দিনদুপুরে চলন্ত বাসে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েছেন দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার কম্পিউটার বিভাগের জয়নাল আবেদিন জুয়েল। গতকাল দুপুরে রাজধানীর ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারের বাসা থেকে বের হয়ে অফিসে আসার পথে পল্টন এলাকায় এই ঘটনার শিকার হন তিনি। পরে অচেতন অবস্থায় জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকায় তাকে ফুটপাথে ফেলে রেখে চলে যায় বাসচালকরা। এ সময় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতালে নিয়ে যায়। জুয়েলের বড় বোন পারভীন আক্তার বলেন, বুধবার সকাল ১১টা ৫ মিনিটের দিকে জুয়েল বাসা থেকে বের হয়। বলেছিল- আমার একটু কাজ আছে। আমি কাজটা সেরে অফিসে চলে যাবো। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় সে মোট ৭০ হাজার টাকা নিয়ে বের হয়। ওই টাকা নিয়েই সে বাসে ওঠে।
এরই মধ্যে পল্টন এলাকায় এই ঘটনা। হাসপাতাল থেকে আমাদের কাছে ফোন আসে- জুয়েলকে অজ্ঞান করে সব নিয়ে গেছে। পরে আমরা ঢাকা মেডিকেলে আসি। তিনি বলেন, জুয়েল সাধারণত বাইরের কোনো কিছু কখনো খাই না। কিন্তু কালকে যখন সে বাসে বসে ছিল তার পাশের ছিটে বসা আরেকটি লোক তার ব্যাগ থেকে হালুয়া বের করে খেতে বলেন। প্রথমে কোনোভাবেই খেতে রাজি হয়নি জুয়েল। কিন্তু জোরাজুরির একপর্যায়ে ওই লোকটা জুয়েলের নাকের কাছে কিছু একটা ধরে। এরপরই জুয়েলের আর সেন্স ছিল না। এরপর ওই লোকটা নিজে হাতে জুয়েলের মুখের মধ্যে হালুয়া ঢুকিয়ে দেয়। ওই হালুয়া খাওয়ার পরই অচেতন হয়ে পড়ে সে। তার পকেটে থাকা ৭০ হাজার টাকা নিয়ে বাস থেকে নেমে পড়ে ওই অজ্ঞাত লোক। কিন্তু জুয়েলের পকেটে থাকা মোবাইলসহ আর অন্য কিছু খোয়া যায়নি। বর্তমানে সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পারভীন আক্তার বলেন, আমার ভাই তো আজকে মারাও যেতে পারতো। সে অচেতন হওয়ার পরও বাসচালকরা তাকে থানায় বা হাসপাতালে না নিয়ে নির্দয়ভাবে রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে কীভাবে চলে গেল, এই ঘটনার সঙ্গে বাসচালকদের যোগসাজশও থাকতে পারে বলে প্রশ্ন তোলেন তিনি। একইসঙ্গে এসব কর্মকাণ্ড রোধে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
