গুম অধ্যাদেশটি অপ্রয়োজনীয় ছিল বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, গুমসংক্রান্ত অপরাধটি গুম অধ্যাদেশের আওতায় ছিল, সেটি ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে সংবিধিবদ্ধ ছিল। এ আইনে যে গুমের অভিযোগ বিচারের এখতিয়ার ছিল, সেখানে আরেকটি আইন ও ট্রাইব্যুনাল গঠন করার প্রয়োজনীয়তা ছিল বলে আমার কাছে মনে হয়নি। অর্থাৎ গুমের বিচার ট্রাইব্যুনাল আইনেই সম্ভব। মঙ্গলবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধন বিল জাতীয় সংসদে পাস হওয়ায় শুকরিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, গুম অধ্যাদেশ যদি বাতিল হয়ে থাকে এবং এটি ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্টের সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে আইনমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কারণ, আমার মনে হচ্ছে, গুম অধ্যাদেশ অপ্রয়োজনীয় আইন ছিল। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মায়ের ডাকের দাবি হচ্ছে গুমের ঘটনায় তারা ১০১টি অভিযোগ প্রসিকিউশনে দাখিল করেছেন, কিন্তু আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে ৭১টি আবেদন পেয়েছি। তো ১০১টি অ্যাপ্লিকেশন মানে কমপক্ষে ১০১টি ভিকটিম। তো খুব সঙ্গত কারণেই যে এত বৃহৎ সংখ্যক ভিকটিমদের যে ইনভেস্টিগেশন একটা সময় সাপেক্ষ। আর মায়ের ডাকের মানে ব্যানারের যে ভিকটিমগুলো, শহীদ পরিবারগুলো আছে সেটা কিন্তু একইসময়ে ঘটে নাই। দীর্ঘ একটা সময় ধরে সেই অপরাধগুলো সংঘটিত হয়েছে। সে কারণে এই অপরাধগুলো তদন্ত করতে গেলেও নিশ্চয়ই এটা খুব সহজ সাধ্য ইনভেস্টিগেশন না। একটু জটিল এবং অনেকগুলো গোপনীয় জিনিস আমাদেরকে ইনভেস্টিগেশনে বের করে নিয়ে আসতে হবে। সময় সাপেক্ষ বিষয়। তবে হ্যাঁ এটি গত এক বছর ধরে এটার আরও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়া প্রয়োজন ছিল বলে আমি অন্তত ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি যখন এই প্রসিকিউশনের দায়িত্বে আসি নাই, তখনও আমি প্রত্যাশা করেছিলাম যে, মায়ের ডাকের যে অভিযোগগুলো সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেগুলো ইনভেস্টিগেশন হবে। যেকোনো কারণেই করা যায়নি। তো আমি গতকালকে মায়ের ডাকের যারা ভিকটিম পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করেছে। আমি তাদেরকে আশ্বস্ত করেছি এভাবে যে অন্তত আগামী এক মাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটা অগ্রগতি ইনশাআল্লাহ আমরা তাদেরকে দেখাতে পারবো।
উল্লেখ্য, গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের বিচারের পথ প্রশস্ত করতে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস (সংশোধন) বিল ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে গুমকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। সংসদ অধিবেশনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
আবু সাঈদ হত্যায় অকাট্য প্রমাণ রয়েছে: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার অকাট্য প্রমাণ আছে। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। কাঙ্ক্ষিত একটি রায় পাবো বলে আমরা আশা করি। কেননা মামলাটি প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। গতকাল তিনি সাংবাদিকদের আরও বলেন, আবু সাঈদ জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শহীদ। যার নির্মম হত্যাকাণ্ডের চিত্র গোটা বিশ্ব দেখেছিল। জাতিসংঘের প্রতিবেদনেও বিষয়টি উঠে এসেছে। এ মামলার রায় ঘোষণা হবে আগামী ৯ই এপ্রিল। এ মামলায় ৩০ আসামি করায় দুর্বল হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আসামি বেশি হলে মামলা দুর্বল হবে, কম হলে শক্ত হবে এরকম কোনো বিষয় নেই। কেননা যারা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত, তারা বিচারের সম্মুখীন হবেন।
গুম অধ্যাদেশ অপ্রয়োজনীয় ছিল: চিফ প্রসিকিউটর
স্টাফ রিপোর্টার
৮ এপ্রিল (বুধবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
