তেলের দাম আবার ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এরপরই রবিবার তেলের দাম বেড়ে যায়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন। এতে বলা হয়, বিশ্ববাজারের ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শতকরা ১.৪ ভাগ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০.৬০ ডলারে পৌঁছায়। মার্কিন ক্রুডের দাম শতকরা ১.৮ ভাগ বেড়ে দাঁড়ায় ১১৩.৬০ ডলার। রবিবার সকালে ট্রুথ সোশ্যালে ডনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, ‘মঙ্গলবার হবে পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে এবং ব্রিজ ডে- সব একসাথে, ইরানে। এর মতো কিছু আর হবে না!!! ওই ফাকইন প্রণালি খুলে দাও, তোমরা পাগল বাস্টার্ডস, না হলে নরকে বাস করবে- দেখে নিও!’ তার এই মন্তব্য নিয়ে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষীয়ান সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, সিনেটে সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার, টেইলর গ্রিন সহ রাজনীতিকরা ট্রাম্পকে মানসিক ভারসাম্যহীন উন্মাদ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
ট্রাম্পের হুমকির জবাবে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানান, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ ‘পূর্ণভাবে’ না পাওয়া পর্যন্ত প্রণালি খোলা হবে না। এর আগে ২১ মার্চ ট্রাম্প একই ধরনের দুই দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন, যা পরে বাড়িয়ে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। এই হুমকি ট্রাম্পের আগের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, কারণ গত সপ্তাহেই তিনি বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের হরমুজ প্রণালি প্রয়োজন নেই। তিনি এটাকে ন্যাটো বা ইউরোপের নেতারা এবং তার মিত্রদের ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন। ওমান রবিবার ইরানের সঙ্গে বৈঠক করে প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা করেছে বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। রবিবার ভার্চুয়াল বৈঠকের পর ওপেক+ দেশগুলো জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা এক বিবৃতিতে জানায়, চাহিদা পুনরুদ্ধার করা ‘ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ।’ একই সঙ্গে মে মাস থেকে প্রতিদিন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। রবিবার এক গ্যালন জ্বালানির দাম দাঁড়িয়েছে ৪.১১ ডলার, যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ৩৮ ভাগ বেড়েছে। শুক্রবার বাজার বন্ধ থাকার পর রবিবার শেয়ারবাজারে পতন দেখা গেছে। ডাও ফিউচারস ০.৬৯ ভাগ (৩২৪ পয়েন্ট) কমেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচারস ০.৭৬ ভাগ কমেছে। নাসডাক ফিউচারস কমেছে শতকরা ০.৯১ ভাগ।
