ইরান যুদ্ধ গুটিয়ে নেয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের, তবু মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সেনা মোতায়েন

ইরান যুদ্ধ গুটিয়ে নেয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের, তবু মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সেনা মোতায়েন

ফন্ট সাইজ:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানে চলমান সামরিক অভিযান ‘ধীরে ধীরে গুটিয়ে নেয়ার’ বিষয় বিবেচনা করছেন। তবে একই সময়ে তার প্রশাসন ২৫০০ মার্কিন মেরিন সেনা নতুন করে ওই অঞ্চলে মোতায়েন করছে এবং যুদ্ধের জন্য মার্কিন কংগ্রেসের কাছে আরও অর্থ চেয়েছে। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের মহান সামরিক অভিযান গুটিয়ে নেয়ার কথা বিবেচনা করছি। কারণ আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। বার্তা সংস্থা এএফপি, এপি’কে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
ট্রাম্পের তরফ থেকে এই বার্তা আসে এমন সময়ে, যখন তেলের দাম আবার বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় পতন দেখা যায়। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা দেয় যে, জাহাজে ইতিমধ্যে লোড করা ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে, যাতে জ্বালানির দাম কিছুটা কমানো যায়।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক্সে এক পোস্টে বলেন, প্রেসিডেন্ট এবং পেন্টাগন শুরু থেকেই বলছিলেন এই মিশন শেষ হতে প্রায় ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ লাগতে পারে। তিনি আরও বলেন, শনিবার যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহ পূর্ণ হবে এবং মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী অসাধারণ কাজ করছে। প্রতিদিনই ইরানি শাসনব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের হুমকি দেয়ার ক্ষমতা কমছে।
ওয়াশিংটন থেকে প্রতিবেদনে আল জাজিরার সাংবাদিক রোজালিন্ড জর্ডান বলেন- ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ- এটাই এখন ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন সময়সীমা, যার মধ্যে অপারেশন এপিক ফিউরি শেষ হতে পারে। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হোয়াইট হাউস কখনো পরিষ্কার করে বলেনি যুদ্ধ কতদিন চলবে, কত ধরনের সামরিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হবে, কিংবা কোন মানদণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র বিজয় ঘোষণা করবে।
ওদিকে তিন সপ্তাহ পার হলেও যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নেই। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী তেহরান এবং আশপাশের এলাকায় হামলা চালিয়েছে, ঠিক যখন ইরানে পারসিক নববর্ষ নওরোজ শুরু হয়। উত্তর ইরানের কিয়াশাহর এলাকার দাস্তাক গ্রামে গোলাবর্ষণে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন গিলান প্রদেশের গভর্নর। এদিকে আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরান ভারত মহাসাগরে অবস্থিত ডিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ঘাঁটিটি যৌথভাবে পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেন। অন্যদিকে ইসরাইল জানিয়েছে, শনিবার ভোরেও ইরান তাদের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রাখে। সৌদি আরব বলেছে, তাদের পূর্বাঞ্চলে যেখানে বড় বড় তেল স্থাপনা রয়েছে সেখানে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ২০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
যদিও ট্রাম্প বলছেন লক্ষ্য অর্জনের কাছাকাছি পৌঁছানো গেছে, তবুও তার প্রশাসন যুদ্ধের প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে। কংগ্রেসের কাছে ২০০ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত যুদ্ধ তহবিল চাওয়ার পাশাপাশি নতুন সামরিক শক্তি মোতায়েন করা হচ্ছে। সম্প্রতি প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চল থেকে ২৫০০ মেরিন সেনা বহনকারী উভচর যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। তারা ওই অঞ্চলে ইতিমধ্যে অবস্থান করা ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনার সঙ্গে যোগ দেবে। ট্রাম্প বলেছেন, আপাতত তিনি ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন না, তবে প্রয়োজনে সব ধরনের বিকল্প খোলা রয়েছে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি শুক্রবার বলেন, ইরান তার শত্রুদের ওপর ‘মাথা ঘুরিয়ে দেয়ার মতো আঘাত’ হেনেছে। নওরোজ উপলক্ষে ইরানি টেলিভিশনে পাঠ করা এক লিখিত বার্তায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই যুদ্ধ একটি বড় ভুল হিসাব। খামেনি ইরানের জনগণের দৃঢ়তার প্রশংসা করেন। উল্লেখ্য, ইসরাইলি হামলায় তার পিতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তিনি সর্বোচ্চ নেতা হন এবং এরপর থেকে তাকে প্রকাশ্যে খুব কমই দেখা গেছে।

Nayeem

২ মাস আগে

এটা ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর কূটকৌশল! অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, পুরো বিশ্বের জন্য হুমকি যুদ্ধবাজ ট্রাম্প ও শিশু হত্যাকারী নেতানিয়াহু ইরানে ভয়াবহ হামলা চালাবে। যদিও এখানে তাদের করুন পরিণতি অপেক্ষা করছে।

মন্তব্য করুন