নিউজিল্যান্ড সিরিজে যে সমীকরণ বাংলাদেশের

নিউজিল্যান্ড সিরিজে যে সমীকরণ বাংলাদেশের

ফন্ট সাইজ:

১৭ই এপ্রিল থেকে দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। মিরপুর শেরেবাংলা ও চট্টগ্রামের সাগরিকা স্টেডিয়ামে হবে ম্যাচগুলো। আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি এবং আসন্ন ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সরাসরি টিকিট নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সিরিজটি টাইগারদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ৪১ ম্যাচে ৩২৪৩ পয়েন্ট ও ৭৯ রেটিং নিয়ে আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ের নবম স্থানে অবস্থান করছে বাংলাদেশ । অন্যদিকে প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড ১১৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। আইসিসি’র নিয়মানুযায়ী শক্তিশালী দলকে হারালে বেশি বোনাস পয়েন্ট পাওয়া যায়। তাই কিউইদের হারাতে পারলে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট বৃদ্ধি পাবে। তবে এক সিরিজ জিতেই বাংলাদেশের অষ্টম স্থানে উঠে আসার সমীকরণটি বেশ কঠিন। দশম স্থানে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেটিং ৭৭ এবং অষ্টম স্থানে থাকা ইংল্যান্ডের রেটিং ৮৮। পয়েন্টের ব্যবধান অনেক বেশি হওয়ায় এখনই এই অবস্থানে পৌঁছানো গাণিতিকভাবে প্রায় অসম্ভব। তবুও আগামী বিশ্বকাপের সরাসরি যোগ্যতার জন্য এই সিরিজের প্রতিটি ম্যাচ জেতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন আপাতত শুধু দল নিয়ে ভাবছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘যেহেতু হোম সিরিজ তাই একটু সময় নিয়েই দল ঘোষণা করবেন। তিনি বলেন, ‘সিরিজে কী হবে না হবে সেটি নিয়ে এখনই ভাবছি না। দলটা আগে রেডি করি। যেহেতু হোম সিরিজ, একটু ধীরেসুস্থেই দল ঘোষণা করবো।’ আইসিসি’র নিয়মানুযায়ী, নিজেদের চেয়ে অনেক বেশি রেটিং পয়েন্টধারী দলকে হারালে বোনাস পয়েন্ট পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতলে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। আর যদি নিউজিল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করা যায়, তবে রেটিং পয়েন্টে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটবে। এর ফলে দশম স্থানে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ব্যবধান বাড়িয়ে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করা সম্ভব হবে। সবশেষ ঘরের মাঠে পাকিস্তান সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয়ী দলের খেলোয়াড়দের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করেই মূলত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে স্কোয়াড সাজানো হবে। তরুণদের পারফরম্যান্স গত সিরিজে চোখে পড়ার মতো ছিল। বিশেষ করে সিরিজের নির্ধারণী ম্যাচে তানজিদ হাসানের ১০৭ বলে করা ১০৭ রানের দুর্দান্ত শতকটি ছিল অনবদ্য। এছাড়া মিডল অর্ডারে তাওহীদ হৃদয় মাত্র ৪৪ বলে ৪৮ এবং লিটন দাস করেন ৪১ রান। এই পরিসংখ্যানগুলো নিশ্চিত করে যে, কিউইদের বিপক্ষে টপ ও মিডল অর্ডারে এই ব্যাটারদের অবস্থান বেশ শক্ত। সাইফ হাসানও শেষ ম্যাচে ৩৬ রান করে দলে নিজের প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করেছেন। এই পারফরম্যান্সগুলো স্কোয়াডে তাদের জায়গা অনেকটাই পাকা করে দিয়েছে। শক্তিশালী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেতে ফর্মে থাকা এই দলটির ওপরই পুরো আস্থা রাখবে দেশের নির্বাচক কমিটি। তবে এই সিরিজে টপ অর্ডারে দেখা যেতে পারে সৌম্য সরকারকে। বোলিং আক্রমণেও পেসারদের রাজত্ব অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা প্রবল। পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে তাসকিন আহমেদ দশ ওভার বল করে মাত্র ৪৯ রান দিয়ে ৪টি উইকেট তুলে নেন। অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান ৫৪ রানে পান ৩ উইকেট। সিরিজের প্রথম ম্যাচে অসাধারণ বোলিং করে ম্যাচসেরা হওয়া তরুণ পেসার নাহিদ রানা শেষ ম্যাচেও ৬২ রানে ২ উইকেট শিকার করেন। স্পিন বিভাগে রিশাদ হোসেন ৫৬ রানে ১ উইকেট নেন। অন্যদিকে মেহেদী হাসান মিরাজ উইকেট না পেলেও দশ ওভারে মাত্র ৩৭ রান দিয়ে রান আটকে রাখার কাজটা দারুণভাবে করেন। নিউজিল্যান্ড দলেও মিচেল স্যান্টনারের মতো দারুণ ফর্মে থাকা খেলোয়াড়রা রয়েছেন। তাই সিরিজটি জিততে হলে বাংলাদেশের ব্যাটার ও বোলার উভয়কেই সমান দায়িত্ব পালন করতে হবে। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এই সিরিজটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে আয়োজক দেশ হিসেবে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলবে। বাকি দলগুলোর মধ্য থেকে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আট দল সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। বাংলাদেশ বর্তমানে এই তালিকার নবম স্থানে রয়েছে। দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ জানিয়েছেন যে, ২০২৬ সালটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপে সরাসরি টিকিট নিশ্চিত করার জন্য কিউইদের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে জয়লাভ করা ছাড়া কোনো সহজ বিকল্প খোলা নেই। মিরপুরের স্পিন সহায়ক উইকেটে স্পিনাররা বড় ভূমিকা রাখলেও, বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে ব্যাটারদের প্রস্তুতির জন্য স্পোর্টিং বা ট্রু উইকেটের প্রত্যাশা করেছেন অধিনায়ক মিরাজ আর চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেট বরাবরই ব্যাটিং সহায়ক।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন