জেগে উঠেছে শতাধিক ডুবোচর, বন্ধ বিভিন্ন চ্যানেল, ঈদযাত্রায় বিড়ম্বনা

ব্রহ্মপুত্রে নাব্য হ্রাস : নৌ-রুট ঝুঁকিপূর্ণ

জেগে উঠেছে শতাধিক ডুবোচর, বন্ধ বিভিন্ন চ্যানেল, ঈদযাত্রায় বিড়ম্বনা

ফন্ট সাইজ:

ভয়ঙ্কর রূপে নেই ব্রহ্মপুত্র, জেগে উঠেছে শত শত চর, নাব্য সৃষ্টির কারণে পরিবর্তন হয়েছে গতিপথ, নৌ-রুট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গতিপথ পরিবর্তনের সঙ্গে নাব্য’র কারণে ঈদ যাত্রীরাও পড়ছে বিড়ম্বনায়। যাত্রীদের গুনতে হতে পারে বাড়তি খরচ। জেলার নদ-নদীতে পানি কমে যাওয়ায় নদীর নাব্য ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। বিভিন্ন চ্যানেলের নাব্য হ্রাসের ফলে অসংখ্য ডুবোচরে অভ্যন্তরীণ নৌ-রুট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ না থাকায় যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী বেশি ওজনের নৌযান ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প পথ ব্যবহার করছে। বিশেষ করে নৈশ্যকালীন নৌযানগুলোকে পড়তে হচ্ছে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। এর ফলে জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি অতিরিক্ত সময়ও ব্যয় হচ্ছে। চিলমারী বন্দর থেকে রৌমারী, রাজিবপুর, বাহাদুরাবাদ ঘাট ও গাইবান্দা যাওয়ার পথে শতাধিক স্থানে ডুবোচর জেগে উঠায় নৌযানগুলো প্রায়ই চলাচল পথে আটকে যাচ্ছে। নাব্য’র কারণে প্রায় ৪ মাস থেকে বন্ধ হয়ে আছে ফেরি চলাচল।

জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার নিয়মিত যাত্রী ছাড়াও বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার হাজার হাজার যাত্রী ঈদের সময় এই নৌ-রুটকে বেছে নেয়। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে কর্মরত পেশাজীবী মানুষজন যানজট মুক্ত ও নিরাপদ রুট হিসেবে বেছে নেই এই নৌ রুটগুলো। ঈদের আগে ও পরে এই রুটে চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবস্থা করা হয় অতিরিক্ত নৌকাও। কিন্তু চলতি মৌসুমে ব্রহ্মপুত্রের পানি অস্বাভাবিক কমে যাওয়ায় নাব্য সৃষ্টির সঙ্গে শত শত ডুবোচরের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় হাজার হাজার যাত্রীরা পড়েছে বিড়ম্বনায়, বিপাকে পড়েছে নৌ-চালকরা। গুরুত্বপূর্ণ নৌ-রুটে ড্রেজিং না হওয়ায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক নৌ-রুট লাখ লাখ টাকা লোকসান গুনছে ইজারাদার, বাড়তি সুযোগ পেলেও বসে সময় পার করছে নৌকা চালক ও ঘাট কুলিরা।

ঈদের সময় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় বাড়তি সুবিধা ও কম খরচে পারাপার হওয়া থেকেও বঞ্চিত যাত্রীরা। সূত্র মতে, চিলমারী থেকে রৌমারী প্রতিদিন ৫টি নৌকা চলাচল করছে পানি কম থাকায় প্রায় ৪০ মিনিট সময় বেশি লাগছে পারাপারে, চিলমারী টু রাজিবপুর নিয়মিত ৩টি চলাচল থাকলেও নাব্যর কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে ঈদ উপলক্ষে চালু করা হয়, সেটিও দীর্ঘপথ ঘুরে আসতে বাড়তি সময় বেশি লাগছে প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা।

নাব্য সংকটের কারণে কত্তিমারীসহ বিভিন্ন রুটে নৌকা চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন চরের বাসিন্দাদের জন্য চলাচলের নৌকাগুলো চালু থাকলেও চলাচলে বাড়ছে ভোগান্তি। নৌকার মাঝি নুর ইসলাম, রাজিব, সাকিবসহ অনেকে জানান, বর্তমানে রাজিবপুর, তারাবর, শাখাহাতি, ভাটিয়ারচর, কড়াই বরিশাল, কর্তিমারী ও নালিতাখাতা এলাকায় নৌকা ডুবোচরে নিয়মিত আটকা পড়ছে। ফলে নৌকাচালক ও যাত্রীদের বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। তারা আরও জানান, ঈদে যাত্রী বেশি পারাপার হয় তাই বাড়তি টিপ দেয়া লাগে এ সময় আয়ও বেশি হয় কিন্তু এবারে নাব্যর কারণে বিভিন্ন রুট বন্ধ হওয়ায় সময় বেশি লাগছে খরচও বেশি পড়ছে।

নৌকা মালিকরা জানায়, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে ড্রেজিং এর ব্যবস্থা না থাকায় অসংখ্য ডুবোচর নদের গতিপথ পরিবর্তন এবং নৌরুট গুলোতে চর জেগে উঠায় নৌপথ ক্ষীণ হয়ে এসেছে। নাব্য রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি ও চর সৃষ্টির কারণে নাব্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। নাব্য সংকটের কথা স্বীকার করে চিলমারী নৌ-বন্দর পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্র বলেন, বিভিন্ন চ্যানেল বন্ধ হওয়ায় রৌমারী নৌ-রুট সচল থাকলেও বাকি রুটে সমস্যা হচ্ছে। নদীর তীরবর্তী স্থানীয়রা জানান, নদীর তলদেশে পলি, বালি জমে পানির গভীরতা কমে যাওয়ায় বিভিন্ন চ্যানেলে নৌযান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন