যুদ্ধবিরতির পর সৌদি আরবে স্টারমার, হরমুজ ইস্যুতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের ইঙ্গিত

যুদ্ধবিরতির পর সৌদি আরবে স্টারমার, হরমুজ ইস্যুতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের ইঙ্গিত

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির পর উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করতে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য হচ্ছে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। খবর বিবিসি’র।
বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, স্টারমার এই সফরে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করবেন, যাতে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি চালু করা যায়। তিনি শুক্রবার যুক্তরাজ্যে ফিরে যাবেন।

স্টারমার যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি অঞ্চল ও বিশ্বের জন্য স্বস্তির একটি মুহূর্ত। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সাময়িক চুক্তিকে স্থায়ী সমাধানে রূপ দিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জরুরি।

এদিকে, বৃটিশ কনজারভেটিভ দলের নেতা জেমস ক্লেভার বলেছেন, ইরানের জন্য দেশ এবং আন্তর্জাতিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে এই যুদ্ধবিরতি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তাদের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক আচরণ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়ার। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেটিই এখন প্রধান লক্ষ্য।
অন্যদিকে, লিবারেল ডেমোক্রেট নেতা ডেভ যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালেও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি ডনাল্ড ট্রাম্পকে অবিশ্বস্ত মিত্র হিসেবে আখ্যা দেন এবং বলেন, হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে না দিলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে যুক্তরাজ্য ৪০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি ভার্চুয়াল সম্মেলন আয়োজন করে, যেখানে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি জোট গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়। এরপর সামরিক পরিকল্পনা নিয়েও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র (বাংলাদেশ সময় বুধবার) মঙ্গলবার এই শর্তাধীন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। ট্রাম্প জানান, এই চুক্তি কার্যকর হবে তখনই, যখন ইরান দ্রুত ও নিরাপদভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে। অপরদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইরানের ওপর হামলা বন্ধ হলে তারা যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে এবং দুই সপ্তাহের জন্য প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করবে।

ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার মাধ্যমে সংঘাত শুরু হয়, যার জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালিতে কড়াকড়ি আরোপ করে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবহন এই পথ দিয়ে হওয়ায় এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ব্যাপকভাবে পড়েছে। স্টারমারের এই সফরকে শুধু কূটনৈতিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন