ব্যর্থতার দ্বারপ্রান্ত থেকে শেষ মুহূর্তে যেভাবে সফল হয় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধার অভিযান

ব্যর্থতার দ্বারপ্রান্ত থেকে শেষ মুহূর্তে যেভাবে সফল হয় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধার অভিযান

ফন্ট সাইজ:

ইরানে চালানো এক ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযানে শেষ মুহূর্তে বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়েও মার্কিন সেনারা সফল হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্ধকারের আড়ালে গভীর রাতে মার্কিন কমান্ডোরা গোপনে ইরানের ভেতরে প্রবেশ করে, প্রায় ৭ হাজার ফুট উঁচু দুর্গম পাহাড়ি এলাকা অতিক্রম করে আটকে পড়া মার্কিন অস্ত্র বিশেষজ্ঞকে উদ্ধার করা হয়। ভোর হওয়ার আগেই সব কিছু প্রায় নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।

কিন্তু হঠাৎ করেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। অভিযানে অংশ নেয়া দুটি এমসি-১৩০ বিমান যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উড্ডয়নে ব্যর্থ হয়। এতে প্রায় ১০০ জনের মতো মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সদস্য ইরানের ভেতরে আটকে পড়ার ঝুঁকিতে পড়ে যান। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে অতিরিক্ত বিমান পাঠানোর নির্দেশ দেন কমান্ডাররা। কয়েক ঘণ্টার উত্তেজনাপূর্ণ অপেক্ষার পর ধাপে ধাপে সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ঝুঁকি এড়াতে অচল হয়ে পড়া বিমান এবং আরও চারটি হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করে দেয় মার্কিন বাহিনী।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর দিয়ে জানিয়েছে, এই অভিযানটি চলমান সংঘাতের সবচেয়ে বিপজ্জনক মুহূর্তগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও এটি একটি স্বস্তির বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

উদ্ধার হওয়া মার্কিন কর্মকর্তা ছিলেন একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমানের ক্রু সদস্য। ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে বিমানটি ভূপাতিত হলে দুইজন আলাদা স্থানে অবতরণ করেন। একজনকে দ্রুত উদ্ধার করা গেলেও অন্যজন আহত অবস্থায় পাহাড়ি এলাকায় লুকিয়ে ছিলেন। পরে তিনি মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে নিজের পরিচয় নিশ্চিত করেন, যা উদ্ধার অভিযানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

অভিযানের আগে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ একটি ভুয়া তথ্য প্রচার চালায়, যাতে ইরান মনে করে যে নিখোঁজ সদস্যকে আগেই উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য পথগুলোতে বোমা হামলা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত করে এলাকাটি বিচ্ছিন্ন করা হয়, যাতে কেউ কাছে আসতে না পারে।

শুরু থেকেই এই উদ্ধার প্রচেষ্টা সহজ ছিল না। ইরানের পক্ষ থেকে প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়ে মার্কিন বাহিনী। অভিযানে অংশ নেয়া দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারও ইরানি হামলার শিকার হলেও সেগুলো নিরাপদে ফিরে আসে। একই সময়ে আরেকটি এ-১০ যুদ্ধবিমান কুয়েতে বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।
মার্কিন সামরিক সূত্র জানিয়েছে, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তবে কোনো মার্কিন সেনা এখনো ইরানের হাতে বন্দি হয়নি।

যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে দুর্বল বলে দাবি করেছেন, তবে মার্কিন যুদ্ধবিমানে ধারাবাহিক আঘাত হানার ঘটনা ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ইরান জানিয়েছে, তারা নতুন ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে।

অভিযান সফলভাবে শেষ হওয়ার পর ট্রাম্প একে মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম সাহসী উদ্ধার অভিযান বলে উল্লেখ করেন এবং হুঁশিয়ারি দেন, তেহরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

MD Khan

২ মাস আগে

আমেরিকার মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের ইউরেনিয়াম কব্জা করা। কিন্তু ইরান আগেই টের পেয়েছে। যার জন্য আমেরিকা সফল হয় নাই। বিমানের পায়লট উদ্ধারের ঘটনাটা ছিল লোক দেখানো।

মন্তব্য করুন