ফুটবল বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা উদ্বোধনের মাত্র কয়েক দিন আগে মঙ্গলবার হাজারো বিক্ষোভকারী মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামের দিকে যাওয়ার প্রধান একটি সড়ক অবরোধ করেন। ফুটবলপ্রেমীরা যখন টুর্নামেন্টের যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় ভিড় জমাতে শুরু করেছেন, তখন মধ্য আমেরিকার এই দেশটির রাজধানী শিক্ষক বিক্ষোভের কারণে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
মঙ্গলবারের এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেয় শিক্ষকদের সংগঠন সিএনটিই-এর একটি বিচ্ছিন্ন অংশ। এটি এক সপ্তাহ ধরে চলা ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ। এ আন্দোলনকে প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম উসকানি হিসেবে অভিহিত করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মনে হচ্ছে তারা যেন বলতে চাইছে- দেখুন, মেক্সিকোর পরিস্থিতি কতটা খারাপ।
অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হওয়ার কথা। ওই ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও ম্যাচটি দেখার জন্য বিশ্বের কোটি কোটি দর্শক টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখবেন। তার আগে বিক্ষোভ ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ হাজারো পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে এবং স্টেডিয়াম ঘিরে কংক্রিটের প্রতিবন্ধক স্থাপন করেছে। বিক্ষোভকারী অ্যানজেল ভিলালোবোস বলেন, আমরা স্টেডিয়াম পর্যন্ত পেঁৗঁছাতে চাই। সরকার কিছু প্রস্তাব দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেগুলো আমাদের কোনো উপকারে আসছে না। আমাদের সন্তুষ্ট করতে পারছে না।
এর আগে প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম বলেন, উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজন নিশ্চিত। তবে বামপন্থী এই নেতা আবারও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, বিক্ষোভ দমনে তিনি পুলিশি শক্তি প্রয়োগের পক্ষে নন। তার সরকার আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনার পথ বেছে নিয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত তাতে কোনো ফল পাওয়া যায়নি। অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামের সামনে অবস্থান নেয়ার প্রস্তুতি নেয়া আরেক বিক্ষোভকারী অস্ট্রেবের্তো ফ্লোরেস বলেন, আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।
সিএনটিই শিক্ষকদের ইউনিয়ন গত সপ্তাহ থেকে ধর্মঘট পালন করছে। তারা বেতন বৃদ্ধি এবং পেনশন আইন বাতিলের দাবি জানিয়েছে। তবে সরকার মনে করছে, তাদের এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। শিক্ষকরা মেক্সিকো সিটির জোকালো স্কয়ারে বিশ্বকাপের ফ্যান জোনের কাছেও অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছেন। ১লা জুন ওই এলাকায় পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম বলেন, তারা এমন একটি ধারণা তৈরি করতে চাইছে যেন মেক্সিকো ভয়াবহ সামাজিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা তা নয়।
শিক্ষকরা বিশ্বকাপের খেলা উদ্বোধনের দিন বৃহস্পতিবার আরও বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন। এতে তথাকথিত নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরাও অংশ নেবেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব মানুষকে মেক্সিকান কর্তৃপক্ষ অথবা অপরাধী চক্র হত্যা করেছে কিংবা অপহরণ করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরের ২০২৬ সংস্করণটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে জটিল লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এদিকে বিশ্বকাপ শুরুর আগে মেক্সিকো এখনো তাদের পাতাল রেল স্টেশনগুলো এবং প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংস্কারকাজ শেষ করার জন্য তড়িঘড়ি করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
