প্রথম আলো
‘বড় লক্ষ্য নিয়ে বড় বাজেট দিচ্ছে বিএনপি সরকার’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার প্রতিবেদন। খবরে বলা হয়, নতুন বাজেটে নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বিপর্যস্ত অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে জোর দিচ্ছে বিএনপি সরকার। এতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রাও অনেক বেশি ধরা হয়েছে। বাজেট বড় হওয়ায় বড় হচ্ছে বাজেট ঘাটতিও। ঘাটতি পূরণে ঋণও নিতে হবে বেশি।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তাঁর জীবনের প্রথম বাজেট। গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত বিএনপি সরকারেরও প্রথম বাজেট এটি।
অর্থমন্ত্রীর চাওয়া বাজেটের সুফল এবার তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছানো। এর অংশ হিসেবে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বেড়ে হতে পারে দেড় লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডসহ অন্তত আট ধরনের নতুন কর্মসূচি যুক্ত হচ্ছে। তিনি সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশ ঘটাতে চান, মনোযোগ দিচ্ছেন সহজে ব্যবসা–বাণিজ্য করার পরিবেশ তৈরিতেও।
অর্থমন্ত্রী চান ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ’, যার প্রতিফলন তিনি বাজেটে দেখাবেন বলে কয়েকবারই ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রায় সব ক্ষেত্রে তিনি ‘ডিরেগুলেশন’ করবেন অর্থাৎ যতটা সম্ভব সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে আনবেন।
অর্থের টানাপোড়েনের মধ্যেও আগামী অর্থবছরে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বাজেটে নতুন বেতনকাঠামো আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণা থাকতে পারে।
প্রথমবারের মতো এবার সিটিজেনস বাজেট অর্থাৎ নাগরিকদের জন্য বাজেট বিষয়ে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করতে পারেন অর্থমন্ত্রী। এর মাধ্যমে বাজেটকে সহজভাবে বোঝা যাবে বলে মনে করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
চলতি অর্থবছরের মূল বাজেট ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। নতুন বাজেট এ থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি, যা টাকার অঙ্কে প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি। অর্থমন্ত্রী কয়েকবার বড় বাজেট দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, বাজেট বড় হলে ব্যয় বাড়বে, যা প্রবৃদ্ধি অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এফবিসিসিআইয়ের পরামর্শক সভায় অর্থমন্ত্রী খোলামেলাই বলেছেন, অর্থনীতি যে জায়গায় আছে, ব্যয় বাড়িয়ে একে ওপরের দিকে না নিয়ে গেলে চলবে না।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। আর মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। বর্তমানে এ হার ৯ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া আগামী অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হতে পারে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকা অনুদান পাওয়া যাবে ধরে নিয়ে এবার মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৭ লাখ কোটি টাকার বেশি।
টাকা জোগাড়ে বড় চাপ, বাস্তবতা কী
মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) একাই আদায় করতে হবে ৬ লাখ কোটি টাকার বেশি। সংস্থাটি ২০২৪–২৫ অর্থবছরে আদায় করেছিল ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে আদায় লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। তবে জুলাই-এপ্রিল সময়ের ১০ মাসে ঘাটতি রয়েছে ৬৯ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা। ১০ মাসে আদায় হয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা।
আগামী অর্থবছরে ২৫ হাজার কোটি টাকা ধরা হচ্ছে এনবিআর–বহির্ভূত আয়। অথচ ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এ খাতে ৮ হাজার ১৯২ কোটি টাকা আদায় হয়েছিল। আগামী অর্থবছরে কর ব্যতীত প্রাপ্তি (এনটিআর) থেকে আদায় লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৬৬ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এনটিআর থেকে আদায় লক্ষ্যমাত্রা ৪৬ হাজার কোটি টাকা ধরা হলেও সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ৬৫ হাজার কোটি টাকা করা হয়।
ঋণ বেশি, সুদ খাতে বরাদ্দ কম
আগামী অর্থবছরে সুদ বাবদ বরাদ্দ রাখা হতে পারে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। অর্থ বিভাগ হিসাব করেছিল এবার সুদ ব্যয়ে ১ লাখ ৫৮ হাজার কোটি টাকা লাগতে পারে। অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের বিপরীতে এ সুদ দিতে হবে।
সুদ ব্যয়কে বলা হয় বাধ্যতামূলক ব্যয়। সরকারের পরিচালন ব্যয় বা অনুন্নয়ন ব্যয়ের মধ্যে অন্যতম খাত হিসেবে এটি এখন বিবেচিত হয়। এ ব্যয় এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তা বাজেটের অন্যান্য অগ্রাধিকার খাতকে চাপে ফেলছে।
সরকার কীভাবে ঘাটতি মেটাবে
আগামী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপির) আকার ধরা হচ্ছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। এবার বাজেট ঘাটতি হবে অনুদান বাদ দিয়ে জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ অর্থাৎ ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
সরকার ঠিক করেছে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার এবং বৈদেশিক উৎস থেকে নিট (প্রকৃত) ১ লাখ ৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ নেবে। সরকার বাস্তবে বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নিতে চায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ব্যয় হবে।
অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে থাকছে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা কম। সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে সরকার ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার কথাও ঠিক করেছে।
বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বাজেট বড় হচ্ছে ঠিক আছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে বাজেটের কতটা বাস্তবায়ন হবে। এক বছরে এত রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধি কি সম্ভব? আবার ব্যয় বা ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক উৎস থেকে যত ঋণ নেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, তার বাস্তবতা কম। ফলে ব্যয় ঠিক রাখতে গিয়ে সরকার ভর করবে ঘুরেফিরে ওই অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর, যার সহজ উৎস হচ্ছে ব্যাংকঋণ।
জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ব্যাংকঋণ বেশি নিলে ব্যক্তি খাত কম ঋণ পাবে। আমার আশঙ্কা হচ্ছে এতে বিনিয়োগ, প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান—এগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তখন মূল্যস্ফীতি কমাতেও সরকার তেমন কিছু করতে পারবে না।’
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘জীবনযাত্রার ব্যয়ে লাগাম টানার চেষ্টা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, জীবনযাত্রার ব্যয়ে লাগাম টানার চেষ্টা থাকছে আগামী বাজেটে। সাধারণ জনগণকে স্বস্তি দিতে ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে করছাড় দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসা খরচ কমাতে ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা, হার্টের রিং ও চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্স আমদানিতে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রতিমাসের ওষুধ খরচা সাশ্রয় হবে।
সূত্র জানায়, প্রতিবছর বাজেটে রাজস্ব আদায় বাড়াতে পণ্য ও সেবার করহার বাড়ানো হয়। এবারই তার ব্যতিক্রম। নতুন সরকার চাইছে করহার না বাড়িয়ে করজাল বাড়াতে। একই সঙ্গে জনগণকে স্বস্তি দিয়ে কর আদায় করতে। তাই ব্যাপক হারে ভ্যাট-ট্যাক্সে ছাড় দেওয়া হচ্ছে, যা বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করবেন।
খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিকাজে ব্যবহৃত জিংক সালফেট, ম্যাগনেশিয়াম সালফেটসহ পাঁচটি সারের ব্যবসা পর্যায়ে ভ্যাট সাড়ে ৭ শতাংশ থেকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এ কারণে সারের দাম কমতে পারে। কীটনাশক-বালাইনাশকের শুল্ককর প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এছাড়া মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যে করছাড় দেওয়া হচ্ছে। যেমন-ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ, ১ শতাংশ থেকে হ্রাস করে দশমিক ৫ শতাংশ করা হচ্ছে। এর ফলে বিগত বছরগুলোতে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবনে যে নাভিশ্বাস উঠেছিল, তা থেকে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলবে।
দেশে স্বাস্থ্যসেবা খরচ অনেক বেশি-এ বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পেরে প্রস্তাবিত বাজেটে ওষুধ আমদানির উপকরণ, হার্টের রিং, কিডনি ডায়ালাইসিসের উপকরণ আমদানিতে শুল্ককর ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এতে চিকিৎসার পেছনে জনগণের খরচ কমবে। হার্টের রিং এবং চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্স সরবরাহের ক্ষেত্রে জোগানদার পর্যায়ে ১০ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে প্রতিটি হার্টের রিং বা স্টেন্টের মূল্য প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে। চোখের প্রতিটি ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের মূল্য প্রায় ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। কিডনি রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার্য ব্লাড টিউব সেট আমদানিতে আগাম কর প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এর ফলে কিডনি ডায়ালাইসিসের খরচ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পাবে। ক্যানসারের ওষুধ তৈরির নয়টি উপকরণ আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এছাড়া অন্য ওষুধ তৈরির নতুন ৬৮টি মৌলিক কাঁচামাল আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এতে বাজারে ওইসব ওষুধের দাম কমবে।
সাধারণ মানুষের সংসার খরচ কমাতে বাজেটে আমদানি করা শিশুখাদ্য প্রস্তুত সামগ্রীর আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ করা হচ্ছে। এতে দেশের বাজারে শিশুখাদ্যের দাম কমবে। রান্নার প্রধান উপকরণ মসলার ওপর ৫ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এতে এলাচ, দারুচিনিসহ সব ধরনের মসলার দাম কমতে পারে। সিমকার্ড ও ই-সিমকার্ড সেবার বিপরীতে ৩০০ টাকা সুনির্দিষ্ট কর ছিল। এর পরিবর্তে বাজেটে সিমকার্ডের দামের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এতে সিমের দাম কমতে পারে। স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদনে প্রয়োজনীয় ২২টি উপকরণের অগ্রিম আয়কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে এক শতাংশ করা হচ্ছে। এতে দেশে তৈরি মোবাইলের দাম কমতে পারে। স্বর্ণালংকার বিক্রিতে ৫ শতাংশ ভ্যাট ছিল, যা স্বর্ণালংকারের বিক্রীত মূল্যের ওপর আদায় করা হতো। বাজেটে ৫ শতাংশের পরিবর্তে ভরিপ্রতি আড়াই হাজার টাকা সুনির্দিষ্ট কর বসানো হয়েছে। এতে স্বর্ণালংকারের দাম কমবে।
কালের কণ্ঠ
‘করে পিষ্ট জনগণ, ঋণে কাবু দেশ’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, প্রায় দুই দশক পর বিএনপি জোট ক্ষমতায়। নেতৃত্বেও আমূল পরিবর্তন।
দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্থলে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে তারেক রহমান। দীর্ঘ এই সময়ে অনেক আন্দোলন-সংগ্রামের পর দলটি চালকের আসনে। তাই রাজনৈতিক অঙ্গীকার পূরণের অপার সুযোগ তাদের সামনে। মানুষের জন্য কত কী যে করার ইচ্ছা! কিন্তু বাদ সেধেছে সক্ষমতা।
অনেকটাই ভঙ্গুর অর্থনীতির বোঝা। এর মধ্যেই এলো বাজেট। তহবিলে টানাটানি। তাতে কী? প্রবৃদ্ধি টেনে তুলতে হলে খরচ তো করতে হবে।
তাই আগের ঋণের বোঝার পরও সরকার আরো ঋণ নেওয়ায় সাহসী হয়েছে। ফলে ঋণে ভর ঋণে ভর করেও ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার মহা বাজেটের পরিকল্পনা। অর্থনীতি ও ব্যবসা-বিনিয়োগ যখন খাদের কিনারে, রাজস্ব আদায় হচ্ছে না ঠিকমতো, তার পরও বিপুল কর আদায়ের উচ্চাকাঙ্ক্ষা। কর থেকেই প্রায় সাত লাখ কোটি টাকা জোগাড়ের লক্ষ্য। আর তাই ঋণ ও করের সম্মিলিত তহবিলে বাজেটটি বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা আজই সংসদে তুলে ধরবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
ওই পরিকল্পনার নথি ও আগাম তথ্য কালের কণ্ঠের হাতে এসেছে। সেটি পর্যালোচনা করে জানা যায়, তারেক রহমানের সরকারের জনকল্যাণমুখী প্রচেষ্টা থাকছে বাজেটে। কিন্তু সক্ষমতা সীমিত। তাই ধারকর্জ আর রাজস্বের উচ্চাভিলাষী আদায়ের ওপর ভরসা করেই দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও ইচ্ছা পূরণ করতে চায় সরকার। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব ঘাটতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং বৈদেশিক ঋণের চাপের মধ্যে ঘোষিত এই বাজেট বাস্তবায়নই হবে সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
অর্থমন্ত্রীর বাজেট বত্তৃদ্ধতা থেকে জানা যায়, ‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন ও বিনিয়ন্ত্রণ : ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অভিযাত্রায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে আসছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটটি তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও প্রবৃদ্ধির দ্বৈত লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। নীতিনির্ধারকদের আশা, বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে পারলে অর্থনীতির স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন গতি ফিরে আসবে।
এবারের বাজেটের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ‘নতুন ব্যবসা, নতুন ধারণা ও নতুন প্রজন্ম’কে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের রূপরেখা। প্রথমবারের মতো ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’কে জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের অংশ করা হচ্ছে। প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, ডিজিটাল কনটেন্ট, সংস্কৃতি, গবেষণা, স্টার্টআপ ও জ্ঞানভিত্তিক শিল্পকে আগামী দিনের প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
একই সঙ্গে বাজেটে এসেছে ‘বিনিয়ন্ত্রণ’ বা ডিরেগুলেশনের ধারণা। বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পেশাদার স্বাধীনতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। সরকারের মতে, নীতিগত স্থিতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়।
জনজীবনের চাপ কমাতে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, মাছ, মাংস, আলু, পেঁয়াজ, রসুনসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ওপর উৎস কর কমানোর ঘোষণা আসছে। বাজারে সরবরাহ ও প্রতিযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কৌশলের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বরাদ্দ বাড়িয়ে এক লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’ ও ‘হেলথ কার্ড’ কর্মসূচি। সরকারের ধারণা, ডিজিটালভিত্তিক এই কর্মসূচিগুলো সামাজিক সহায়তা ব্যবস্থাকে আরো লক্ষ্যভিত্তিক ও কার্যকর করবে।
উন্নয়ন ব্যয়ের ক্ষেত্রে তিন লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রস্তাব করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, প্রযুক্তি, গবেষণা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘নতুন করদাতা খোঁজার বড় মিশনে নামছে সরকার’। প্রতিবেদনে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বাড়াতে সরকার আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্য অর্জনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) করভিত্তি সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি রোধ এবং রাজস্ব ব্যবস্থায় পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন নিশ্চিত করার মাধ্যমে নতুন করদাতা শনাক্ত ও করের আওতায় আনার একটি বড় মিশন হাতে নিচ্ছে সংস্থাটি। তবে অনেক ক্ষেত্রে করছাড় ও বিশেষ সুবিধাও থাকছে।
আজ বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য যে বাজেট প্রস্তাব করতে যাচ্ছেন, তাতে কর ও ভ্যাটের আওতা বাড়ানোর নানা প্রস্তাব থাকবে। এর অংশ হিসেবে ব্যবসায়-সংক্রান্ত ব্যাংক হিসাব খোলা, ব্যাংক ঋণ গ্রহণ এবং ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভ্যাট নিবন্ধন বা বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হতে পারে। (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা যেতে পারে।
জানা গেছে, সাধারণ ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন দাখিল বাধ্যতামূলক করা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহের ওপর শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ অগ্রিম কর সংগ্রহের মাধ্যমে পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেন্ট্রাল ডেটা ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে এনবিআরের তথ্যভান্ডারকে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক, ইউটিলিটি সেবা, ভূমি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় এসব বিষয়ে ঘোষণা থাকছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ক্ষুদ্র করভিত্তি ও কর ফাঁকির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে করভিত্তি সম্প্রসারণ এবং পদ্ধতিগত সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে এনবিআর সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নেবে। এসব বহুমুখী পদক্ষেপ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের করদাতার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও টেকসই ভিত্তি পাবে বলে আশা করছে এনবিআর।
আগামী ৫ বছরের জন্য একটি পূর্বানুমানযোগ্য প্রগতিশীল কর কাঠামো ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী, যাতে করদাতারা ভবিষ্যতে তাদের করের বোঝা সম্পর্কে নিশ্চিত থাকতে পারেন। ব্যক্তি এবং কোম্পানি উভয় ক্ষেত্রে ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত করহারের প্রস্তাব করবেন অর্থমন্ত্রী।
ব্যবসায়িক লেনদেনে বাধ্যতামূলক হবে 'বিন'
ভ্যাটের জাল বিস্তার করতে সরকার নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ব্যবসায় শনাক্তকরণ সংখ্যা বা বিন উপস্থাপন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব বাজেটে থাকছে। এর মধ্যে রয়েছে-যেকোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব বা এসটিডি হিসাব খোলা ও পরিচালনা, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন এবং আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক হিসেবে নিবন্ধন, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলা, বাণিজ্যিক সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণ বা নবায়ন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহণ এবং বিআরটিএ থেকে বাণিজ্যিক যানবাহনের নিবন্ধন গ্রহণ।
ব্যাংক হিসাব খোলা ও সরকারি সেবায় টিআইএন নতুন করদাতা শনাক্তে টিআইএন ব্যবহারের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে এনবিআর। এক্ষেত্রে স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্ট ও নো-ফ্রিলস অ্যাকাউন্ট ছাড়া অন্য যেকোনো ব্যাংক হিসাব খোলার সময় টিআইএন সনদ দাখিল বাধ্যতামূলক হবে। এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া, জমি কেনাবেচা এবং নির্দিষ্ট কিছু পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যপদ লাভের ক্ষেত্রেও টিআইএন ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকছে।
খুচরা পর্যায়ে কর আদায়ের নতুন কৌশল
সরকার করভিত্তি সম্প্রসারণের জন্য নতুন বাজেটে অর্থমন্ত্রী উৎপাদক, আমদানিকারক পরিবেশকদের কাছ থেকে খুচরা বিক্রেতারা যখন পণ্য কিনবেন, তখন সরবরাহ মূল্যের ওপর শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর সংগ্রহের প্রস্তাব করতে পারেন। এর ফলে খুচরা বিক্রেতাদের লেনদেনের তথ্য এনবিআরের কাছে চলে আসবে, বা যা নতুন করদাতা শনাক্ত করতে সহায়তা করবে।
ইত্তেফাক
ফুটবলের ‘বিশ্বযুদ্ধ’ শুরু-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, গত চারটা বছর ধরে গোটা পৃথিবী দেখছে, কোথাও না কোথাও যুদ্ধ চলছে। এমনও হয়েছে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে যুদ্ধ থেমে যাওয়ার খবরটা সকালে ঘুম ভাঙার আগেই পালটে গেছে, আবার যুদ্ধ শুরু। এভাবেই পৃথিবীর ৮০০ কোটি মানুষকে যুদ্ধ শব্দটা শুনতে শুনতে যুদ্ধ আলোচনায় বসবাস করতে হচ্ছে। বিশ্বকাপ ফুটবলেও যুদ্ধ ঢুকে গেছে। এই আসরে যুদ্ধ আলোচনায় ঢুকে গেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। যোগ্যতার বাছাইয়ে ইরান বিশ্বকাপে খেলবে। আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রও খেলছে, ভিন্ন গ্রুপে। এই দুই দেশের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ কম। তারপরও দুই দেশের রাষ্ট্রীয় নেতাদের মধ্যে কথার পালটা কথা থেমে না থাকলেও কান দেওয়ার সময় নেই ফুটবলের। সবাই ফুটবলের বিশ্বযুদ্ধে চোখ রাখছেন। তাদের কাছে এটাই আসল যুদ্ধ এখন সবার মগজে বিশ্বকাপ।
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকো আয়োজন করছে বিশ্বকাপ ফুটবলের ২৩তম আসর। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ ফুটবল। এবারই প্রথম ৪৮ দেশ নিয়ে তিন দেশে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ।
আজ মেক্সিকো শহরে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। এখানেই রাত ১টায় উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক মেক্সিকো এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। এর আগে ৯০ মিনিটের একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান রয়েছে। মেক্সিতো তাদের ঐতিহ্য তুলে ধরবে। তবে এই শহরে এখন চলছে আন্দোলন চলছে। বিশ্বকাপ ঘিরে নানা সংগঠন আন্দোলনে নেমে বলছে তারা ফুটবল মাঠে গড়াতে দেবে না, যদি দাবি পূরণ না হয়।
অলিম্পিক গেমস যেমন উত্সব, বিশ্বকাপকে ঘিরে অন্যরা উত্সব করলেও আসলে এটি বিশ্ব ফুটবলের যুদ্ধ। ম্যাচ ঘিরে রাষ্ট্রনায়ক থেকে শুরু করে দিন মজুরও মেসি, নেইমার, রোনালদোর পারফরম্যান্স নিয়ে কথার যুদ্ধ করেন। পাণ্ডিত্য দেখান।
বিশ্বকাপ ফুটবলে জাতপাত নেই। কোনো ধর্ম-বর্ণ নেই। সবার ভাষা একটাই ‘ফুটবল’। নানা প্রান্তের মানুষ এক জায়গায় আসেন, নানান দেশের ফুটবলাররা এক মঞ্চে লড়াই করতে আসেন। কিন্তু তাদের মধ্যে থাকে না কোনো ভেদাভেদ।
শেষবার ৮৬ বিশ্বকাপ মেক্সিকোতে এবং ৯৪ বিশ্বকাপ এককভাবে আয়োজন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এবার তিন দেশ আয়োজন করলেও বিশ্বকাপ মূলত যুক্তরাষ্ট্রের। ফাইনালসহ ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৭৮টি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে। ১৬টি স্টেডিয়ামের মধ্যে ১১টি যুক্তরাষ্ট্রে। মেক্সিকোতে দুটি, কানাডার ভ্যাংকুভার, টরন্টোতে তিনটি। তাই বিশ্বকাপের মূল আয়োজনের মালিক বলা যায় যুক্তরাষ্ট্রকেই। তারাই সব আকর্ষণীয় খেলা আয়োজনের সুযোগ পেয়েছে। বিশ্বকাপের আর্থিক লাভের সুযোগটা পাবে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের গ্রুপ পর্বের ছয়টি ম্যাচই হবে যুক্তরাষ্ট্রে।
সবার নজর থাকবে মেসি, রোনালদো এবং নেইমারের দিকে। আর্জেন্টিনা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন, চতুর্থ ট্রফির জন্য মেসির আর্জেন্টিনা মাঠে নামবে। বয়স ৪০ হওয়ার পরও মেসি এখনো তরতাজা। তবে বিশ্বকাপের লড়াইয়ে তারুণ্যের কাছে যতটা না টিকবেন তার চেয়ে বেশি টিকবেন তার মেধার লড়াইয়ে। কীভাবে বিশ্বকাপের ম্যাচ জিততে হয় সেই মন্ত্র জানা আছে ফুটবলের জাদুকর মেসির। আরো পর্তুগিজ তারকা রোনালদোর কাছে বিশ্বকাপের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে যদি এবার তার দেশ জিততে না পারে। ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার মাঠের চেয়ে মাঠের বাইরের আলোচনায় বেশি। ইনজুরি কাটিয়ে কীভাবে তার দেশকে ষষ্ঠ ট্রফি এনে দেবেন সেটা সময় বলে দেবে। ফরাসি তারকা এমবাপের কথা সবার জানা। গত বিশ্বকাপের ফাইনালে ২-০ তে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন এমবাপে। চিতাবাঘের মতো ক্ষীপ্রগতির এমবাপে আরেকবার ছোঁ মারতে প্রস্তুত। মেসি-রোনালদোর মতো তারকা বিশ্বকাপ মঞ্চ ছেড়ে দিলে নতুন কোনো তারকা সেই জায়গায় আসন নিতে পারবেন কি না সেটা বলা কঠিন। তবে নওয়ের ফরোয়ার্ড আর্লিংল হালান্ড, নতুন এসেছেন বিশ্বকাপে। নিজেকে বিশ্ব মঞ্চে চেনাতে এসেছেন। স্পেনের লামিন ইয়ামাল তরুণ এক কিশোর। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে কতটা সফল হন সেটা দেখার অপেক্ষা করতে হবে। অনেক ঘটনার সাক্ষী হবে এবারের বিশ্বকাপ।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার খবর ‘করভিত্তি বাড়াতে রাজস্ব কাঠামোতে রূপান্তর’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের রাজস্ব অধ্যায়টি কেবল করহার নির্ধারণের কোনো প্রশাসনিক দলিল নয়; বরং এটি বাংলাদেশের করনীতি, বিনিয়োগ কৌশল এবং শিল্পায়ননির্ভর অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা। সরকার এক দিকে কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, অন্য দিকে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ- এই তিনটি লক্ষ্যকে একসূত্রে গাঁথার চেষ্টা করেছে। প্রস্তাবে মধ্যমেয়াদে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে কর ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য করার ওপর বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিএনপি সরকারের পক্ষে আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ সালের এই বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন।
এই বাজেটের পদক্ষেপ বিবেচনায় সামগ্রিকভাবে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব প্রস্তাবনাকে একটি ‘সংস্কারমুখী বাজেট’ বলা যায়। এতে এক দিকে করদাতাদের জন্য পূর্বানুমানযোগ্যতা, অন্য দিকে বিনিয়োগকারীদের জন্য স্থিতিশীলতা এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টির স্পষ্ট প্রয়াস রয়েছে। তবে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জন করতে হলে শুধু করছাড় বা নতুন নীতিমালা যথেষ্ট হবে না; প্রয়োজন দক্ষ বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা এবং কর প্রশাসনের গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। সেই পরীক্ষাতেই শেষ পর্যন্ত এই বাজেটের সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্ধারিত হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
করনীতিতে পাঁচ বছরের পূর্বানুমানযোগ্যতা
প্রস্তাবিত বাজেটের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর একটি হলো ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য পাঁচ বছরের কর কাঠামো আগাম ঘোষণা করা। সাধারণত প্রতি বছর করহার ও করমুক্ত আয়সীমা পরিবর্তনের কারণে করদাতা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের নীতিগত অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়। এবার সরকার ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত করমুক্ত আয়সীমা এবং করহারের একটি রূপরেখা নির্ধারণ করে দিয়েছে। করমুক্ত আয়সীমা বর্তমান ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তা ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া নারী, প্রবীণ নাগরিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের জন্য আরো বেশি করমুক্ত আয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি বাংলাদেশের করনীতিতে একটি ইতিবাচক ‘পলিসি সিগন্যাল’। এর ফলে মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত করদাতারা তাদের ভবিষ্যৎ কর দায় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনা করা সহজ হবে।
করপোরেট খাতে স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগে উৎসাহ
করপোরেট করহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তকে সরকার বিনিয়োগবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। একই সাথে অনলাইন রিটার্ন দাখিল, অডিট নির্বাচন প্রক্রিয়ার অটোমেশন, অনুমোদনযোগ্য ব্যয় বৃদ্ধি এবং উৎসে কর কর্তনের কারণে ব্যয় অগ্রাহ্য করার বিধান বাতিলের মতো কিছু আধুনিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমবে এবং কর পরিপালন সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বণিক বার্তা
‘বিএনপির মধ্য-বামপন্থী বাজেটে অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণ হবে কি’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মধ্য-বামপন্থী বাজেট নীতির মূল দর্শন সামাজিক সমতা, সম্পদের পুনর্বণ্টন এবং নিয়ন্ত্রিত পুঁজিবাদ। এতে সাধারণত সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, শ্রম সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। বাজেট অর্থায়নের জন্য প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা—অর্থাৎ উচ্চ আয়ের ব্যক্তির ওপর তুলনামূলক বেশি কর আরোপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
যদিও তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে মধ্য-বামপন্থী বাজেট নীতি বা সামাজিক কল্যাণমুখী দর্শনের বাস্তবায়ন বড় ধরনের কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ ও দ্বিমুখী চাপের মুখে পড়ে। একদিকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, ভর্তুকি ও জনসেবা সম্প্রসারণের রাজনৈতিক ও সামাজিক তাগিদ, অন্যদিকে সীমিত রাজস্ব, উচ্চ ঋণব্যয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের আস্থার সংকট। এ দুই বাস্তবতার সংঘাত বাজেট বাস্তবায়নকে অনিশ্চয়তায় ফেলে দেয়। বাংলাদেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে আজ পেশ হতে যাওয়া বিএনপি সরকারের মধ্য-বামপন্থী বাজেটের ক্ষেত্রেও একই ধরনের আশঙ্কা থাকছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
অর্থ বিভাগের তথ্যানুসারে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার, যা আজ জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। যা চলতি অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে (প্রস্তাবিত) রাজস্ব আহরণের সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশ আসবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো অর্থবছরেই সরকারের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সম্ভাব্য ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা দেশী-বিদেশী উৎস থেকে নেয়া ঋণের মাধ্যমে মেটানো হবে। এর মধ্যে বিদেশী উৎস থেকে ঋণ নেয়া হবে ১ লাখ ৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। স্থানীয় উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি, সঞ্চয়পত্র থেকে ৮ হাজার ৫০০ কোটি এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ নেবে সরকার।
আগামী অর্থবছরের বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের মতো নতুন কর্মসূচি যুক্ত করাসহ বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অধীনে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। জানা গেছে, সব মিলিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হতে পারে। ভর্তুকি ও প্রণোদনা বাবদ সম্ভাব্য বরাদ্দ দেয়া হবে ১ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে বিদ্যুৎ ও সারে ভর্তুকির সম্ভাব্য পরিমাণ ৬৪ হাজার কোটি টাকা। তাছাড়া সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানো বাবদ প্রস্তাবিত বাজেটে অতিরিক্ত ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হতে পারে।
অর্থনৈতিক সংকটকালে সরকারের মধ্য-বামপন্থী বাজেট নীতির বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হতে পারে বাজার-আরোপিত ব্যয় সংকোচন। উচ্চ ঘাটতি ও ঋণের ঝুঁকি দেখলে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা সুদের হার বাড়িয়ে দেয় কিংবা পুঁজি প্রত্যাহার করে নেয়। এতে সরকার প্রায়ই এমন কৃচ্ছ্রসাধনমূলক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়, যা তাদের নিজস্ব সামাজিক ও অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়ায়।
২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর ইউরোপের বহু মধ্য-বামপন্থী সরকারকে এ ধরনের চাপে পড়তে দেখা গেছে। এ নীতির আরেকটি বড় সমস্যা হলো রাজস্ব ঘাটতি। অর্থনৈতিক সংকোচনের সময় ব্যবসা, বিনিয়োগ ও ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়ায় করের ভিত্তি সংকুচিত হয়। কিন্তু একই সময়ে বেকার ভাতা, সামাজিক নিরাপত্তা ও সরকারি সহায়তার চাহিদা বেড়ে যায়। ফলে কর ব্যবস্থা সংস্কার বা নতুন রাজস্ব উৎস ছাড়া কল্যাণমূলক ব্যয় অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়ে এবং বাজেট বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াও দীর্ঘমেয়াদে অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘লক্ষ্য বড়, দুশ্চিন্তা টাকার’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই সম্প্রসারণমূলক বাজেটের মাধ্যমে সরকার একদিকে মূল্যস্ফীতির চাপে বিপর্যস্ত মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা দিতে চায়, অন্যদিকে দীর্ঘ মেয়াদে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে চায় ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনের ভিত গড়ে তুলতে। এবারেরটি হবে দেশের ৫৫তম এবং বিএনপি সরকারের চতুর্থ মেয়াদের প্রথম বাজেট।
দেশের অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জে জর্জরিত থাকার মধ্যে এই বাজেট-বিষয়ক উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যটি সামনে আনা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি দীর্ঘদিন ধরেই ৯ শতাংশের আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। বেসরকারি বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত গতি পাচ্ছে না। ব্যাংক খাত রয়েছে খেলাপি ঋণের বোঝা ও তারল্যসংকটের চাপের মুখে। বৈদেশিক মুদ্রাবাজার পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। রাজস্ব আহরণও ধারাবাহিকভাবে লক্ষ্যমাত্রার নিচে অবস্থান করছে। এমন প্রেক্ষাপটে তৈরি করা বাজেটটি কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; বরং অর্থনীতিকে পথে ফেরানোর ক্ষেত্রে কতটা দক্ষ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপরেখা হবে, তা-ও দেখার বিষয় হবে।
আগামী অর্থবছরের জন্য জিডিপির আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। বাজেটের আকার জিডিপির প্রায় ১৪ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মোট বিনিয়োগ জিডিপির ৩১ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি খাতের অংশ ২৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং সরকারি খাতের অংশ ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।
অর্থমন্ত্রী ইতিমধ্যে বলেছেন, সবার সুবিধা ও স্বার্থের ভারসাম্য বিবেচনায় রেখেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, উৎপাদন বাড়ানো, বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মধ্যে একটি সুষম সমন্বয় তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।
কিন্তু এবারের বাজেট বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হবে অর্থের জোগান নিয়ে। সরকার আগামী অর্থবছরে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করতে হবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে। অর্থাৎ সরকারের মোট আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশই নির্ভর করছে কর ও রাজস্ব আহরণের ওপর।
কিন্তু রাজস্ব আহরণে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অভিজ্ঞতা আশাবাদী হওয়ার খুব বেশি সুযোগ দিচ্ছে না। এনবিআর ধারাবাহিকভাবে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। আমদানি কমে যাওয়াসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মন্থর গতি, করজালের সীমাবদ্ধতা এবং অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির বিস্তারের কারণে রাজস্ব আদায় প্রত্যাশিত হারে বাড়েনি। ফলে এক অর্থবছরে রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের লাফের এই লক্ষ্যকে অনেক অর্থনীতিবিদই উচ্চাভিলাষী বলে মনে করছেন।
সরকার অবশ্য করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে করভিত্তি সম্প্রসারণের পথ বেছে নিয়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহের ওপর ০.২০ শতাংশ অগ্রিম কর আরোপের প্রস্তাব করা হচ্ছে। প্রতি এক হাজার টাকার পণ্যে এর অঙ্ক হবে মাত্র ২ টাকা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও ‘নো-ফ্রিলস’ হিসাব ছাড়া প্রায় সব নতুন ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। এনবিআরের তথ্যভান্ডারকে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক, ইউটিলিটি সেবা, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করে কেন্দ্রীয় তথ্য সমন্বয়ব্যবস্থাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এবার সরকারের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য বড় এবং ব্যয়ের পরিকল্পনা তার চেয়েও বড়। আগামী অর্থবছরে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ৩ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো, কৃষি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
দেশ রূপান্তর
‘অনগ্রসর খাতে অগ্রগতির রূপরেখা’-এটি দেনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ভঙ্গুর অর্থনীতিকে টেনে তোলা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অনগ্রসর খাতের অগ্রগতির রূপরেখা সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট তৈরি করেছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পরে মাসজুড়ে সরকার ও বিরোধী দলের সম্পূরক আলোচনা শেষে কণ্ঠভোটে বাজেট পাস হবে, যা আগামী বছর ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
জানা গেছে, বাজেটে বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জনে দারিদ্র্য নিরসন ও সামাজিক সুরক্ষা; নারীর ক্ষমতায়ন; কৃষক, কৃষি উন্নয়ন ও নিরাপদ খাদ্য; দেশব্যাপী কর্মসংস্থান; যুব উন্নয়ন; শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন; স্বাস্থ্যসেবা; শ্রম ও শ্রমিক কল্যাণ; বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণ; বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন; গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন; অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নের রূপরেখা দেবেন অর্থমন্ত্রী।
বাজেটে মোটা দাগে তিনটি চ্যালেঞ্জ দেখছেন বিশ্লেষকরা, যার মধ্যে ভেঙেপড়া অর্থনীতিকে সচল করা; বাজেটের আকারের পরিপ্রেক্ষিতে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ও ঘাটতি মেটাতে ব্যাংকনির্ভরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব। এসবের বিবেচনায় একটি বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট প্রস্তাবের আশা করছেন তারা, যার মাধ্যমে বিদ্যমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক স্থবিরতা, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগে মন্দা, রপ্তানি হ্রাস এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের মতো সংকট মোকাবিলা সম্ভব হবে।
শঙ্কা ও সংকটের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সামনের দিনে জনস্বস্তি নিশ্চিত করা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই মূল কাজ।’
জানা গেছে, বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের আলোকে সংস্কার কার্যক্রম ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। পাশাপাশি দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি; ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট; ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট; আগামী অর্থবছরের চ্যালেঞ্জগুলো এবং তা মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এ ছাড়া জাতীয় বাজেট চূড়ান্তকরণে পরবর্তী কার্যক্রম তুলে ধরেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, মোবাইল ফোন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ফ্রিজ-এসিসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যে কর-শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফলে এসব খাতের পণ্য ও সেবার দাম কমতে পারে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া বাজেটে কর ও শুল্ক কাঠামো এমনভাবে সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, শিল্পের কাঁচামাল, চিকিৎসা সামগ্রী, প্রযুক্তিপণ্য ও পরিবেশবান্ধব খাতে খরচ কমে। কারণ সরকারের উদ্দেশ্য হলো মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো এবং বিনিয়োগে উৎসাহিত করা।
অন্যদিকে বিলাসী পণ্যের আমদানির শুল্কবৃদ্ধির প্রস্তাব করবেন অর্থমন্ত্রী, যাতে দেশীয় শিল্প সুরক্ষা পায়। পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলচালিত বিলাসবহুল গাড়ির করভারও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হচ্ছে। এ ছাড়া দেশীয় মদের উৎপাদন পর্যায়ে প্রতি লিটারে ৫০০ টাকা সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, সরকার দেশের প্রতিটি ব্যক্তি ও পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর উৎসে কর হ্রাসের একটি বড় জনমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্য যেমন ধান, চাল, গম, আলু, গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ, ১ শতাংশ থেকে কমে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করবে। বিগত বছরগুলেতে দ্রব্যমূল্রের লাগমহীন ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবনে যে নাভিশ্বাস উঠেছিল, তার বিপরীতে গণতান্ত্রিক সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ পদক্ষেপ জনজীবনে স্বস্তি আনবে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘সংকট মোকাবিলার বাজেট আজ’। খবরে বলা হয়, সংকট ও চ্যালেঞ্জকে সঙ্গী করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল আকারের বাজেট ঘোষণা করবেন আজ। যেখানে চলতি বছরের বাজেটের আকার ধরা হয় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। এ বাজেটে আছে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন ও জনপ্রত্যাশার অসীম চাপও। একদিকে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম ধাপে ধাপে সমন্বয় করা হবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, মাছ, মাংস, আলু, পিঁয়াজ-রসুনসহ ৬০টি খাদ্যপণ্যের ওপর থেকে উৎসে কর কমানোর ঘোষণা দেবেন অর্থমন্ত্রী।
দীর্ঘ ২০ বছর পর দেশ পরিচালনার দায়িত্বে এসে বাজেট ঘোষণার ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান দুজনেরই অভিষেক হতে যাচ্ছে আজ। তবে এটি হবে বিএনপি সরকারের ১৭তম বাজেট। বাজেট উপস্থাপনের আগে সংসদ ভবনের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বাজেট অনুমোদন দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর তা উপস্থাপন করা হবে। জানা গেছে, বাজেটে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ কমিয়ে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের এক উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও স্থানীয় সরকার খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। দেশের বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে উত্তরণ, বৈশ্বিক চাপ মোকাবিলা, দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানিসংকট, বিনিয়োগে স্থবিরতা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ভারসাম্য আনয়ন, সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া এবং দুর্বল আর্থিক খাতের চ্যালেঞ্জ সামলাতে বিভিন্ন খাতে চলমান সংস্কার অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
যেখানে শুধু উচ্চাভিলাষী ব্যয়ই নয়, একইভাবে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব আয়ের পরিকল্পনাও করা হয়েছে। তারপরও বাজেটে রেকর্ড পরিমাণ ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকছে। এ ঘাটতি অর্থায়নে সরকারকে বরাবরের মতো বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ খাতের ওপর নির্ভর করতে হবে। আবার ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাতের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি উৎসকে বেছে নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের আকার ধরা হয় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে এবার বাজেটের আকার বাড়ানো হচ্ছে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে চলতি বাজেটের তুলনায় ১৮.৭৩ শতাংশ বেশি। যা ইতিহাসের রেকর্ড বৃদ্ধি।
বাজেটের পরিকল্পনায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন, নির্বাচনি ইশতেহারের বাস্তবায়ন, সামাজিক সুরক্ষাজালের সম্প্রসারণ, কল্যাণকর অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপনে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড কর্মসূচির বাস্তবায়ন এবং ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ ১৩টি ইস্যুকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এর সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার। যা বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ। এ খাতের অধীনে মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করবেন অর্থমন্ত্রী। যা আগের বছরের তুলনায় অন্তত ১২ হাজার কোটি টাকা বেশি। এ ছাড়া এ খাতের আওতার সঙ্গে বাড়ানো হবে উপকারভোগীর সংখ্যাও।
অর্থ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ২০ বছর পর দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসা অভিষিক্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান তাঁর এই প্রথম বাজেটটাকে দেশের অর্থনীতির জন্য নতুন এক মাইলফলক হিসেবে দেখতে চান। অবশ্য অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীরও এটি প্রথম বাজেট। যা আজ বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
এত সব চ্যালেঞ্জ ও সংকট সত্ত্বেও সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার একটা জোর চেষ্টা থাকবে আজকের বাজেটে। এজন্য চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, মাছ, মাংসসহ ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে কর কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করবেন অর্থমন্ত্রী। এতে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করে সরকার।
