যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া ‘শুট-অ্যান্ড-স্কুট’ মোবাইল লঞ্চার থেকে চীনের দিকে লক্ষ্য করে রকেট নিক্ষেপ করেছে তাইওয়ান। তাদের বুধবারের এই মহড়া এটাই দেখিয়েছে যে, চীনের সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধে দ্বীপটি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। এইচআইএমএআরএস নামে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকৃত এই সিস্টেমটি আগে পরীক্ষিত হলেও এবার প্রথমবারের মতো তাইওয়ান প্রণালির সংকীর্ণ সমুদ্র অঞ্চলে রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।
তাইওয়ান সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট ওয়াং মিং-হুই বলেন, বর্তমান শত্রু হুমকির কারণে আমরা দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এইচআইএমএআরএস প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাব, যাতে দেশকে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা দেয়া যায়। সেনাবাহিনী জানায়, তারা সীমিত পাল্লার অনুশীলন রকেট ব্যবহার করেছে, যেগুলো উপকূল থেকে খুব বেশি দূরে যেতে পারে না এবং পরে সমুদ্রে পড়ে যায়। সিএনএনের সাংবাদিক জিম শিউটো এই পরীক্ষা সম্পর্কে জানতে চাইলে তাইওয়ানের যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিনিধি আলেকজান্ডার ইউই বলেন, সেনাবাহিনী নতুনভাবে পাওয়া এইচআইএমএআরএস ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ চালাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা একটি দ্বীপ; আমরা শুধু পূর্ব বা পশ্চিমে গুলি করতে পারি, তাই তারা পশ্চিম দিক বেছে নিয়েছে।
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসেবে বিবেচনা করে এবং ভবিষ্যতে একসময় এটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি করে। তারা প্রায়দিনই তাইওয়ানের আশপাশের আকাশ ও সমুদ্রে যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান পাঠায় এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় সামরিক মহড়াও চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। তবে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তার অবস্থান পরিবর্তনের বিরোধিতা করে এবং প্রতিরক্ষার জন্য দেশটির প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করে।
এইচআইএমএআরএস (হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম) যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সেই কৌশলের অংশ, যেখানে বড় ধরনের অস্ত্র প্রতিযোগিতার বদলে অ্যাসিমেট্রিক বা অসম যুদ্ধ কৌশল গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে চীনকে দূরে রাখা যায়। ট্রাক-মাউন্টেড এই রকেট সিস্টেমটি লুকানো অবস্থান থেকে দ্রুত বের হয়ে হামলা চালাতে পারে এবং তারপর দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে পালিয়ে যেতে পারে, যাকে ‘শুট-অ্যান্ড-স্কুট’ কৌশল বলা হয়। তাইওয়ানের পশ্চিম উপকূলে চলা মহড়ার দ্বিতীয় দিনে এই রকেট নিক্ষেপ করা হয়।এই মহড়ায় ১৫৫ মিমি হাউইটজারসহ অন্যান্য অস্ত্রও ব্যবহার করা হয়। এটি সম্ভাব্য চীনা আক্রমণের প্রতিক্রিয়া অনুশীলন হিসেবে পরিচালিত হয় এবং দ্রুত মোতায়েন ও নির্ভুল আঘাতের সক্ষমতা যাচাই করা হয়।
এইচআইএমএআরএস ছিল এই মহড়ার কেন্দ্রীয় অংশ। গুলি চালানোর নির্দেশ পাওয়ার পর যানবাহনগুলো কয়েক মিনিটের মধ্যেই অবস্থান নেয় এবং উজ্জ্বল বিস্ফোরণের মাধ্যমে রকেট নিক্ষেপ করে, যা তাদের গতিশীলতার প্রমাণ হিসেবে দেখা হয়। যুক্তরাষ্ট্র গত ডিসেম্বরে তাইওয়ানের কাছে আরও ৮২টি এইচআইএমএআরএস সিস্টেম বিক্রির পরিকল্পনা ঘোষণা করে। তবে গত মাসে ডনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা নেতা শি জিনপিং বেইজিংয়ে বৈঠকের পর সেই চুক্তি আপাতত স্থগিত রয়েছে।
