হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে ৩৫টি দেশ পদক্ষেপ নেবে: বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী

হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে ৩৫টি দেশ পদক্ষেপ নেবে: বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

বৃটেন এই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর উপায় নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্মেলনের আয়োজন করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। তিনি বলেন, ৩৫টি দেশ একটি যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে। সেখানে এই গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুটে সামুদ্রিক নিরাপত্তা পুনঃস্থাপনে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। স্টারমার বলেন, এই বৈঠকে ‘নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার, আটকে থাকা জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের পরিবহন পুনরায় শুরু করতে আমরা কী কী কার্যকর কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিতে পারি- তা মূল্যায়ন করা হবে।’ এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। তিনি আরও বলেন, এই বৈঠকের পর আমরা সামরিক পরিকল্পনাকারীদেরও একত্র করবো, যাতে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর কীভাবে আমাদের সক্ষমতাগুলো ব্যবহার করে প্রণালিকে নিরাপদ ও চলাচলযোগ্য করা যায়, তা নির্ধারণ করতে পারি।
এই উদ্যোগে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বৃটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান এবং নেদারল্যান্ডস। স্টারমার বলেন, এই যুদ্ধের প্রভাব একটি প্রজন্মকে প্রভাবিত করবে। এটি ১৯৭০-এর দশকের জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। ওদিকে স্টারমারের এই মন্তব্য এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বারবার সমালোচনার পর। একদিন আগে ট্রাম্প সেই দেশগুলোকে তিরস্কার করেন যারা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেনি। তিনি বলেন, তারা যেন ‘নিজেদের তেল নিজেরাই জোগাড় করে।’ তিনি লিখেছেন, যেসব দেশ হরমুজ প্রণালির কারণে জেট ফুয়েল পাচ্ছে না যেমন বৃটেন, যারা ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নেয়নি, তাদের জন্য আমার পরামর্শ: এক, যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিনুন, আমাদের কাছে প্রচুর আছে। দুই, কিছু সাহস দেখান, প্রণালিতে যান এবং সেটি নিজেরা দখল করুন।
ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করেন যারা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেয়নি, বিশেষ করে বৃটেন ও ফ্রান্সকে লক্ষ্য করে তিনি বক্তব্য দেন। এতে ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, নিজেদের জন্য লড়াই করতে শিখুন। কারণ যুক্তরাষ্ট্র আর আপনাদের সাহায্যে থাকবে না। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর স্টারমার ও ট্রাম্পের সম্পর্ক প্রকাশ্যে অবনতি ঘটেছে। স্টারমার প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে দু’টি বৃটিশ ঘাঁটি থেকে ইরানে হামলার অনুমতি দেননি। তবে পরে তিনি প্রতিরক্ষামূলক মিশন পরিচালনার অনুমতি দেন।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন