স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত তেলিয়াপাড়ার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের প্রাপ্য সম্মানও বিগত সরকার নিশ্চিত করতে পারেনি।
শনিবার (৪ এপ্রিল) ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস উপলক্ষে মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগান স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস জাতির সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয়নি। একইভাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানও উপেক্ষিত হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোয় ওসমানী, জিয়াউর রহমানসহ শীর্ষ সেনানায়কদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক বৈঠক মুক্তিযুদ্ধের এক গৌরবময় অধ্যায়। সেই বৈঠক থেকেই যুদ্ধের কৌশলগত পরিকল্পনার ভিত্তি স্থাপিত হয়।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একটি মহল সংস্কার ইস্যুতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। অথচ খালেদা জিয়া ২০১৬ সালেই ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বিএনপি সংস্কার চায় না—এমন অপপ্রচার সত্য নয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিটের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা রফিক। এতে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ, সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল, শাখাওয়াত হোসেন জীবন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নাঈম জাহাঙ্গীর, সদস্য সচিব সাদেক আহমেদ খান, জেলা প্রশাসক ড. জিএম সরফরাজ ও পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, তেলিয়াপাড়ার ঐতিহাসিক গুরুত্ব দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। এ স্থানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ ও যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানান তারা।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের এই দিনে তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোয় অনুষ্ঠিত হয় মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সামরিক পরিকল্পনা বৈঠক। ওই বৈঠকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ২৭ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অংশ নেন। বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গণকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং তিনটি ব্রিগেড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১নং সেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন জিয়াউর রহমান।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তেলিয়াপাড়া চা বাগান ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ঘাঁটি। এখানে ৩নং সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ও প্রশিক্ষণ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়, যা পরবর্তীতে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণের মুখে স্থানান্তর করা হয়।
বর্তমানে তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে বিদ্যমান রয়েছে। এসব স্মৃতি সংরক্ষণে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।
