গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ভাড়া বাসা থেকে কবিতা (২৫) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় লাশের পাশে পড়ে থাকা অবস্থায় কর্তনকৃত একটি পুরুষ লিঙ্গ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার রাতে উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের পারআমলাগাছী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কবিতা বেগম (২৫) সাদুল্লাপুর উপজেলার খোদ্দ কোমরপুর ইউনিয়নের বড় গোপালপুর গ্রামের বকু মিয়ার মেয়ে। তিনি ওই উপজেলার ঈদিলপুর ইউনিয়নের চকভগবানপুর গ্রামের হারুন মিয়ার স্ত্রী। এ বিষয়ে বেতকাপা ইউপি সদস্য আতোয়ারা বেগম জানান, দীর্ঘদিন থেকে স্বামী হারুনের সঙ্গে কবিতা ১০-১২ বছরের হানিফ নামের একটি ছেলে সন্তান নিয়ে পারআমলাগাছী গ্রামে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোস্তাফিজারের বাসায় ভাড়া থাকতেন। তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। এ অবস্থায় কয়েকদিন আগে কবিতা তার হানিফকে নিয়ে বাবার বাড়ি সাদুল্লাপুর উপজেলার বড় গোপালপুর গ্রামে অবস্থান করছিলেন। তার স্বামী হারুন গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে বোন এবং ভগ্নিপতিকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি বড় গোপালপুর থেকে পরিকল্পিতভাবে ভাড়া বাসায় আসেন। কৌশলে হানিফকে নানা বাড়িতে রেখে আসে। শনিবার সকালে স্থানীয়রা ওই বাসার একটি কক্ষে বিছানার ওপর কবিতার গলাকাটা মরদেহ ও বাড়ির উঠানে একটি কাটা পুরুষাঙ্গ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। তিনি জানান, পরকীয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে প্রায়ই পারিবারিক দ্বন্দ্ব কলহ লেগেই থাকতো। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে হারুন, তার বোন ও ভগ্নিপতি পলাতক রয়েছে।
বেতকাপা ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তা জানান, হারুনের আপন ছোট ভাই আনারুলের সঙ্গে কবিতা বেগমের পরকীয়া চলছিল। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে কলহ লেগেই থাকতো। তবে আনারুল বর্তমানে শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছেন। ফলে পুরুষাঙ্গটি কার তা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, হারুনের ছোট ভাই আনারুলের স্ত্রী পাশাপাশি বাসায় ভাড়া থাকায় পরকীয়ার বিষয়টি আগে থেকেই জানতো। শুক্রবার তিনি ঢোলভাঙ্গা অবস্থান করছিলেন। এ সময় কতিপয় যুবক তাকে আটকে রেখে মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি জানান। ঘটনার পর থেকে আনারুলের স্ত্রীও পলাতক রয়েছে। এ বিষয়ে পলাশবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ সরওয়ারে আলম খান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ ও সিআইডি লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নিহত কবিতার স্বামী হারুনসহ হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন অনেকে পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এ ব্যাপারে নিহত কবিতার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানা যায়।
বাসা থেকে গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার
পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
২৯ মার্চ (রবিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
