পূর্বাচলে ফের সক্রিয় ঘোড়া জবাই চক্র, অভিযান

পূর্বাচলে ফের সক্রিয় ঘোড়া জবাই চক্র, অভিযান

ফন্ট সাইজ:

রূপগঞ্জের পূর্বাচল নতুন শহরে আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির চক্র। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস গরুর মাংস হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছিলো বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার ভোররাতে পূর্বাচলের ১০ নম্বর সেক্টরের ৩০৬ নম্বর সড়কে একটি বাউন্ডারি বেষ্টিত প্লটে অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১টি বাচ্চাসহ মোট ১২টি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করে। একইসঙ্গে আলাদা প্লটের ভেতর থেকে জবাইকৃত ২৫টি ঘোড়ার মাংস জব্দ করা হয়। র‌্যাব পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘোড়া জবাই চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়। জানা যায়, ভোররাতে ওই প্লটের মালিক শামসুল হক ভরসা তার মালিকানাধীন ১০ কাঠার বাউন্ডারি বেষ্টিত প্লটের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় ভেতরে ২০-২৫ জনের একটি দলকে আলো জ্বালিয়ে কিছু জবাই করতে দেখেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি তিনশ’ ফিট সড়কে টহলরত র?্যাব-১ এর সদস্যদের বিষয়টি জানান। পাশাপাশি সরকারি পরিষেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে র?্যাব ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালালে চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়। পরে সকালে আশপাশের আরও কয়েকটি প্লটে অভিযান চালিয়ে অন্তত ২৫টি ঘোড়ার জবাইকৃত মাংস বস্তাবন্দি ও খোলা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়াও বিভিন্ন প্লট থেকে বিপুল পরিমাণ ঘোড়ার হাড় জব্দ করা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ভিড় জমায় এবং এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। দুপুরে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে জব্দ করা মাংস মাটিতে পুঁতে ফেলার ব্যবস্থা নেয়া হয় এবং উদ্ধার হওয়া জীবিত ঘোড়াগুলো স্থানীয় চিড়িয়াখানা বা খামারে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়। এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পূর্বাচলের মমতাজ রেস্টুরেন্টের মালিক জাহাঙ্গীরকে ৫ হাজার টাকা এবং তাহের রেস্টুরেন্টের মালিক রাজুকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, পূর্বাচল একটি বৃহৎ এলাকা। সীমিত জনবল নিয়ে পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা পুলিশের জন্য চ্যালেঞ্জিং। তারপরও পুলিশ সদস্যরা দিন-রাত দায়িত্ব পালন করে পূর্বাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। ঘোড়া জবাই চক্রের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, জব্দ করা ঘোড়ার মাংসগুলো ডাম্পিং করে মাটিতে পুঁতে ফেলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া জীবিত ঘোড়াগুলো চিড়িয়াখানা বা যারা ঘোড়া লালন-পালন করেন তাদের জিম্মায় দেয়া হবে। মাংস কোথায় কোথায় সরবরাহ করা হচ্ছিলো তা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন