যানজটের সেই চিরচেনা দৃশ্য নেই নীরব ফেরিঘাট

সরজমিন পাটুরিয়া

যানজটের সেই চিরচেনা দৃশ্য নেই নীরব ফেরিঘাট

ফন্ট সাইজ:

একসময় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অত্যন্ত ব্যস্ততম নৌপথ ছিল পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাট। যেখানে ঈদ এলেই ভয়াবহ যানজট আর যাত্রী ভোগান্তির নির্মম দৃশ্য দেখা যেত। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটেই পড়ে থাকতে হতো, কখন ফেরিতে উঠবে সেই আশায়। এমনকি যানজটের রোষানলে পড়ে ঈদের নামাজও আদায় করতে হয়েছে পাটুরিয়া ঘাটে। কিন্তু সেই চিরচেনা দৃশ্য নেই গেল কয়েক বছর ধরেই। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকেই পাটুরিয়া দৌলতদিয়া নৌপথ অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। যেখানে ফেরিতে উঠতে পারা যাত্রীদের কাছে সোনার হরিণ হয়ে উঠলেও এখন ফেরিঘাট অপেক্ষা করে কখন যাত্রী এবং যানবাহন আসবে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকেই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষের কাছে পাটুরিয়া দৌলতদিয়া নৌ রুটের গুরুত্ব নেই।

যার কারণে ফেরি সেক্টরে সরকারের রাজস্ব আগের তুলনায় অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। সরজমিন দেখা যায়, তিনটি ফেরিঘাট অনেকটাই নীরব। ঈদের মাঝখানে একদিন বাকি থাকলেও কোনো ধরনের কোলাহল নেই পাটুরিয়া ঘাটে। দূরপাল্লার যানবাহনগুলোর অভাবে প্রত্যেকটা ফেরিতে যাত্রী পারাপার হচ্ছে বেশি। সঙ্গে মোটরসাইকেলের বহর আর প্রাইভেট ও মাইক্রোবাস পার হচ্ছে। দূরপাল্লার পরিবহন ১৫-২০টি করে ঘণ্টাখানেক পর পর ঘাটে জড়ো হলেও কোনো ধরনের বিড়ম্বনা ছাড়াই স্বস্তিতে ফেরি পারাপার হচ্ছে। গাবতলী থেকে লোকাল বাসে যাত্রীরা পাটুরিয়া ঘাটে নেমে কেউ লঞ্চ আবার কেউ ফেরিতে উঠে যাচ্ছেন যে যার গন্তব্যে। যার কারণে লঞ্চঘাটে যাত্রীদের দেখা মিললে ফেরিতে যাত্রী পার হচ্ছে অনেকটাই কম। পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়া ঘাটের নৌপথের দূরত্ব তিন কিলোমিটারের উপরে। তাই যাত্রীরা অল্প সময়ে পারাপারের জন্য লঞ্চ ব্যবহার করছে বেশি। সর্বশেষ বেলা ১২টার দিকে যাত্রী ও যানবাহন কিছুটা বাড়লেও যাত্রীরা স্বস্তিতেই ফেরি ও লঞ্চ পারাপার হচ্ছেন। কথা হয় দেশে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলার যাত্রীদের সঙ্গে। যশোরের যাত্রী তুহিন মিয়া জানান, গাবতলী থেকে লোকাল বাসে পরিবারের চার সদস্য নিয়ে গ্রামে ঈদ করতে যাচ্ছি। সড়ক পথ ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক এবং পাটুরিয়া ঘাটে এসে কোনো ধরনের বিড়ম্বনা ছাড়াই ফেরিতে উঠতে পারলাম। অথচ আজ থেকে কয়েক বছর আগেও এই পাটুরিয়া ঘাট পাড়ি দিতে ১০ ঘণ্টাও বসে থাকতে হয়েছে। আলফাডাঙ্গা এলাকার গার্মেন্টসকর্মী সকিনা বেগম বলেন, এখন আর পাটুরিয়া ঘাটে এসে ফেরির জন্য বসে থাকতে হয় না। ফেরিই বসে থাকে আমাদের মতো যাত্রীদের জন্য। আগে ঘাটের ব্যবস্থাপনা ভালো ছিল না। এবার ঈদে অনেকটাই ভালো। যার কারণে ঘাটে এসে কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি। ফরিদপুরের একজন সরকারি কর্মকর্তা জানান, আগে ফেরি ঘাটে অনেক অনিয়ম ছিল। এখন সেই অনিয়ম চোখে পড়ছে না। আমরা যাত্রীরা স্বস্তিতেই পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ছুটে যাচ্ছি। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে যানবাহন ও যাত্রী কমে গেছে অনেক। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া দ্বিতীয় পদ্মা সেতু হলে আমাদের আর নৌযানের প্রয়োজন হবে না।
বিআইডব্লিউটিসি’র আরিচা অঞ্চলের উপ-মহাব্যবস্থাপক আব্দুস সালাম বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে স্বাভাবিক সময়ে যানবাহন পারাপার অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফেরি খাতে সরকারি রাজস্ব অর্ধেকে। ঈদের কারণে যানবাহনের চাপ কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে কোনো ধরনের দুর্ভোগ নেই। মোট ১৭টি ফেরি দিয়ে চাকরি ও যানবাহন পারাপার হচ্ছে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত ঘাটে যানবাহন ও যাত্রীর তেমন চাপ ছিল না। তবে যানবাহন এবং যাত্রীর চাপ বাড়লেও পর্যাপ্ত সংখ্যক ফেরি থাকায় বাড়তি কোনো সমস্যা হবে না। অতিরিক্ত চাপ যদি দেখাও দেয় তা সামাল দিতে সব প্রস্তুতি বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষের রয়েছে। এদিকে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কেও যানবাহনের চাপ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কম দেখা গেছে। দূরপাল্লার পরিবহন এই রোডে কম দেখা গেলেও গাবতলী থেকে ফিরে আসা লোকাল পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে শুরু করে। তবে বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ছিল স্বস্তির।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন