বলকান ড্রাগনদের মুখোমুখি স্বাগতিক কানাডা

বলকান ড্রাগনদের মুখোমুখি স্বাগতিক কানাডা

ফন্ট সাইজ:

মাত্র কয়েক ঘণ্টা। ইতিহাসের অংশ হতে চলেছে কানাডা। প্রথমবার বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচ তারা খেলবে ঘরের মাঠে। চারদিকে উন্মাদনা। প্রত্যাশার চাপ আকাশচুম্বী। কী ঘটবে এবার। কতোদূর এগোবে সহ-আয়োজকরা- নানা প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে ভক্ত-সমর্থকদের মনে। একদিকে কোচ জেসি মার্শের দল প্রথম জয়ের স্বপ্নে বিভোর।

অন্যদিকে স্বাগতিক বধের ছক কষছে বসনিয়া হার্জেগোভিনা। ‘বি’ গ্রুপে বলকান ড্রাগনদের বিপক্ষে কানাডা নামবে আজ রাত ১টায়। ভেন্যু টরন্টো স্টেডিয়াম। ‘বি’ গ্রুপের বাকি প্রতিপক্ষ কাতার ও সুইজারল্যান্ড। ফলে প্রথম ম্যাচে জয় চায় দু’দলই। কানাডার তারকা খেলোয়াড় জোনাথন ডেভিড বলেন, ‘প্রথমত, আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন আমরা গোল পাই। এরপর বিশ্বকাপে একটি ম্যাচ জেতা হবে কানাডার জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তারপর আমাদের লক্ষ্য থাকবে এই টুর্নামেন্টে যতদূর সম্ভব এগিয়ে যাওয়া।’ বসনিয়ার অধিনায়ক এডিন জেকোও থেমে যেতে চান না এখনই। তরুণদের নিয়ে জেকো যেতে চান বহুদূর। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৩ গোল করা এই তারকা বলেন, ‘কখনো না কখনো আমাদের সবারই শেষ আসে। হয়তো আমার শেষটাও খুব কাছাকাছি। তবে ঠিক এখনই নয়।’ কানাডা তৃতীয়বার কোনো আসরে অংশ নিতে যাচ্ছে। ১৯৮৬ ও ২০২২ সালে তারা গ্রুপ পর্বেই বিদায় নেয়। এখনো পর্যন্ত বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ জেতার রেকর্ড নেই। ঘরের মাঠে বসনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিকে তাই পাখির চোখ করছে জেসি মার্শের শিষ্যরা। তবে চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আসা বসনিয়াও ছেড়ে কথা বলবে না। বসনিয়ান কোচ সের্গেই বারবারেসের হুঙ্কার, ‘সেই প্রথম ম্যাচটিতে যখন আমাদের জাতীয় সংগীত বাজবে, তা হবে আমার জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ওই তিন সেকেন্ড কেবলই আমার থাকবে। প্রথমত, আমরা মাঠে দেখাবো আমরা আসলে কে। আমাদের এই পর্যন্ত আসার ফলাফলই আমাদের হয়ে কথা বলছে। আমরা প্রতিটি প্রতিপক্ষের জীবন কঠিন করে তুলবো। আমরা প্রমাণ করতে চাই যে সেরা দলগুলোর সঙ্গে কাঁধ মেলানোর যোগ্যতা আমাদের আছে।’ কানাডিয়ান কোচ মার্শও প্রতিপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘ বসনিয়া যা অর্জন করেছে এবং দেশটির খেলোয়াড়রা যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বড় হয়েছে, তার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। আমি আনন্দিত যে তারা বিশ্বকাপে আসতে পেরেছে। আমি জানি, আমাদের প্রথম ম্যাচটি অত্যন্ত কঠিন হতে যাচ্ছে। এটি একটি লড়াকু দল। এডিন জেকো তাদের এই কোয়ালিফাই করার সাফল্যকে তার একদল বন্ধুর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন, যারা তার ছোটবেলায় একটি বোমা হামলায় নিহত হয়েছিল। এই সন্তানেরা একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে বড় হয়েছে এবং তাদের অনেকেই ভাগ্যক্রমে বেঁচে ফিরতে পেরেছে।’

র‌্যাংকিংয়ে ৩০ নম্বরে থাকা কানাডা শেষ ১৭ আন্তর্জাতিক ম্যাচে হার দেখেছে মাত্র একটিতে। তবে সর্বশেষ চার ম্যাচই ড্র করেছে জেসে মার্শের দল। অন্যদিকে ৬৫ নম্বরের দল বসনিয়া ১২ বছর ফিরেছে বিশ্বমঞ্চে। শেষবার গ্রুপ পর্বেই যাত্রা শেষ হয়ে গিয়েছিল তাদের। বলকান প্রতিনিধিরা অবশ্য সেবার একেবারে খালি হাতে ফেরত যায়নি। ইরানের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ের সুখস্মৃতি তাদের আত্মবিশ্বাসের উপলক্ষ। উত্তর আমেরিকার টিকিট কাটা এতটাও সহজ ছিল না বসনিয়ার। বাছাই পর্বে প্লেঅফে ওয়েলস এবং চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে হারিয়ে ‘বি’ গ্রুপে জায়গা করে নেন জেকোরা। তবে কানাডার মতো তারাও ধুঁকছে গোলখরায়। প্রস্তুতি ম্যাচ দুটিতে করেছে ড্র।

এই ম্যাচে কানাডার সবচেয়ে বড় ক্ষতি আলফোনসো ডেভিসের না থাকা। বায়ার্ন মিউনিখ তারকা এখনো হ্যামস্ট্রিং চোট কাটিয়ে উঠতে পারেননি। সাম্প্রতিক প্রীতি ম্যাচগুলোতে এডিন জেকোকে খেলানো হয়নি। হয়তো মূল মঞ্চের জন্যই অভিজ্ঞ এই তারকাকে বিশ্রাম দিয়েছেন কোচ বারবারেস। ৪০ বছর বয়সে যে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ জুটবে তা ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি জেকো। ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক এই তারকা এখন জার্মান বুন্দেসলিগার দল শালকে জিরো ফোর-এর হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন। ২০২৫-২৬ মৌসুমে লীগে মাত্র ১১ ম্যাচে ৬ গোল ও তিন অ্যাসিস্ট করেছেন। ​ফুটবলের ইতিহাসে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কানাডা এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এর আগে কখনো একে অপরের মুখোমুখি হয়নি। কাজেই এই ম্যাচে স্পষ্ট ফেভারিট নয় কেউই। স্বাগতিকদের বড় শক্তি দর্শক উন্মাদনা। ম্যাচের ভেন্যু টরন্টো স্টেডিয়ামের নিয়মিত আসন সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার হলেও, ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে অস্থায়ী আসন যোগ করে এর ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে ৪৫ হাজার ৭৩৬ করা হয়েছে। ২০০৭ সালে যাত্রা শুরু করা স্টেডিয়ামটি মেজর লীগ সকারের (এমএলএস) দল টরন্টো এফসি এবং কানাডিয়ান ফুটবল লীগের টরন্টো আরগোনটস-এর হোম গ্রাউন্ড। কানাডিয়ান ফুটবলের অন্যতম দুর্গ বলা হয় এটিকে।


এডিন জেকো
ম্যাচ গোল অ্যাসিস্ট
১৪৮ ৭৭ ৭৩
জোনাথন ডেভিড
ম্যাচ গোল অ্যাসিস্ট
৩৯ ৩০ ২০

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন