ঈদের আনন্দ নেই যেখানে

ঈদের আনন্দ নেই যেখানে

ফন্ট সাইজ:

সন্তানরা ঈদে নতুন জামা-কাপড় কিনে দেওয়ার জন্য কান্নাকাটি করছে। তাদের এ কান্না চেয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কারণ এখন কোনো আয় নেই। যার ফলে তিন বেলা ভাত খাওয়াই দায় হয়ে পড়েছে। যেখানে ভাত খেতেই দায়, সেখানে আবার ঈদ! এভাবেই নিজের অসহায়ত্বের কথা বলছিলেন ভোলার লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের বাতিরখাল এলাকার মেঘনা পাড়ের ৬০ বছর বয়সী জেলে মোসলেম মাঝি। দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর মেঘনা নদীতে মাছ ধরেই জীবন-জীবিকা তার। বর্তমানে মাছ শিকারে নদীতে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা চলায় জেলে মোসলেম মাঝির এমন করুণ দশা।

মোসলেম মাঝি বলেন, আমার সম্পদ বলতে কিছুই নেই। যার জন্য বছরের পর বছর ধরে ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের বাতিরখাল এলাকার মেঘনা নদীর বেড়িবাঁধের পাশের খাস জমিতে বাস করছি। বর্তমানে সংসারে স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। সংসারে অভাবের তাড়নায় বড় ছেলের বয়স খুব বেশি না হলেও সেও যায় নদীতে মাছ শিকারে। তবে এখন নিষেধাজ্ঞা চলায় সেও বেকার। দুই মেয়ে স্কুলে পড়ে। সামনে ঈদ। এই ঈদে ছেলে-মেয়েরা নতুন জামা-কাপড় কেনার জন্য কান্নাকাটি করছে। তাদের কীভাবে বুঝাবো যে নদীতে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা থাকায় আমার কোনো আয় নেই, সংসারের সবার মুখে ভাত তুলে দিতেই এখন চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে। জেলে কার্ড থাকলেও নিষেধাজ্ঞার আঠারো দিন পার হয়ে গেলেও এখনো সরকারি বরাদ্দের চাল পাইনি। মানুষের থেকে ধারদেনা করে কোনো রকমে দিন পার করছি। তাই সরকারি সহযোগিতা কামনা করছি। শুধু এই মোসলেম মাঝিই নন, তার মতো অভাব-অনটনে দিনপার করছেন লালমোহন উপজেলার হাজার হাজার জেলে।

মোবারক মাঝি ও আব্দুল মালেক মাঝি নামে বাতিরখাল এলাকার আরও দুই জেলে বলেন, নদীতে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা চলছে। আমরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে নদীতে মাছ শিকারে নামছি না। যার জন্য এখন আমরা পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে পড়েছি। নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে আমাদেরকে সহায়তা হিসেবে চাল দেয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা দেয়া হয়নি। এতে করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সংসার চালাতে ব্যাপক হিমশিম খেতে হচ্ছে। এরমধ্যে আবার সামনে ঈদ। সবার জন্য ঈদ আনন্দের হলেও আমাদের জন্য ঈদের দিনে বাড়তি কোনো আনন্দ নেই। আমাদের মতো প্রকৃত সব জেলে পরিবারে একই হাল।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, লালমোহনে নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ২৪ হাজার ৮০৬ জন। এসব জেলেরা উপজেলার ছোট বড় ২৭ টির মতো মৎস্যঘাট দিয়ে মেঘনা এবং তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ শিকার করেন। তবে ১ লা মার্চ থেকে জাটকা ইলিশ রক্ষায় ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সরকারিভাবে নদীতে মাছ শিকারে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকায় এই উপজেলার জেলেরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমেদ আখন্দ বলেন, জেলেদের চাল পাওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সকল কিছু বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যানরা চাল বিতরণ করতে এখন গরিমশি করছেন। তবুও ঈদের আগেই যেন জেলেরা তাদের বরাদ্দের চাল পান সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

Mohsin

২ মাস আগে

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেখেছি মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা দিলে যে কয়েক সপ্তাহ মাছ ধরা বন্ধ থাকিবে সরকার তাৎক্ষণিক জরুরি ভিত্তিতে সব জেলে পরিবারের জন্য রেশন বন্টন করে থাকে তাই বর্তমান নবাগত সরকারের মৎস্য মন্ত্রী মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষন করছি সেই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

মন্তব্য করুন