বোর্ড নয় ক্লাবের দায় দেখছেন আশরাফুল

বোর্ড নয় ক্লাবের দায় দেখছেন আশরাফুল

ফন্ট সাইজ:

দেশের ক্রিকেটে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ। ঐতিহ্যবাহী এই আসর মাঠে গড়ানো নিয়ে তৈরি হয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা। বর্তমান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে অবৈধ দাবি করে আসর বর্জনের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে ঢাকার বেশির ভাগ ক্লাব। শীর্ষ স্তরের ১২টি দলের মধ্যে মাত্র তিন থেকে চারটি দল খেলার পক্ষে মত দিয়েছে। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগের অধিকাংশ ক্লাবও খেলা বয়কট করেছে। অচলাবস্থা নিরসনে সিসিডিএম আগামী ৮ই এপ্রিল ক্লাবগুলোকে নিয়ে জরুরি সভা ডেকেছে। এমন ঘোলাটে পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কোনো দায় দেখছেন না জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। উল্টো ক্লাবগুলোর অসহযোগিতাকেই বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি। তিনি মনে করেন, আয়োজক হিসেবে বিসিবি তাদের দায়িত্ব ঠিকভাবেই পালন করেছে। এখন দলগুলো মাঠে না এলে বোর্ডের আসলে কিছুই করার থাকে না। এ প্রসঙ্গে সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘অবশ্যই খারাপ লাগছে যে এখানে কিন্তু বোর্ডের কোনো হাত নেই। বোর্ড কিন্তু সবকিছু প্রস্তুত করে রেখেছে- তারা মাঠ প্রস্তুত রেখেছে, আম্পায়ার প্রস্তুত রেখেছে, বল প্রস্তুত রেখেছে, সবকিছুই ঠিক আছে। কিন্তু ক্লাব যদি না খেলতে চায় ঐখানে কিন্তু বোর্ডের কিছু করার থাকে না।’
ক্লাবগুলোর ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে নতুন রূপরেখার প্রস্তাব দিয়েছেন আশরাফুল। তার মতে, শুধু ঢাকার ক্লাবভিত্তিক সংস্কৃতির ওপর ভরসা করে থাকলে চলবে না। দেড় মাস ধরে লীগ খেলার প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি। এর সমাধান হিসেবে আটটি বিভাগীয় সংস্থাকে সক্রিয় করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বিভাগগুলোর অধীনেই বয়সভিত্তিক দল থেকে শুরু করে চার দিনের ম্যাচ, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত। এতে নির্দিষ্ট কিছু ক্লাবের বয়কটের হুমকি প্রভাব ফেলবে না। এই বিষয়ে আশরাফুল বলেন, ‘আমি মনে করি যে আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের যে আটটা বিভাগ আছে, তাদের নিয়ে যদি চার দিনের ম্যাচ, ওয়ানডে ম্যাচ এবং ২০ ওভারের ম্যাচ্তএই ফরম্যাটগুলো চালু করে যে তাদের অধীনে সবকিছু হবে। তাদের অধীনে অনূর্ধ্ব-১৯, অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৬-১৩, এইভাবে যদি আপনি করতে পারেন তখন কিন্তু ক্লাব যদি না খেলতে চায়, তখন অন্তত খেলোয়াড়রা খেলার মাঠে থাকবে।’ ক্রীড়াঙ্গনকে শুধু ঢাকা কেন্দ্রিক না রেখে ৬৪টি জেলাতেই ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সব জেলায় ইনডোর ও আউটডোর খেলার কাঠামো সারা বছর চালু রাখতে হবে। অন্তত ২৪০ জন ক্রিকেটার যেন টানা ছয় মাস খেলার মধ্যে থাকে, সেই নিশ্চয়তা তৈরি করা প্রয়োজন। তবে দীর্ঘমেয়াদী এসব পরিকল্পনার কথা বলার পাশাপাশি বর্তমান বোর্ডের সীমাবদ্ধতাগুলোও তিনি অনুধাবন করছেন। চার-পাঁচ মাস আগে দায়িত্ব নেওয়া বোর্ডের পক্ষে রাতারাতি সব বদলে ফেলা সম্ভব নয়। সবাইকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ করে আশরাফুল বলেন, ‘সবকিছু মাত্র শুরু হয়েছে, আপনাকে সময় দিতে হবে। নতুন বোর্ডকেও আপনার সময় দিতে হবে। উনারা এসেছেন মাত্র চার-পাঁচ মাস হয়েছে। একটার পর একটা ঝামেলা যাচ্ছে। তো আমার মনে হয় যে সবাইকে সময় দিতে হবে এবং সবার সৎ চিন্তা থাকতে হবে।’
ঘরোয়া ক্রিকেটের এই হতাশার চিত্রের বাইরে জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রিকেটারদের ধারাবাহিকতা নিয়ে আশার কথাও শুনিয়েছেন তিনি। প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের মতো আশরাফুলও এখন ২০২৭ বিশ্বকাপ নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন। ঘরের মাঠে আসন্ন নিউজিল্যান্ড সিরিজ জেতার ব্যাপারেও বর্তমান বাংলাদেশ দল যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। পাকিস্তান সিরিজ জয়ের পর ওয়ানডে র?্যাঙ্কিংয়ে নয় নম্বরে ওঠা পুরো দলকে দারুণ প্রেরণা জোগাচ্ছে। বিদেশের মাটিতে ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিয়মিত সুযোগ পাওয়াকেও অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি। পিএসএলে এবার ছয়জনের অংশগ্রহণ এবং বিগ ব্যাশে রিশাদ হোসেনের সাফল্য দেশের ক্রিকেটের জন্য বড় অর্জন। টুর্নামেন্টগুলোতে ভালো পারফর্ম করার জন্য সব খেলোয়াড়ের প্রশংসাও করেছেন এই অভিজ্ঞ কোচ। সামনে জাতীয় দলের বেশ কঠিন পরীক্ষা। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কন্ডিশনের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে আশরাফুল বলেন, ‘যেহেতু ২০২৭ বিশ্বকাপে আমরা খেলতে যাচ্ছি দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়াতে। আমি বিশ্বাস করি যে আমরা এই ধরনের উইকেটে যদি নিয়মিত খেলতে থাকি, আমাদের খেলোয়াড়দের নৈপুণ্যের উন্নতি হতে থাকবে ইনশাআল্লাহ।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন