প্রথম আলো
দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার শিরোনাম ‘৫৬ জেলায় হাম ছড়িয়েছে, উদ্বিগ্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বাংলাদেশে গত দুই বছরে শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের ক্ষেত্রে যে ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’ বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে, হামের বর্তমান প্রাদুর্ভাবের সেটাই প্রাথমিক কারণ। দেশের ৫৬ জেলায় হাম ছড়িয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঢাকা কার্যালয় এ তথ্য লিখিতভাবে প্রথম আলোকে জানিয়েছে। প্রথম আলো হাম পরিস্থিতি বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের কাছে থাকা সর্বশেষ তথ্য জানিয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, হামে আক্রান্ত শিশুদের ৬৯ শতাংশের বয়স ২ বছরের নিচে, ৩৪ শতাংশের বয়স ৯ মাসের কম। বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক এ বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশে এন্ডেমিক (রোগের উপস্থিতি সব সময় থাকে) হাম ও রুবেলা ভাইরাসের সংক্রমণ বন্ধ করার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা আছে। এর অর্থ অন্তত ১২ মাস হাম ও রুবেলা ভাইরাসের সংক্রমণ অনুপস্থিত থাকা। এই প্রেক্ষাপটে হাম ও রুবেলা নির্মূলের লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ বেশ ভালো করছিল। প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যায় হামের সংক্রমণের হার ছিল ২০২২ সালে ১ দশমিক ৪১, ২০২৩ সালে ১ দশমিক ৬০, ২০২৪ সালে ১ দশমিক ৪৩ ও ২০২৫ সালে শূন্য দশমিক ৭২। বর্তমানে তা ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ৩০ মার্চ পর্যন্ত দেশে ২ হাজার ১৯০ জন সন্দেহভাজন হামের রোগী পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৬৭৬ জনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সংক্রমণ ছড়িয়েছে ৫৬টি জেলায়। রাঙামাটি, বাগেরহাট, মেহেরপুর, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও বান্দারবান-এই আট জেলায় হাম ধরা পড়েনি।
জাতীয় পর্যায়ে সংক্রমণের হার প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যায় বর্তমানে প্রায় ১৬ দশমিক ৮, যা একটি দেশব্যাপী বিস্তারের স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে উল্লেখ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জেনেভা কার্যালয়কে ১৮ মার্চ জানিয়েছে ঢাকা কার্যালয়।
ইতিমধ্যে সারা দেশে প্রথম আলোর প্রতিনিধির মাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে।
বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে।
কেন এই প্রাদুর্ভাব
বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) সফল বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। তাহলে এখন কেন এমন সংক্রমণ দেখা দিল—এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, এ সংক্রমণের মূল কারণ হলো রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতি। বিশেষ করে দুই বছরের কম বয়সী শিশুরা, যারা গত দুই বছরে বিভিন্ন কারণে হামের টিকার এক বা একাধিক ডোজ পায়নি, তারাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্তদের ৬৯ শতাংশই দুই বছরের কম বয়সী শিশু। এর মধ্যে ৯ মাসের কম বয়সী শিশু ৩৪ শতাংশ, যা এই কনিষ্ঠতম জনগোষ্ঠীর মধ্যে উচ্চ সংবেদনশীলতা নির্দেশ করে।
জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতির এ অবনতি লক্ষ করা যাচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন ২০২৬ সালের মধ্যে দেশ থেকে হাম ও রুবেলা নির্মূল করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সংক্রমণ বেশ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও (প্রতি ১০ লাখে ১-এর নিচে), বর্তমানে তা হঠাৎই বেড়ে গেছে।
যদিও সংক্রমণ ৫৬টি জেলায় ছড়িয়েছে। তবে কিছু এলাকা এখন সংক্রমণের ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণের হার বেশি দেখা যাচ্ছে রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগে। বেশ কিছু জেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকা সংক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ আগে থেকেই সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) মাধ্যমে উচ্চ হারে টিকা দিয়েছে। ২০১৯ ও ২০২৩ সালের মূল্যায়ন জরিপ অনুযায়ী, ১২ মাস বয়সের মধ্যে পূর্ণ টিকাদানের হার ছিল যথাক্রমে ৮৩ দশমিক ৯ শতাংশ ও ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যান্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশও কোভিড-১৯ মহামারির সময় টিকাদানে উচ্চ হার বজায় রাখতে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়, যা শূন্য ডোজ এবং আংশিক টিকাপ্রাপ্ত শিশুদের সংখ্যা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
তা ছাড়া হামের টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের সীমাবদ্ধতা এবং নিম্ন টিকাদান হার সম্মিলিতভাবে একটি সংবেদনশীল জনগোষ্ঠী তৈরি করতে পারে, যা জন্মহারের সমান বা বেশি হয়ে যায়। ফলে ওই জনগোষ্ঠীর বয়সভিত্তিক নির্দিষ্ট একটি অংশে রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতি তৈরি হয়। যখন প্রতিটি জনগোষ্ঠীতে টিকাদানের হার যথেষ্ট থাকে না বা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কম টিকাপ্রাপ্ত শিশুদের সংখ্যা বড় হয়, তখন হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মূল্যায়ন হলো, বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতির প্রতিফলন, যা নিয়মিত ডোজ না দেওয়া, বিভিন্ন এলাকা ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে টিকাদানে অসম হার এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সেবা প্রাপ্তিতে বাধার মতো বিষয়গুলোর সংমিশ্রণ।
পরিস্থিতি কোথায় যেতে পারে—এমন প্রশ্নের উত্তরে সংস্থাটি বলেছে, এটি নির্ভর করবে সাড়াদান কার্যক্রমের গতি ও গুণগত মানের ওপর, বিশেষ করে হামের সম্পূরক টিকাদান কার্যক্রমের ওপর। যদি রোগী শনাক্তকরণ ও অনুসন্ধানপ্রক্রিয়া শক্তিশালী করা যায় এবং আক্রান্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত উচ্চ হারে টিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা যায়, তবে প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে যদি রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতি বজায় থাকে, আরও রোগী বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয় এবং নতুন এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সরকারের জন্য পরামর্শ কী
হামের দেশব্যাপী বিস্তারের পরিপ্রেক্ষিতে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশ সরকারকে প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় কার্যক্রম জোরদার ও ত্বরান্বিত করার পরামর্শ দিয়েছে। এর মধ্যে আছে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সীদের জন্য সারা দেশে দ্রুত উচ্চমানের হাম ও রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করা; নজরদারি জোরদার করা, দ্রুত অবহিতকরণ এবং পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা; উপযুক্ত ক্লিনিক্যাল সেবার সঙ্গে ভিটামিন এ দেওয়াসহ রোগী ব্যবস্থাপনা জোরদার করা; সঠিক তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকি যোগাযোগ ও জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে দক্ষতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিতে হবে।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেনের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রোগতত্ত্ব, রোগের প্রাদুর্ভাব ও মহামারি–বিষয়ক বিভিন্ন কমিটিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। প্রথম আলোকে দেওয়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য ও ব্যাখ্যা সম্পর্কে এই জনস্বাস্থ্যবিদ বলেন, তারা যেসব সুপারিশ করেছে, তা যথাযথ বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু মাঠপর্যায়ে নয়, কেন্দ্র ও জেলা পর্যায়ে উপযুক্ত জনবলের ঘাটতি আছে। জনবলঘাটতি দূর করতে হবে, ঠিক মানুষকে ঠিক জায়গায় বসাতে হবে। আর কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করতে না পারলে উদ্দেশ্য সফল হবে না।
প্রথম আলোর আরেকটি শিরোনাম ‘প্রতিবেশীদের জ্বালানি সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে ভারত: জয়সোয়াল’। প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট জ্বালানিসংকটে প্রতিবেশী দেশগুলোকে সহযোগিতায় ভারতের হাত প্রসারিত আছে। নিজেদের প্রয়োজন নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভারত প্রতিবেশীদেরও সাহায্য করে চলেছে। আজ বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেই সহযোগিতার ওপর আলোকপাত করেছেন।
মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে জ্বালানিসংকটে প্রতিবেশীদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, বাংলাদেশকে ভারত জ্বালানি দিচ্ছে ২০০৭ সাল থেকেই। এ বিষয়ে দুই দেশের বাণিজ্যিক বোঝাপড়া রয়েছে। এই সহযোগিতা আজও অব্যাহত। জ্বালানির প্রয়োজন মেটাতে শ্রীলঙ্কার দিকেও ভারত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কাকে ৩৮ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোপণ্য দেওয়া হয়েছে, যা তারা চেয়েছিল। নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে ভারতের সহযোগিতাও অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
জয়সোয়াল বলেন, সম্প্রতি মালদ্বীপ সরকারের কাছ থেকেও একটি অনুরোধ এসেছে। সে দেশের সরকার ভারত থেকে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে পেট্রোপণ্য সরবরাহে আগ্রহ দেখিয়েছে। নিজেদের প্রয়োজন ও মজুতের কথা মাথায় রেখে মালদ্বীপের অনুরোধ বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে। জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে মরিশাস ও সেশেলশের সঙ্গেও ভারত যোগাযোগ রেখেছে বলে তিনি জানান। জয়সোয়াল বলেন, তবে ওই দুই দেশ জ্বালানি সরবরাহ করা নিয়ে কোনো অনুরোধ ভারতকে করেনি।
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের আসন্ন ভারত সফর নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। এই সফর ঘিরে ভারতের প্রত্যাশার কথা জানতে চাওয়া হলে মুখপাত্র বলেন, সফর চূড়ান্ত হলে ঠিক সময়ে সব জানানো হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে (আইসিটি) সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঠানো চিঠি প্রসঙ্গে ভারতের অভিমত জানতে চাওয়া হয়েছিল। জয়সোয়াল বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার শিরোনাম ‘শনাক্ত বাড়লেও হামে গুরুত্ব দেয়নি অন্তর্বর্তী সরকার।’ প্রতিবেদনে বলা হয়,দেশে হামের সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব কোনো হঠাৎ তৈরি হওয়া সংকট নয়, বরং এর আগাম সতর্ক সংকেত ছিল স্পষ্ট এবং উদ্বেগজনক।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকেই নমুনা পরীক্ষায় অস্বাভাবিক হারে সংক্রমণ শনাক্ত হতে শুরু করে।
কোনো দিন ৩০ শতাংশ, আবার কোনো দিন ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত পজিটিভ পাওয়া যাচ্ছিল।
বিষয়টি জানুয়ারির শুরুতেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওই সময় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে বর্তমানের এই প্রাণঘাতী পরিস্থিতি অনেকটাই এড়ানো যেত।
বিশেষজ্ঞরা হামের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পেছনে টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের ঘাটতির কথা তুলে ধরছেন।
দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি প্রতি ৪ বছর অন্তর একটি বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনার কথা থাকলেও ২০২৪ সালে রাজনৈতিক কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। পরবর্তী বছরেও বিভিন্ন কারণে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়, যা এই প্রাদুর্ভাবের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সমকাল
সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘গণভোট, বিচার বিভাগ সংস্কার, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাদ।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, গণভোট, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশসহ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ২০টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাচ্ছে।
কারণ,সংসদের চলতি অধিবেশনে এসব অধ্যাদেশ উত্থাপন না করার সুপারিশ করেছে এ সংক্রান্ত সংসদীয় বিশেষ কমিটি।
এই ২০টি অধ্যাদেশের মধ্যে চারটি অধ্যাদেশ সরাসরি রহিতকরণের সুপারিশ করেছে বিশেষ কমিটি।
সেগুলো হচ্ছে- সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ২০২৫, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৬ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ ২০২৪।
এছাড়া, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অপরিবর্তিত অবস্থায় এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংসদে বিল আকারে উত্থাপনের জন্য সুপারিশ করেছে কমিটি।
দৈনিকটির ক্ষমতা বৃদ্ধির অধ্যাদেশ আইন হচ্ছে, জবাবদিহি বৃদ্ধিরগুলো বাদ যাচ্ছে শিরোনামে আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে নিজেদের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অন্তর্বর্তী সরকার যেসব অধ্যাদেশ জারি করেছিল, সেগুলো আইনে রূপান্তরে সংসদকে সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি।
আবার যেসব অধ্যাদেশে সরকারের জবাবদিহি বাড়ানো হয়েছিল, সেগুলো রহিত কিংবা এখনই সংসদে উত্থাপন না করার সুপারিশ করা হয়েছে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার শিরোনাম ‘সংসদের উত্তাপ রাজপথে।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, সংবিধান সংস্কার পরিষদ ইস্যুতে সংসদের উত্তাপ গড়াচ্ছে রাজপথে।
গণভোটের আলোকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে শনিবার বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।
তারা বলছে, সংবিধান সংস্কারে দেশের জনগণ জুলাই আদেশ বাস্তবায়নের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু সরকারি দল বিএনপি সংবিধান সংস্কার না করে তাদের পছন্দমতো কিছু বিষয় সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। যা জনরায়কে উপেক্ষা করা।
এ কারণে দাবি আদায়ে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি দিতে ৭ই এপ্রিল বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।
ওই বৈঠক থেকে বৃহত্তর আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করা হবে।
আজকের পত্রিকা
আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার শিরোনাম ‘বিকল্প উৎস থেকে সাত লাখ টন তেল আনা হবে।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, চলতি এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের চাহিদা পূরণের মতো ব্যবস্থা বাংলাদেশের রয়েছে।
এছাড়া, বিকল্প উৎস থেকে মোট সাত লাখ টন জ্বালানি তেল আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তবে এ জন্য বিভিন্ন প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে হবে, যা কিছুটা সময়সাপেক্ষ। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, গত এক মাসে অন্তত সাতটি বিদেশি কোম্পানি জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে।
এসব কোম্পানির প্রস্তাবে অন্তত সাত লাখ টন পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রয়েছে।
প্রস্তাবগুলো আমদানিপ্রক্রিয়ার কিছু ধাপ পার হলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত এলসি খোলার পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
বণিক বার্তা
দৈনিক বণিক বার্তার শিরোনাম ‘রান্নার সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়ল প্রায় ২৯ শতাংশ।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মাস এপ্রিলের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম এক হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মাসে একই সিলিন্ডারের এলপিজির দাম ছিল এক হাজার ৩৪১ টাকা।
নতুন এ দামের ফলে মার্চের তুলনায় এক লাফে দাম বেড়েছে ৩৮৭ টাকা, যা প্রায় ২৯ শতাংশ।
গাড়িতে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বাড়িয়েছে কমিশন। চলতি মাসের জন্য অটোগ্যাসের লিটারপ্রতি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা, যা মার্চে ছিল ৬১ টাকা ৮৩ পয়সা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে অটোগ্যাসের দামও বেড়েছে ২৯ শতাংশের বেশি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী সংকট তৈরি হলেও সরকার এখনো জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ায়নি।
তবে এলপিজির দাম প্রতি মাসে সমন্বয়ের ধারাবাহিকতায় এটি কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।
দাম নির্ধারণকারী সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে এলপিজির প্রধান উপাদান বিউটেন ও প্রোপেনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারেও এ দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
ইত্তেফাক
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার শিরোনাম ‘হাসপাতালের ৩০ একর জমিই হাতছাড়া!।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত দেশের প্রাচীনতম সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালটি নিজেই ‘সংক্রামক ব্যাধিতে’ আক্রান্ত। জানা গেছে, সাততলা ভবনে ১০০ বেডের এই হাসপাতালের নামে ৩৩ একর জমি বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু অবৈধ দখল হতে হতে বর্তমানে মাত্র তিন একর জায়গা হাসপাতালের দখলে রয়েছে। তারপরও দখল বন্ধ হয়নি।
হাসপাতাল অভ্যন্তরে গড়ে উঠেছে বস্তি, রিকশা গ্যারেজ, হোটেলসহ বিভিন্ন দোকানপাট। পরিবেশও নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। সকাল-সন্ধ্যা ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করে। দিনভর চলে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের কেনাবেচা ও সেবন। এই অবস্থার মধ্যেই সংক্রামক নানা রোগের চিকিৎসা দিচ্ছেন হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
তাদের ভাষ্য, হাসপাতালটিতে দিনের বেলায় মানুষের যাতায়াত থাকায় কিছুটা ভয় কম লাগে। কিন্তু সন্ধ্যার পর জীবন বাজি রেখে রোগী ও চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিতদের আসা-যাওয়া করতে হয়। দেশে হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধি ব্যাপকহারে বাড়ছে। অবিলম্বে হাসপাতালটি কমপক্ষে ৫০০ বেডে উন্নীত করা এবং ক্যাম্পাস দখলমুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।
অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একশ্রেণির সদস্য মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা পেয়ে থাকেন। দখলবাজদের সঙ্গে হাসপাতাল ও গণপূর্ত বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীও জড়িত। তাছাড়া যে দল ক্ষমতায় যায়, সেই দলের একশ্রেণির নেতাকর্মীর নিয়ন্ত্রণে চলে বস্তি ও মাদকের কারবার। এ কারণে কেয়ামত পর্যন্ত এই হাসপাতালটির জায়গা উদ্ধার করা বা মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান। তিনি আরো জানান, বিগত সকল সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কিংবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই হাসপাতাল এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন। ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। দখল অব্যাহত আছে।
হাসপাতালে কর্তব্যরত একাধিক চিকিৎসক জানান, এই হাসপাতালে হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ, কুকুর, বানর, বিড়াল, শিয়ালসহ বিভিন্ন হিংস্র প্রাণির কামড়ে আহত, ধনুষ্টঙ্কার, ভাইরাল এলকোফলাইটিস, ডিপথেরিয়া, ভাইরাল হেপাটাইটিস, এইচআইভি পজিটিভ, জন্ডিস, জলবসন্ত, নিউমোনিয়া, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের চিকিৎসা ও টিকা দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত হাসপাতালটি পূর্ণ সক্ষমতায় সেবা দিতে পারছে না।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বেনজীর আহমেদ বলেন, হাসপাতালটিকে ৫০০ বেডের অত্যাধুনিক হাসপাতালে সম্প্রসারণ করা জরুরি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত কুমার বিশ্বাস বলেন, ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি মন্ত্রীর নজরে এসেছে বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সর্দার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ‘অবৈধ উচ্ছেদসহ আগামী বাজেটে এই হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে।’
