জাতীয় সংসদে হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ, কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (অ্যামেন্ডমেন্ট), ‘সিভিল কোর্টস (অ্যামেন্ডমেন্ট) সহ ১৪টি বিল পাস হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপ দিতে এসব বিল পাস করা হয়। বিলগুলোতে দফাওয়ারি কোনো সংশোধনী প্রস্তাব ছিল না। তাই বিলের ওপর সংসদে কোনো আলোচনা হয়নি। গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা উত্থাপনের পর বিলগুলো সরাসরি কণ্ঠভোটে পাস করা হয়। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্যদিয়ে অধিবেশন শুরু হয়। চলে রাত ৭টা ৩৯ মিনিট পর্যন্ত। এরমধ্যে সাড়ে ৩ ঘণ্টা বিরতি দেয়া হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন- স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। আজ সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার। সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ওদিকে অধিবেশনে বিল পাসের সময় আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান ও বিরোধীদলীয় নেতার মধ্যে বিতর্ক হয় এবং মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন-সংক্রান্ত বিল তুলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কথায় কিছুটা হাস্যরস সৃষ্টি হয় সংসদে।
গতকাল সকালের অধিবেশনে ৮টি বিল পাস হয়। পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল’ সংসদে পাসের জন্য প্রস্তাব করেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী। বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। এরপর পৃথকভাবে কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ‘সিভিল কোর্টস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ও রেজিস্ট্রেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল সংসদে পাসের প্রস্তাব করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। পৃথকভাবে বিলগুলো কণ্ঠভোটে পাস হয়।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল-সংক্রান্ত বিলটি পাসের প্রস্তাব করতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি এমন একটি বিল, যার মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় গুমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যারা বলছেন, সরকার গুম প্রতিরোধের আইন করতে চাইছে না, তাদের তিনি এ আইন ভালো করে দেখার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গুমের বিচারে বদ্ধপরিকর, সেটার বহিঃপ্রকাশ এই আইনে এসেছে।
বিলটি পাস হওয়ার পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আইনমন্ত্রী বিল পাসের প্রস্তাব করতে গিয়ে যা বলেছেন, তা অনাহূত। এটা না বললেই ভালো হতো। নির্দিষ্ট সময় যখন আসবে, তখন এ বিষয়ে তারা কথা বলবেন।
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সংসদের বাইরে অনেকে গুমের বিচার করার ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেছেন। সে কারণে এ বিল উপস্থাপনের আগে তিনি পরিষ্কার করেছেন যে, গুমের বিচারে সরকার কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পরে আইনমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাইরে কতজন কত কথা বলে- আপনি সংসদের আলোচনার মধ্যে, সংসদ সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখেন। স্পিকার বলেন, আইনবিধি অনুযায়ী যেটা গৃহীত হবে, সেটা নিয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
পরে অন্য বিল পাসের কার্যক্রম শুরু করেন স্পিকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত অন্য বিলগুলো পাসের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হেসে ফেলেন। মূলত নাম পরিবর্তনে আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। সেগুলোকে অনুমোদন করতে বিল পাস করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তার তিনটি বিল সংসদে তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। সেগুলো হলো- ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল ও শেখ হাসিনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন)। এর মধ্যে শেষের দু’টি বিল পাস হয়। দ্বিতীয় বিলটি উত্থাপনের সময় সালাহউদ্দিন আহমদ কিছুটা হেসে বলেন, খুব দুঃখের ব্যাপার! এতক্ষণ তো যা বললাম, এখন আবার শেখ হাসিনা বলতে হচ্ছে। এ সময় সংসদ সদস্যদের অনেককে হাসতেও দেখা যায়।
পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট (সংশোধন) বিল’ পাসের প্রস্তাব করেন। বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
বিকালের অধিবেশনে আরও ৬টি বিল পাস হয়। বিলগুলো হলো- ‘নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) বিল, ২০২৬’, ‘নির্দিষ্টকরণ বিল, ২০২৬’, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬’, ‘বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্যবিমোচন ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘শেখ রাসেল পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, রংপুর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘বাণিজ্যিক আদালত বিল, ২০২৬’।
গতকাল বিকালে পাস হওয়া বিলগুলোর পাশাপাশি ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল’ উত্থাপন করা হলেও এটি অধিকতর সংশোধনীসহ পরবর্তী সময়ে পাসের জন্য রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে সংসদে অনুমোদনের সুপারিশ করেছিল জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি রহিত করা এবং ১৬টি পরবর্তী সময়ে আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আনার সুপারিশ করা হয়।
সরকারি দলের সংসদীয় সভা অনুষ্ঠিত
গতকাল সরকারি দলের সংসদীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে সরকার দলীয় সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সংসদে ১৪টি বিল পাস
সংসদ রিপোর্টার
৮ এপ্রিল (বুধবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
