মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্ধারিত সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শেষ মুহূর্তের আলোচনায় যুক্ত হয়েছে। পাকিস্তানের ইসলামাবাদ থেকে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় সহায়তা করছেন। আলোচনায় যুক্ত এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আলোচনা এখনো চলছে এটাই বড় বিষয়। তাদের অবশ্যই কোনো না কোনো সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।’ ইরানি এক কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেছেন, ‘আশা বাড়ছে।’ ইসলামাবাদে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম এক্সে লিখেছেন, ‘যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ উদ্যোগ এখন এক সংকটপূর্ণ ও সংবেদনশীল পর্যায়ে পৌঁছেছে। আরও আপডেটের জন্য অপেক্ষা করুন।’
পাকিস্তান প্রস্তাব দিয়েছে, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির পর তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা আয়োজন করতে পারে। পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্কের কূটনীতিকরা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য দূর করার চেষ্টা করছেন। মঙ্গলবার পাকিস্তান ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা কথা বলেন এবং উভয়েই উত্তেজনা কমানো ও সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ-এর সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। ট্রাম্প ওয়াশিংটন সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত চুক্তির সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন। তিনি সোমবার বলেন যে, ইরানের সর্বশেষ ১০ দফা প্রস্তাবে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে তা তার কাছে যথেষ্ট ভালো নয়।
তেহরান কেবল যুদ্ধবিরতি নয়, পুরো যুদ্ধের সমাপ্তি চায়- যাতে কয়েক মাস পর আবার সংঘাত শুরু না হয়। একটি প্রস্তাব হলো, যেকোনো চুক্তি যেন মার্কিন কংগ্রেস অনুমোদন করে, যাতে ভবিষ্যতে সহজে আবার ইরানের ওপর হামলা শুরু করা না যায়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্পের আলোচক দল ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, উইটকফ এবং উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার মনে করেন, একটি চুক্তির চেষ্টা করা উচিত। তবে একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইল এবং সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধবিরতি মেনে না নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, একটি ম্যাড ডগের মতো সবচেয়ে বেশি রক্তপিপাসু একজন প্রেসিডেন্ট।
