সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের তালিকায় রয়েছে ২৬৩ জন ছিনতাইকারীর নাম। যারা বিগত দিনে দাপিয়ে বেড়িয়েছে নগর। চ্যালেঞ্জ ছুড়েছে আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীকে। এখনো অনেকেই আছে মাঠে সরব। গ্রুপভিত্তিক বিভক্ত হয়ে তারা নগরে অঘটন ঘটিয়ে চলেছে। এতে বিব্রত পুলিশও। নগরের মানুষও আতঙ্কিত। মূল সড়কে পুলিশের পাহারা থাকলেও গলিপথেই বেশি ছিনতাই হচ্ছে। এজন্য নগরের মানুষ প্রয়োজন ছাড়া গলিপথ এড়িয়ে চলছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, কিশোর গ্যাংভিত্তিক অপরাধীরাও ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ আবার চাঁদাবাজি করছে। গেল রমজানে নগরের তাঁতিপাড়ায় এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটিয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে একটি গ্যাংয়ের সকল সদস্যকে। তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।
অতীতে রমজান মাসে নগরে ছিনতাই হতো বেশি। এবার খুব বেশি হয়নি। তবে দু’টি ঘটনা বেশ আলোচিত হয়েছে। একটি হচ্ছে হাউজিং এস্টেট ও অপরটি হচ্ছে সাগরদীঘির পাড়ে। দু’টো ঘটনার ভিডিও সিলেটে ভাইরাল হলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঈদ পরবর্তী সময়েও কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ দুই সাংবাদিকও আক্রান্ত হন। একটি ঘটনা নিয়ে পুলিশের ভিন্ন মত রয়েছে। এর আগে নগরের তালতলায় এক যুবকও হামলায় আহত হয়। এসব ঘটনা নিয়ে হঠাৎ করেই সিলেটে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এতে বিচলিত নয় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তারা। তাদের হাতে ছিনতাইকারীদের তালিকা আছে। গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর মাঠপর্যায়ে পুলিশের মনোবল শূন্যের কোটায় নেমে এসেছিল। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সরকারের সময় পুলিশও অপরাধ দমনে শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে।
গতি ফিরেছে কার্যক্রমে। সম্প্রতি সিলেট নগরে ছিনতাইয়ের ঘটনায় গত সোমবার রাতে সার্বিক বিষয় নিয়ে নিজ কার্যালয়ে ব্রিফ করেন মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী। এসময় তিনি সাংবাদিকদের অবগত করে বলেন, সিলেটের ২৬৩ জন ছিনতাইকারীর তালিকা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে অভিযান চালিয়ে তালিকাভুক্ত ৪৪ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তালিকাভুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের তরফ থেকে অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ৭ মাস আগে যখন তিনি মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন তখন চ্যালেঞ্জ নিয়ে দু’টি উল্লেখযোগ্য সমস্যার সমাধান করেছেন। একটি হচ্ছে- নগরের ফুটপাথ থেকে হকার উচ্ছেদ করা ও অন্যটি হচ্ছে- নগর থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা সরিয়ে দেয়া। দু’টিতেই পুলিশের সফলতা রয়েছে। প্রবাসী শহর হিসেবে নগরকে নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তোলতে তিনি কাজ করছে বলে জানান। মাঝে মাঝে ভিন্ন ঘটনাকে ছিনতাই সাজিয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে দাবি করেন তিনি।
পুলিশ কমিশনার বলেন, লো অ্যান্ড অর্ডারের ক্ষেত্রে অপরাধকে শূন্যের মাত্রায় নামিয়ে আনা একটা ইউরোপিয়ান চিন্তাভাবনা, এটা আসলেই করা সম্ভব না। অপরাধ একদমই থাকবে না, এটা বাস্তবিক ও আক্ষরিক অর্থে সম্ভব না। কিন্তু এটাকে একটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে যদি আনা যায়, সহ্যসীমার মাত্রা যদি আনা যায় তখন সেটাকে নিরাপদ শহর হিসেবে অনুভব করতে পারি। যদি এখানকার নিরাপত্তাটাকে ভালো রাখা যায়, পর্যটক আসতে আরও উৎসাহিত হবেন। সিলেটে অপরাধী ধরপাকড়ের পরিসংখ্যান তুলে ধরে পুলিশ কমিশনার জানান, গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৯ জন ডাকাত, ছিনতাইকারী ৪৮ জন, চোর ৯৫ গ্রেপ্তার করা হয়। জানুয়ারি থেকে মার্চ ২০ জন ডাকাত, ছিনতাইকারী ১০৩ জন, ১০৪ জন চোর গ্রেপ্তার করা হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ছিনতাইকারী গ্রেপ্তারের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। এতে প্রমাণিত হয় ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্সে রয়েছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন পরোয়ানায় অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরে মোট গ্রেপ্তার ২৬৬৭ জন এবং জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ৩০৪৩ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গেল রমজানেই শুধু ১১২৯ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
