ময়মনসিংহে মাউশি হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

ময়মনসিংহে মাউশি হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

আমিনুর। ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজলার চরআলগী ইউনিয়নের চরআলগী গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে। চাকরি করেন ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অফিসে হিসাবরক্ষক হিসেবে। দুর্নীতির মাধ্যমে বনে গেছেন বিপুল সম্পদের মালিক। ময়মনসিংহ নগরীতে রয়েছে তার অর্থশতকোটি টাকার সম্পত্তি। হিসাবরক্ষক হয়ে করছেন বিলাসী জীবনযাপন। তৈরি করেছেন ঘুষের টাকার পাহাড়। যার চূড়ায় তার বসবাস। তবে তিনি ‘গভীর জলের মাছ’। অধিকাংশ সম্পদই গড়েছেন স্ত্রী, শ্বশুর ও আত্মীয়-স্বজনের নামে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিাষ্ঠানের শিক্ষকরা বলছেন, এসব সম্পত্তি আমাদের টাকায় কেনা। আমিনুরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, আমিনুর একজন সুবিধাবাদি। যেদিকে বৃষ্টি আসে সেদিকেই ছাতা ধরেন। আগে ছিলেন আওয়ামী লীগ। এখন বিএনপি’র কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
জানা যায়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ময়মনসিংহ অঞ্চলের ময়মনসিংহ অফিসে অনিয়ম-দুর্নীতি যেন ডাল-ভাত। সমপ্রতি ওই অফিসের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর রইছ উদ্দিন শ্যামল বাবুর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়টি চাউর হয়। বাবু ও তার স্ত্রীর নামে কমিশন বরাবর চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ময়মনসিংহ কার্যালয়। এরপর আলোচনায় এসেছে হিসাবরক্ষক আমিনুরের দুর্নীতির বিষয়টি। এ যেন রক্ষকই ভক্ষক। এক শিক্ষক বলেন, আমিনুর ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এমপিওভুক্তির ফাইল নয়/ছয় করে টাকার পাহাড় গড়ে তোলেন। এক সে সময় যে উপজেলায় কাজ করতেন সেই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সবকিছু তার নিয়ন্ত্রণে চলতো। এরপর ঘুষ দিয়ে জেলায় চলে আসেন। আওয়ামী লীগের এমপি বাবেল গোলন্দাজের আস্থাভাজন হিসেবে ছিলেন তিনি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত অবস্থায় ঘুষ বাণিজ্য ও বিভিন্ন দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের অন্যতম নাম আমিনুর। শিক্ষক এমপিওভুক্তিকরণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে গড়ে তোলেন সম্পদের পাহাড়। সে সময়ে ঘুষ ও দুর্নীতির জন্য তার ছিল ভিন্ন এক পরিচিতি। এভাবেই বানিয়েছেন অর্থশত কোটি টাকার ঊর্ধ্বে অবৈধ সম্পদ। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা তাকে ম্যাজিকম্যান নামেই চেনেন।
সম্পত্তির তথ্য: নগরীর বলাশপুর মৌজায় ৮ দশমিক ৬৩ শতক জায়গায় কয়েক কোটি টাকায় গড়েছেন বিলাসবহুল বাড়ি। স্থানীয়রা জানান, জমিসহ এ বাড়ির আনুমানিক দাম কয়েক কোটি টাকা। চর ঈশ্বরদিয়া ৭৮ মৌজায় ৫৯ দশমিক ২০ শতক, গফরগাঁও উপজেলার চর কামারীয়া মৌজায় ২৩৭ শতক জমি রয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকে পরিবারের নামে রয়েছে কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র ও এফডিআর। এছাড়াও নগরীর কেওয়াটখালী এলাকায় ১ কাঠা জমির উপর আমিনুরের রয়েছে নিজস্ব একটি বাগানবাড়ী। স্থানীয়রা জানান, জমিসহ এ বাড়ির আনুমানিক দাম কয়েক কোটি টাকা। এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় হিসাবরক্ষক আমিনুরের সঙ্গে। কিন্তু মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘আমার অনেক পত্রিকার সম্পাদক আছে, আপনি ত একজন সাংবাদিক।’ মাউসি’র ময়মনসিংহ বিভাগীয় উপ পরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, হিসাবরক্ষক আমিনুরের সম্পদের বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। তবে কেউ যদি অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ করেন তাহলে বিষয়টি দেখবো।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন