ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পাইলট উদ্ধার অভিযানের ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সাফল্য বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। গতকাল সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১১টায় হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়া মার্কিন সৈন্যদের ব্যাপক প্রশংসা করেন তিনি। বলেন, এটা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ঐতিহাসিক ঘটনা। অভিযানটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, খড়ের গাদার মাঝে সুচ খোঁজার মতো করে বিমানচালকদের উদ্ধর করা হয়। এছাড়া উদ্ধার অভিযানের ঘটনা আগেভাগে প্রকাশ করায় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে জেলে পাঠানোর হুমকিও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বলেছেন, যিনি এই সংবাদ আগেই প্রকাশ করেছেন তাকে আমরা খুঁজছি।
ট্রাম্প জানান, অভিযানটিতে অংশ নেয় দেড়শতাধিক বিমান। যার মধ্যে চারটি বোমারু বিমানও ছিল। সংবাদ সম্মেলনে ইরানকে লক্ষ্য করেও কঠোর হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে এক রাতের মধ্যেই ইরানকে ধ্বংস করে দিতে পারে, আর সেই রাত হতে পারে আগামীকাল। অর্থাৎ তিনি তার দেয়া আল্টিমেটামের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। যা মার্কিন সময় মঙ্গলবার রাত ৮টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৬টা) শেষ হওয়ার কথা।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের পাশে উপস্থিত ছিলেন- প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, সিআইএ এর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ এবং সামরক প্রধান ড্যান কেইন। তারা সকলেই ট্রাম্পের পর এক এক করে কথা বলেন। তাদের মুখে ছিল ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসা। পিট হেগসেথ ইরানে সর্বোচ্চ মাত্রার হামলার হুমকি দেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধার অভিযানকে কেন্দ্র করে নতুন করে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। এছাড়া তিনি বিমানচালককে উদ্ধারের ঘটনাকে সামরিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন। উদ্ধার অভিযানটি ট্রাম্পের জন্য এক সংকটময় পরিস্থিতিকে ঘুরিয়ে দেয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা এবং জনসমর্থন হারানো এই যুদ্ধে নিজের নেতৃত্বকে শক্তিশালী হিসেবে তুলে ধরতে তিনি ঘটনাটিকে গুরুত্ব বেশ গুরুত্ব দিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো সংবাদ করলেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি সরাসরি জনগণের উদ্দেশে ইরান যুদ্ধ নিয়ে বক্তব্য দেন। তবে এই যুদ্ধ শুরুর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সমালোচনার মুখে পড়েছেন। গত সপ্তাহের তার টেলিভিশন ভাষণটি ছিল অস্পষ্ট। এছাড়া ইস্টার সানডেতে সামাজিক মাধ্যমে তার আক্রমণাত্মক ভাষা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়। এতে তার মানসিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবারের ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প উদ্ধার অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, আহত এক পাইলট দুই দিন ধরে ইরানের ভেতরে লুকিয়ে ছিলেন। উদ্ধারকারী দল দুর্গম পাহাড়ি এলাকা পেরিয়ে এবং বালুময় স্থানে আটকে থাকা বিমান সরানোর চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত শত্রুর হাতে পড়ার আশঙ্কায় কিছু যন্ত্রপাতি ধ্বংস করা হয়।
ট্রাম্প বলেন, এই অভিযানে শত শত সেনা সদস্য অংশ নিয়েছিলেন এবং এতে অনেকের প্রাণহানির ঝুঁকি ছিল। যদিও সামরিক কর্মকর্তারা শুরুতে এই অভিযান নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো, যেখানে অনেকেই প্রশ্ন করার সুযোগ পেতে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন। ট্রাম্প এই ঘটনাকে ভবিষ্যতে চলচ্চিত্রে রূপ দেয়ার কথাও ইঙ্গিত দেন।
ইরান যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধান নিয়েও ট্রাম্প হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা যথেষ্ট সহায়তা করছে না এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। তিনি বলেন, আমি এখনই বলতে পারছি না, আমি জানি না। তবে সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে বলেন, আমরা জিতেছি। তারা সামরিকভাবে পরাজিত।
