১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

দেশে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর-পর্বে সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপুর এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এ কথা জানান। এসময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীরবিক্রম। গতকাল প্রশ্ন-উত্তর টেবিলে তা উত্থাপিত হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও সেবা প্রদানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। ২২শে জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে ৪৮তম বিসিএসের মাধ্যমে ২৯৮৪ জন সহকারী সার্জন, ২৭৯ জন ডেন্টাল সার্জন এবং ৪৪তম বিসিএসের মাধ্যমে ১৮ জন সহকারী সার্জন (এমবিবিএস) ও ২২ জন ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। এর আগে ১৮ই ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে ২৭তম বিসিএসের মাধ্যমে ১৬২ জন সহকারী সার্জনকে (এমবিবিএস ডাক্তার) নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে চিকিৎসকসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর মোট পদ সংখ্যা-১৯৬, কর্মরত-১৩৮ এবং শূন্য পদ-৫৮টি। চিকিৎসকদের ১ম থেকে ৯ম গ্রেড পর্যন্ত মোট ৩১টি পদের বিপরীতে ২১ জন কর্মরত আছেন এবং ১০টি পদ শূন্য রয়েছে। নার্সদের ক্ষেত্রে মোট ৩৬টি পদের মধ্যে ৩৫টি পদ পূরণকৃত এবং ১টি পদ শূন্য রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এ ছাড়া ১১তম থেকে ১৬তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের মোট ১০২টি পদের মধ্যে ৬৭টি পদ পূরণকৃত এবং ৩৫টি পদ শূন্য রয়েছে। ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেডে মোট ২৭টি পদের বিপরীতে ১৫টি পদ পূরণকৃত এবং ১২টি পদ শূন্য রয়েছে। উল্লেখ্য, এসব শূন্য পদ পূরণের কার্যক্রম ইতিমধ্যে চলমান রয়েছে। ধারাবাহিকভাবে নিয়োগ ও পদায়নের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সকল শূন্য পদ পূরণ করা হবে।
ওদিকে করোনা মহামারিতে দেশের মানুষের সুরক্ষায় ভ্যাকসিন কেনা বাবদ এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, করোনা মহামারি মোকাবিলায় সরকার কর্তৃক ভ্যাকসিনসহ করোনা সরঞ্জামাদি আমদানি ও কেনাকাটার জন্য ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে ৪ হাজার ৬৮৫ কোটি ২২ লাখ ২ হাজার ২৯৭ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। এই বরাদ্দ থেকে এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিন কেনায় ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
ভ্যাকসিন কার্যক্রমের অন্যান্য খাতের ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরে তিনি বলেন, ভ্যাকসিন প্রদানের জন্য সিরিঞ্জ ক্রয় বাবদ ৩০ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্যাকসিন পৌঁছে দেয়ার পরিবহন খরচ বাবদ ১৯ কোটি ৫৭ লাখ ৩ হাজার টাকা ৩৫৪ এবং সিরিঞ্জ শিপিং ও চার্জ হিসেবে ৯৯ লাখ ৭৮ হাজার ৯৮০ টাকা ব্যয় হয়েছে।
ভ্যাকসিন আমদানিতে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে কিনা-সংসদ সদস্যের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভ্যাকসিন ক্রয় ও সংরক্ষণ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিকট এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে সরকার সর্বদা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ সংক্রান্ত কোনো অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে দেশ দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সক্ষম হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন