বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটি বুধবার গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ক্রিকেটারদের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘুচিয়ে অবশেষে বেতন ও ম্যাচ ফি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে তারা। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেন বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল। নারী ও পুরুষ উভয় দলের ঘরোয়া ক্রিকেটারদের জন্য আর্থিক সুবিধার এই উন্নতি নিঃসন্দেহে দেশের ক্রিকেটের জন্য একটি ইতিবাচক খবর। দীর্ঘদিন ধরে পুরুষ ক্রিকেটারদের বেতনে কোনো পরিবর্তন আসেনি, যা ছিল অত্যন্ত হতাশার। এছাড়া নারী ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি একসময় অত্যন্ত নগণ্য ছিল, যা এবার সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে। শুধু আর্থিক সুবিধাই নয়, প্রিমিয়ার লীগ দ্রুত শুরু করার পাশাপাশি নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময়সূচিতেও বড় পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন তামিম। জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সরকারি নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে দিবারাত্রির বদলে দিনের আলোয় খেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। অ্যাডহক কমিটির বিভিন্ন দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে। অ্যাডহক কমিটির নেয়া এই সিদ্ধান্তগুলো দেশের ক্রিকেটে এবং খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ারে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী পুরুষদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ম্যাচ ফি সত্তর হাজার থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হয়েছে। বেতনের ক্ষেত্রে এ ক্যাটাগরির ক্রিকেটাররা এখন থেকে পঁয়ষট্টি হাজার টাকা পাবেন। বি ক্যাটাগরি ও সি ক্যাটাগরির বেতন বেড়ে যথাক্রমে পঞ্চাশ হাজার এবং চল্লিশ হাজার টাকা হয়েছে। বোর্ড সভাপতি জানিয়েছেন, নতুন এই বেতন কাঠামো পহেলা জানুয়ারি থেকেই কার্যকর হবে। অন্যদিকে নারী ক্রিকেটারদের প্রতিও বিশেষ নজর দেয়া হয়েছে। তাদের ম্যাচ ফি বৃদ্ধি করে টি-টোয়েন্টিতে দশ হাজার, ওয়ানডেতে পনেরো হাজার এবং দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচের জন্য বিশ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নারী ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি একসময় মাত্র এক হাজার টাকা ছিল। চুক্তিভুক্ত ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ জন নারী ক্রিকেটারের মাসিক বেতন ত্রিশ হাজার থেকে বাড়িয়ে চল্লিশ হাজার টাকা করা হয়েছে। জাতীয় দলের সর্বনিম্ন চুক্তির সঙ্গে পার্থক্য বজায় রাখতেই এই বৃদ্ধির হার সীমিত রাখা হয়েছে বলে তামিম জানান। ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ দ্রুত মাঠে গড়াতে দলগুলোর সঙ্গে শিগগিরই বসবে বোর্ড। প্রয়োজনে বেসরকারি একাডেমির মাঠ ভাড়া নেয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। খেলোয়াড়দের দলবদল প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে সেই তারিখ খুব দ্রুতই সবাইকে জানিয়ে দেয়া হবে। ঘরোয়া ক্রিকেটের আসরকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু নতুন পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। সভায় আরেকটি বড় সিদ্ধান্ত এসেছে নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময়সূচি নিয়ে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সরকারি নীতিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে ফ্লাডলাইটের ব্যবহার কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বোর্ড। এর ফলে ওয়ানডে ম্যাচগুলো সকাল এগারোটা অথবা সাড়ে এগারোটায় শুরু হবে। অন্যদিকে টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো দুপুর দুইটা বা আড়াইটায় মাঠে গড়ানোর কথা রয়েছে। তামিম জানিয়েছেন, দেশবাসী হিসেবে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখা সবার দায়িত্ব। এছাড়া ক্রিকেট অপারেশন্স ছাড়া অন্য সব কমিটির দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। বোর্ড সভাপতি নিজে ওয়ার্কিং কমিটি ও ফ্যাসিলিটিজের দায়িত্বে আছেন। ফাহিম সিনহা বিপিএল ও গেম ডেভেলপমেন্ট, রফিকুল ইসলাম বাবু গ্রাউন্ডস, তানজিল চৌধুরী বয়সভিত্তিক দল, সালমান ইস্পাহানি মার্কেটিং ও শৃঙ্খলা কমিটির দায়িত্ব পেয়েছেন। নারী উইং, মেডিকেল ও কমপ্লেইন কমিটিতে আছেন রুশনা ইমাম। অর্থ ও কল্যাণ কমিটিতে ইশরাফিল কোতোয়াল, নিরাপত্তা ও ক্রয় কমিটিতে সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ এবং টুর্নামেন্ট কমিটিতে মিনহাজুল আবেদীন নান্নু দায়িত্ব পালন করবেন। আম্পায়ার্স কমিটিতে আতহার আলী খান এবং লজিস্টিকসে মির্জা ইয়াসির যুক্ত হয়েছেন। ক্রিকেট অপারেশন্স নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিস্থিতি অনুযায়ী বোর্ড সভায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। খুব দ্রুত নতুন একজন মুখপাত্র নিয়োগ দেয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। এই পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেছেন তানজিল চৌধুরী। তার এই অনুরোধের প্রেক্ষিতে বোর্ড খুব দ্রুত অন্য একজনকে এই নতুন দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হবে বলে উপস্থিত সবাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।
