অনতিবিলম্বে জনকণ্ঠের সাংবাদিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধের দাবি ডিআরইউ’র

অনতিবিলম্বে জনকণ্ঠের সাংবাদিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধের দাবি ডিআরইউ’র

ফন্ট সাইজ:

ঈদুল ফিতর আসন্ন তবুও এখনও দৈনিক জনকণ্ঠের সাংবাদিক ও কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন-ভাতা এবং ঈদ বোনাস পরিশোধ না করায় তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। একই সঙ্গে আজকের মধ্যে সমস্ত বেতন ভাতা পরিশোধ করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে সভাপতি আবু সালেহ আকন এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এ দাবি জানান। ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সংকট সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর আহ্বান জানান। তারা বলেন, ডিআরইউ ভালো করে জানে কিভাবে দাবি আদায় করতে হয়। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষের বাসভবন ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

গত ১৬ মার্চ (সোমবার) সকাল থেকে গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবার ভবনের সামনে দীর্ঘ ৯ মাসের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন পত্রিকাটির সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। জনকণ্ঠের সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, চলতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ এবং ১৫ মার্চের মধ্যে ঈদের বোনাস দেওয়ার কথা থাকলেও পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক শামীমা এ খান তা পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন। এর ফলে জনকণ্ঠে কর্মরত সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

আন্দোলনরত সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ায় জনকণ্ঠের কয়েক’শ সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বারবার পাওনা পরিশোধের নির্দিষ্ট তারিখ দেওয়ার পরও কর্তৃপক্ষ তা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা সাধারণ সংবাদকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাদের ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি ও সমাবেশ অব্যাহত থাকবে। বেতন সংকটের কারণে সৃষ্ট এই স্থবিরতায় পত্রিকাটির স্বাভাবিক প্রকাশনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের চেয়ারম্যান ও দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক শামীমা এ খান সব বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধ না করলে তার বাসভবন ঘেরাও করা হবে।

ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ বলেন, বিগত ৯ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ না করা এবং ঈদের পূর্বে বোনাস না দেওয়া শুধু অমানবিকই নয়, এটি শ্রমিক অধিকার ও ন্যায্যতার চরম লঙ্ঘন। বারবার সময়সীমা নির্ধারণ করে তা ভঙ্গ করা জনকন্ঠ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা ও উদাসীনতার সুস্পষ্ট প্রমাণ।

ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, আজ সন্ধ্যার মধ্যে আমাদের সহকর্মীদের সকল বকেয়া বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় ডিআরইউ সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর ও ধারাবাহিক কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে, কর্মসূচি রাজপথে গড়াবে এবং দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন