টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের

টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের

ফন্ট সাইজ:

টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর আপার ভদ্রা নদীর উপর নির্মিত ব্রিজটি বর্তমানে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গত ২রা নভেম্বরে মানবজমিন প্রত্রিকায় খুলনার ‘ডুমুরিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়েই চলছে ভারী যানবাহন’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হলেও কর্তৃপক্ষ আমলে নেয়নি। অন্যদিকে বিগত কয়েকদিন ধরে মাটিভর্তি দশ চাকার ডাম্প ট্রাক রাত ৯টা থেকে সারা রাত ব্রিজের উপর দিয়ে চলাচল করছে। বর্তমানে ব্রিজের প্রায় সবগুলো পিলারে ফাটল ধরে ভেঙে পড়ার অবস্থা তৈরি হয়েছে। অতিদ্রুত ব্রিজটির ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। সরজমিন দেখা যায়, ব্রিজের নিচের প্রায় সব কয়টি পিলারে ফাটল ধরেছে। উপরের রেলিংয়ে কোনো প্লাস্টার নেই, মরিচাযুক্ত লোহার রড বেরিয়ে রয়েছে। এমনকি ব্রিজের উপরের সোলিং উঠে গেছে। যে কারণে যেকোনো সময় ব্রিজ ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে স্থানীয় সচেতন মহল। জানা যায়, ১৯৮৮ সালে ইউএসএইড’র সহযোগিতায় আমেরিকান সরকারের অর্থায়নে বাংলাদেশ ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ডি জি রিলিফ ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে মাত্র ৫ টন মালামাল বহন ক্ষমতাসম্পন্ন ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের প্রথমদিকে ব্যবহারে নিয়ম নীতি মানা হয়। পরবর্তীতে একই রাস্তায় শোলগাতিয়া ব্রিজ নির্মাণের পর থেকে পণ্যবাহী ভারী যানবাহন চলাচল শুরু হয়। এদিকে খুলনার অন্যতম বাণিজ্যিক শহর চুকনগরের সঙ্গে যশোরের শিল্প নগরী নওয়াপাড়া ও বেনাপোল বন্দরের সংযোগ স্থাপন করে ভদ্রা নদীর এই ব্রিজ। তখন থেকে এই ব্রিজের উপর দিয়ে সার, সিমেন্ট, রড, বালু, চাল, ধান, ভোজ্য পণ্যবাহী ট্রাক, ডাম্প ট্রাক পিকআপসহ সকল ধরনের যানবাহন ৪০ থেকে ৫০ টন লোড নিয়ে যাতায়াত করছে। ব্রিজের তলদেশে ফাটল নিয়ে কথা বললে তারা ব্রিজের করুণ অবস্থার বিষয়টি জানেন না বলেও জানান চালকরা। স্থানীয়রা জানায়, ব্রিজটির নাজুক অবস্থা হওয়ায় ২০১৮ সালে ব্রিজের দুই মাথার মাঝখানে বিপদসীমার চিহ্ন দিয়ে ব্রিজটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে উপজেলা প্রশাসন। সময়ের ব্যাবধানে বিপদসীমার চিহ্নসহ পিলার হারিয়ে গেছে। এদিকে পরিত্যক্তের প্রায় ৭ বছর অতিবাহিত হলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে চুকনগর বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক সরদার বিল্লাল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজের তলদেশে ফাটল ধরেছে- রেলিং নষ্ট হয়ে গেছে। তাই আমি কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানাই। এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. কামরুল ইসলাম সরদার বলেন, নতুন করে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক (খুলনা) আ স ম জামশেদ খোন্দকার মানবজমিনকে বলেন, আমি মাত্র জানলাম ব্রিজটির ব্যাপারে। খোঁজ নিয়ে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন