্দেশিত পথ ধরে স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের পাশাপাশি ক্রিকেটের নৈমিত্তিক কাজগুলোও চালিয়ে নিতে হবে অন্তর্বর্তীকালীন কমিটিকে। প্রথম সভার মূল আলোচ্য বিষয় ছিল কে কোন দায়িত্ব পালন করবেন, সেটি নির্ধারণ করা। এছাড়াও ঘরোয়া ক্রিকেট মাঠে ফেরানোর তীব্র তাগিদ থাকলেও লীগ চালুর জন্য নির্ধারিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সভা যা আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কমিটির কগতকাল করার কথা ছিলো ক্লাবগুলোকে নিয়ে তা সাময়িকভাবে পিছিয়ে গেছে। তবে এই সাময়িক বিলম্ব সত্ত্বেও অ্যাডহক কমিটির একাগ্রতায় কোনো ঘাটতি নেই। তারা জানেন, দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নের স্বার্থেই মাঠের খেলা দ্রুত শুরু করা অপরিহার্য। স্থগিত হওয়া সভা প্রসঙ্গে তানজিল নিশ্চিত করে বলেন, ‘সেটি স্থগিত হয়েছে। ওই মিটিংটা একটু স্থগিত করা হয়েছে।’ তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, লীগ চালুর বিষয়ে তারা শিগগিরই আলাদা করে নিশ্চিতভাবেই বিস্তারিত আলোচনা করবেন।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন