টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে না খেলতে পারার আক্ষেপে পুড়ছে ইতালি। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বমঞ্চে খেলবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। আগামী জুন-জুলাইয়ের মহাযজ্ঞকে সামনে রেখে এক বিস্ময় বালককে নিয়ে মেতেছে বসনিয়া ফুটবল। স্রেফ ১৪ বছর বয়সী এই বল বয় এখন আখ্যা পাচ্ছেন জাতীয় বীর হিসেবে। আফান সিজমিক নামের সেই কিশোরের বুদ্ধিমত্তার কাছে পরাস্ত হন খোদ ইতালিয়ান গোলকিপার জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা!
গত সপ্তাহের ইউরোপিয়ান প্লে অফ ফাইনালের নাটকীয় পেনাল্টি শুটআউটে দোন্নারুম্মার ‘চিট শিট’ সরিয়ে ফেলেন সিজমিক। এই চিট শিট এমন একটি কাগজ, যেখানে খেলোয়াড় অনুযায়ী পেনাল্টি ঠেকানোর কৌশল গোলকিপাররা লিখে রাখেন। বসনিয়ান গোলকিপার নিকোলা ভাসিলির কাগজ ছিঁড়ে ফেলার উত্তেজনার সুযোগ নিয়ে সিজমিক জালে ঢুকে দোন্নারুম্মার তালিকার কাগজটি লুকিয়ে ফেলে। ম্যানচেস্টার সিটির তারকা গোলকিপার দোন্নারুমা নিজের কাগজটি না পেয়ে রেফারিকে নালিশও করেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। তিনি একটিও পেনাল্টি আটকাতে না পারলে আরেকবার কপাল পোড়ে আজ্জুরিদের।
বসনিয়ান টিভি চ্যানেল ‘ফেইস’-এ এক সাক্ষাৎকারে স্থানীয় ক্লাব এনকে চেলিকের তরুণ স্ট্রাইকার সিজমিক সেই রোমাঞ্চকর মুহূর্তের বর্ণনা করেন। সিজমিক বলেন, ‘আমি কাগজের টুকরোটি দেখেই বুঝতে পারি ওটা কী। আমি দ্রুত ওটা সরিয়ে ফেলি এবং লুকিয়ে রাখি। ওখানে আমাদের সব খেলোয়াড়ের পেনাল্টি নেয়ার ধরন লেখা ছিল। ওই কাগজটা ছাড়া দোন্নারুম্মা কেবল তার সহজাত প্রবৃত্তি ছাড়া আর কিছুর ওপর নির্ভর করতে পারছিলেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘দোন্নারুম্মা কাগজটি না পেয়ে প্রচণ্ড হতাশ এবং রাগান্বিত ছিলেন। তিনি তোয়ালে বের করে দেখেন কাগজটি নেই। অনেক খুঁজেও তিনি আর তা পাননি।’
এমন কাণ্ডের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যে মহাতারকা বনে গেছেন সিজমিক। সেই ঐতিহাসিক কাগজটি নিলামে তুলে সেখান পাওয়া অর্থ চ্যারিটিতে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। বসনিয়ার সমর্থকদের দাবি, আসন্ন বিশ্বকাপে যেন এই কিশোরকে দলের সঙ্গে তাদের ‘লাকি চার্ম’ হিসেবে রাখা হয়।
