আমরা পুরো ইরান উড়িয়ে দেব, ট্রাম্পের আল্টিমেটামে যুদ্ধাপরাধের আশঙ্কা

আমরা পুরো ইরান উড়িয়ে দেব, ট্রাম্পের আল্টিমেটামে যুদ্ধাপরাধের আশঙ্কা

ফন্ট সাইজ:

কোনো আলটিমেটামের কাছে ইরান মাথানত না করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ‘পুরো ইরানকে উড়িয়ে দেয়ার’ হুমকি দিয়েছেন। নতুন করে তিনি বলেছেন, মঙ্গলবারের মধ্যে যদি তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারে, তাহলে ‘পুরো ইরান উড়িয়ে দেবেন’। ট্রাম্প ইতিমধ্যেই এমনসব অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন যা ইরানের সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাধারণ নাগরিকদের অধিকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমন সব অবকাঠামোতে যদি সত্যি হামলা চালানো হয়, তাহলে তা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। তবে এতদিন তেহরান যে ভাষায় কথা বলে এসেছে, এখনও সেই একই সুর তাদের। তারাও পাল্টা সতর্কতা দিয়েছে। বলেছে, পাল্টা জবাবে তারাও ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের অবকাঠামোয় একই ধরনের হামলা চালাতে পারে।

উল্লেখ্য, ইরান এবং আঞ্চলিক কয়েকটি মধ্যস্থতাকারী দেশ ৪৫ দিনের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনা করছে। যদি এই আলোচনা সফল হয় তাহলে তা স্থায়ীভাবে যুদ্ধের ইতি টানতে পারে। মার্কিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেয়া একাধিক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে ‘আমরা পুরো দেশটাই উড়িয়ে দেব।’

অ্যাক্সিওস ও ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে তাকে উদ্ধৃত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘চুক্তি হওয়ার ভালো সম্ভাবনা আছে। কিন্তু যদি তারা চুক্তি না করে, তাহলে আমি ওখানকার সবকিছু উড়িয়ে দেব।’ তিনি আরও দাবি করেন, ইরান ‘ধ্বংস হয়ে গেছে, পুরোপুরি ধ্বংস।’ এবিসি নিউজকে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন তাদের আরও সেতু বানাতে হবে, আরও বিদ্যুৎকেন্দ্র বানাতে হবে এবং আরও অনেক কিছু। কোনো দেশ কখনো এত বড় আঘাত পায়নি।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাধারণ মানুষের ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, তার মতে যারা নিজেদের সরকারের বিরোধী, তারা এমন হামলাকে সমর্থন করবে। কারণ এতে ইরানের শাসনব্যবস্থা দুর্বল হবে। তিনি অ্যাক্সিওসকে বলেন, তারা ভয়ের মধ্যে আছে। তারা ভয় পাচ্ছে আমরা মাঝপথে যুদ্ধ ছেড়ে চলে যাব। কিন্তু আমরা যাচ্ছি না।

ওদিকে গত দুই সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্কের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া। তবে এ পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারীরা খুব আশাবাদী নন যে দ্রুত কোনো চুক্তি হবে। তবে তারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাবেন অন্তত আংশিক একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে, যাতে ট্রাম্পের আল্টিমেটাম কিছুটা হলেও পিছিয়ে দেয়া যায়।

চুক্তি না হলে ট্রাম্প ইরানের সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছেন। রবিবার ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ‘মঙ্গলবার হবে পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে, আর ব্রিজ ডে- সব একসাথে, ইরানে। এর মতো কিছু আর হবে না!!! ওই অভিশপ্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দাও, তোমরা পাগল মানুষগুলো, না হলে নরকে বাস করবে-দেখে নিও! আল্লাহ মহান।’

ট্রাম্পের এই আল্টিমেটামের জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ‘তোমার বেপরোয়া পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি পরিবারের জন্য এক জীবন্ত নরক ডেকে আনছে।’ তিনি ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করেন যে তিনি ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নির্দেশ অনুসরণ করছেন।’ গালিবাফ আরও বলেন, ‘ইরানি জনগণের অধিকারকে সম্মান করতে হবে এবং এই বিপজ্জনক খেলা বন্ধ করতে হবে।’

লিমা

২ মাস আগে

সন্ত্রাসী ডামকে আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাড় করাতে হবে তাকে ফাসি দিতে হবে।

A R Sarker

২ মাস আগে

আল্লাহর কৌশলই চুড়ান্ত।

মন্তব্য করুন