মাধবদীর উন্নয়ন, পরিবেশ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পনার কথা জানালেন ইলিয়াস

মাধবদীর উন্নয়ন, পরিবেশ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পনার কথা জানালেন ইলিয়াস

ফন্ট সাইজ:

নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার সাবেক মেয়র, জেলা বিএনপি নেতা হাজী মো. ইলিয়াস বলেছেন, মাধবদীর মানুষ অত্যন্ত সহজ-সরল এবং তারা সবসময়ই এলাকার উন্নয়নে সহযোগিতা করতে আগ্রহী। সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বিস্তৃত আলাপকালে তিনি তার পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমি যখন মাধবদী পৌরসভার মেয়র ছিলাম, তখন দেশের কয়েকজন বিরোধীদলের মেয়রের মধ্যে আমিও একজন ছিলাম। আমি বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হই। সেই সময় আমরা মাধবদীর উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করেছি এবং বেশ কিছু কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। নদী ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে হাজী ইলিয়াস বলেন, আমরা সুশৃঙ্খলভাবে নদীকে কেন্দ্র করে কাজ করেছি। মাধবদীর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ব্রাহ্মপুত্র নদীর পানি কীভাবে স্বচ্ছ রাখা যায়, সে বিষয়ে আমি তৎকালীন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছি। আমার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছিল, যেখানে মাধবদী পৌরসভার ফুটপাতের নিচ দিয়ে সেন্ট্রাল ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি করা হবে এবং নির্দিষ্ট স্থানে ইটিপি স্থাপন করা হবে। এসব ইটিপির মাধ্যমে বর্জ্য পানি পরিশোধন করে নদীতে প্রবাহিত করা হবে। তিনি আরও বলেন, যদি সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতো, তাহলে আজ মাধবদী একটি পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব এবং সুপরিকল্পিত পৌরসভা হিসেবে গড়ে উঠতো। আমাদের এলাকার শিল্পপতিরাও এ কাজে সহযোগিতা করতে আগ্রহী ছিলেন। এখনও যদি সুযোগ পাই, আমি সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাই। বর্তমান পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, পরিকল্পনার অভাবে অপরিশোধিত বর্জ্য ও ময়লা সরাসরি নদীতে গিয়ে মিশছে, ফলে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। আমি চাই নদীটি আবার স্বচ্ছ হোক, নাব্যতা ফিরে পাক এবং মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনুক। নদী দখলমুক্ত হওয়াও জরুরি।
জলাবদ্ধতা সমস্যার প্রসঙ্গে হাজী ইলিয়াস বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কারণে মাধবদীর কিছু এলাকা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। এর ফলে কিছু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। আমি নির্বাচনের সময় সেখানে গিয়ে দেখি, মূল সমস্যা হলো ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব। পরে আমরা উদ্যোগ নিয়ে তিনটি ৬ ফুট হাইডলিং বোরিং করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করি। এতে অনেকাংশে জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব হয়েছে। ওই এলাকার মানুষ এর সাক্ষী। বর্তমান পৌর প্রশাসন নিয়ে তিনি বলেন, এখন পৌরসভায় কোনো জনপ্রতিনিধি নেই। আমার সময়ে কীভাবে কাজ করেছি, তা মাধবদীবাসী জানেন। কিন্তু গত ১৫ বছরে মাধবদীতে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। তিনি আরও বলেন, যদি আমাকে পুনরায় মেয়র নির্বাচিত করা হয়, তাহলে জলাবদ্ধতা সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেবো। সঠিক তদারকি থাকলে মশা-মাছি ও অন্যান্য সমস্যাও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের প্রায় সব পৌরসভার প্রধান সমস্যা হলো মানববর্জ্য ও অন্যান্য বর্জ্য। যদি আমরা এসব বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে সংগ্রহ করে সেগুলো থেকে শক্তি উৎপাদন করতে পারি, তাহলে তা বিভিন্ন এনার্জি খাতে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। আমি চাই, বর্জ্য ছড়িয়ে না রেখে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তা সম্পদে রূপান্তর করতে। রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার নেতা দেশনায়ক তারেক রহমান। তার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন হবে এটাই আমার প্রত্যাশা। সবশেষে হাজী মো: ইলিয়াস বলেন, আমি সবসময় মাধবদীবাসীর পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো। মাধবদীর মানুষ যদি চায়, তাহলে তাদের সহযোগিতায় আমরা একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও উন্নত পৌরসভা গড়ে তুলতে পারবো।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন