এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেকে জিততে জিততে হেরে যায় বাংলাদেশ। রক্ষণের ভুলে ১০ মিনিটের ব্যবধানে দুই পেনাল্টিসহ তিন গোল হজম করে সাগরিকা-অর্পিতারা। এতে দারুণ সুযোগ হাতছাড়া হয় বাংলাদেশের। হারের সেই হতাশা ভুলে চীন ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ। আগামীকাল চীনের মুখোমুখি হবে লাল-সবুজ মেয়েরা। ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভিয়েতনামকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে রয়েছে চীন। দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়েও থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-২ গোলে হেরে আসর শুরু করা বাংলাদেশ আছে তৃতীয় স্থানে। তিন গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ এবং তৃতীয় হওয়া তিন দলের মধ্যে সেরা দুটি যাবে কোয়ার্টার-ফাইনালে। ফলে প্রথম ম্যাচ হারলেও কোয়ার্টার ফাইনালের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি বাংলাদেশের। ঘুরে দাঁড়াতে গতকাল ব্যাংককের অ্যালপাইন ট্রেনিং সেন্টারে অনুশীলন করে মেয়েরা। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) পাঠানো বার্তায় সহকারী কোচ আবুল হোসেন বলেন, মানসিকভাবে কিছুটা ভেঙে পড়া মেয়েদের চাঙ্গা করার চেষ্টা করছেন তারা। তিনি বলেন, ‘আমরা বুঝিয়েছি যে, সবশেষ ম্যাচে যা হয়েছে, যে ভুলগুলি হয়েছে, ওটা বাদ। ওটা থেকে আমরা কী শিক্ষা নিয়েছি এবং ভবিষ্যতে আমরা কী করবো চীনের সাথে, সেটা নিয়ে আমাদের চিন্তা করা উচিত। বিগত ভুলগুলো শুধরে নিতে আমরা কাজ করবো। ভুলের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, আমরা এভাবেই ভাবছি এবং খেলোয়াড়রাও সেভাবেই অনুপ্রাণিত হচ্ছে।’
অনুশীলন সেশন নিয়ে আবুল হোসেন বলেন, ‘আজকে (গতকাল) একদল রিকভারি করেছে এবং আরেকদলকে আমি অনুশীলন করিয়েছি। কোচ বলেছেন আমরা থাইল্যান্ড ম্যাচটা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারতাম। এটা নিয়ে আমাদের একটু কাজ হয়েছে। আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ চিন্তা করছি। সবশেষ ম্যাচে কী ভুল করেছি, সেটা নিয়ে আমরা কাজ করেছি এবং চীনের সাথে কীভাবে খেলবো, সেই ভুলগুলি যেন না হয়, সেটার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি।’ থাইল্যান্ড ম্যাচে জোড়া গোল করে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশকে জয়ের পথে রাখেন সাগরিকা। সেই আক্ষেপ ফুটে ওঠলো তার কন্ঠে, ‘আসলে বলবো না যে থাইল্যান্ড খারাপ (দল)। ওরা অনেক ভালো। আমরাও ভালো করেছিলাম প্রথমার্ধে, কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আমরা ধরে রাখতে পারিনি। তাই আমরা হেরে গেছি। দ্বিতীয়ার্ধে যখন দুই-একটা গোল খেয়ে ফেলি, তখন সবার মন-মানসিকতা একটু ডাউন হয়ে গিয়েছিল, সেখান থেকেই এমন হয়েছে। আসলে সেখান থেকে আমরা চেষ্টা করছিলাম কামব্যাক করার, কিন্তু আমরা পারিনি।’ চীনের বিপক্ষে ভালো কিছু করার আশা সাগরিকার। তিনি বলেন, ‘প্রথম ম্যাচেই আমি দুইটা গোল করছি। অনেক ভালো লাগছিল। দল সমর্থন দিয়েছিল। সতীর্থরা যদি বল না দিতো, তাহলে আমি গোল করতে পারতাম না...দল সমর্থন দিয়েছে বলে আমি গোল করতে পেরেছি। তো অনেক ভালো লাগছিল। কিন্তু ম্যাচটা হেরে যাওয়ার পর... (দীর্ঘশ্বাস)। তবে পরের ম্যাচের জন্য অবশ্যই প্রস্তুত আছি। আমরা সবাই চেষ্টা করবো ভালো কিছু করার জন্য। ইনশাআল্লাহ ভালো কিছু করে মাঠ থেকে ফিরবো।’
এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপ
হতাশা পেছনে ফেলে বাংলাদেশের ভাবনায় চীন
স্পোর্টস রিপোর্টার
৩ এপ্রিল (শুক্রবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
