স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুতিতে দুর্বলতা আছে। বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও দুর্বল পারফরম্যান্সের প্রেক্ষাপটে এলডিসি উত্তরণ-পূর্ববর্তী ঝুঁকি নিয়েই বেশি আলোচনা হচ্ছে।
রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এলডিসি উত্তরণ নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইউএন-ওএইচআরএলএলএস বাংলাদেশের প্রস্তুতি নিয়ে পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে প্রস্তুতির ঘাটতির কথা বলা হয়েছে।
ইউএন-ওএইচআরএলএলএস স্বল্পোন্নত দেশগুলো নিয়ে কাজ করে থাকে। বৈঠকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে র্যাপিডের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির বিভিন্ন ঘাটতি ও ঝুঁকির কথা তুলে ধরা হয়। যেমন কঠিন রাজনৈতিক পালাবদল এবং দীর্ঘ অর্থনৈতিক সংকট দেশের আর্থসামাজিক অর্জনকে ম্লান করছে, যা দেশের এলডিসি উত্তরণকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। এলডিসি উত্তরণের পর যে বাণিজ্য ক্ষতি হবে, তা নিয়ে প্রস্তুতির ঘাটতি আছে। এ ছাড়া বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও দুর্বল পারফরম্যান্সের প্রেক্ষাপটে এলডিসি উত্তরণ-পূর্ববর্তী ঝুঁকি নিয়েই বেশি আলোচনা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও দুর্বল পারফরম্যান্সের প্রেক্ষাপটে এলডিসি উত্তরণ-পূর্ববর্তী ঝুঁকি নিয়েই বেশি আলোচনা হচ্ছে। বাস্তব অর্থে, এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় আর্থিক প্রস্তুতি দুর্বল। এ ছাড়া এলডিসি নিয়ে মসৃণ উত্তরণ কৌশলের (এসটিএস) বাস্তবায়নও কম।
জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা প্রস্তুতির অভাবে তিন বছর পিছিয়ে দেয়ার আবেদন করা হয়েছে।
সভা শেষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান পটভূমিতে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের দিকে যাওয়ার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা খুবই খারাপ। বর্তমান সরকার আগের সরকারের কাছ থেকে যে দুরবস্থায় অর্থনীতিকে পেয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে পারলে এলডিসি নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই গত ফেব্রুয়ারি মাসে এলডিসি উত্তরণ পেছাতে জাতিসংঘকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে। এরপর অর্থমন্ত্রী আজ এ কথা বলেন।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে যারা একটু পিছিয়ে আছে, তাদের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকায় রাখে জাতিসংঘ। এসব দেশ যাতে এলডিসি উত্তরণ হতে পারে, সে জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে নানা ধরনের সাহায্য ও সহযোগিতা দেয়া হয়।
এলডিসি থেকে কোন দেশ বের হবে, সে বিষয়ে সুপারিশ করে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) অধীন কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)।
তিন বছর পরপর এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর ত্রিবার্ষিক মূল্যায়ন করা হয়। মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা- এই তিন সূচকের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়, কোনো দেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্য কিনা।
যেকোনো দুটি সূচকে উত্তীর্ণ হতে হয় অথবা মাথাপিছু আয় নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণ হতে হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব মানদণ্ড অবশ্য পরিবর্তিত হয়।
বাংলাদেশ ২০১৮ ও ২০২১ সালের ত্রিবার্ষিক মূল্যায়নে তিনটি সূচকেই উত্তীর্ণ হয়। ২০২১ সালেই চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হবে। তবে করোনার কারণে প্রস্তুতির জন্য দুই বছর সময় বাড়ানো হয়। এ বছরের (২০২৬ সাল) নভেম্বরে এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা ঠিক করা আছে।
১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকাভুক্ত হয়। এলডিসিভুক্ত থাকার সুবাদে পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত-সুবিধাসহ নানা সুযোগ পেয়ে এসেছে।
এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিতে দুর্বলতা আছে: জাতিসংঘের প্রতিবেদন
অর্থনৈতিক রিপোর্টার
৬ এপ্রিল (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
