সর্বগ্রাসী কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে দিশাহারা সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে নদী ভাঙনের ফলে অনেকে হারিয়েছেন শেষ সম্বল বসতভিটা। নদীর পেটে চলে গেছে অসংখ্য মসজিদ, কবরস্থান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, ফসলি জমি। এবার দীর্ঘদিন ধরে ধীরে ধীরে ভাঙনের কবলে উপজেলার শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের পনাইরচক গ্রামের শাহ সৈয়দ শদাই (রহ.) মাজার ও মাজার-মসজিদ। শাহ সৈয়দ শদাই (রহ.) মাজার ও মাজার-মসজিদের ভাঙন ঠেকাতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, গোলাপগঞ্জ উপজেলার শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের পনাইরচক গ্রামে কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী শাহ সৈয়দ শদাই (রহ.) এর মাজার রয়েছে। মাজারের পাশে রয়েছে মসজিদ। প্রতি বছর মাজারে ভক্তদের আনাগোনা থাকে। নদী তীরবর্তী গ্রামের মানুষের অন্যতম প্রধান সমস্যা নদী ভাঙন। প্রতি বছর নদী ভাঙনের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন স্থানীয়রা। মাজারের পাশে মসজিদে যাওয়া-আসার একমাত্র রাস্তাটিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে মাজার ও মসজিদের ভাঙন রোধ করলেও এবার গত ৩-৪ দিন ধরে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। নতুন করে ভাঙন দেখা দেয়ায় হযরত শাহ সৈয়দ শদাই (রহ.) এর মাজারের নিচ থেকে মাটি সরে গেছে। মাজারসহ মসজিদের আশপাশে বড় আকারে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারিভাবে যদি ভাঙন রোধ করা না যায়, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যে মাজারসহ মসজিদের একাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। একদিকে গত বছরের ২০শে জানুয়ারি সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড, গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ভাঙন রোধে এলাকাবাসীর পক্ষে স্মারকলিপি দেয়া হয়। সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাঙন রোধে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। স্থানীয় ইউপি সদস্য সামছুল ইসলাম গেদাই বলেন, ‘মাজার ও মসজিদ রক্ষায় প্রায় ২ মাস আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে একটি বাজেট হয়েছে। কন্ট্রাক্টর কয়েকবার এসে দেখে গেছেন কিন্তু কাজ হচ্ছে না। গতদিনও তিনি এসেছেন। বলেছেন কাজ শুরু হবে।’ এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েক বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। উনারা হয়তো বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকল্পটি নিতে পারেনি। সম্প্রতি তারা প্রকল্পটি নিয়েছে, সামনে বাস্তবায়ন করবে।
কুশিয়ারায় বিলীনের পথে মাজার-মসজিদ
গোলাপগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি
৬ এপ্রিল (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
